আজব দুনিয়া

অদ্ভুত কাণ্ড! বাসায় আচমকাই ঘুরে যাচ্ছে ফ্রিজ, উল্টে যাচ্ছে টেবিল: আতঙ্কে রাতের ঘুম হারাম

অদ্ভুত সব কাণ্ড! আচমকা দেওয়াল থেকে ঘড়িটা খসে পড়ল মাটিতে৷ হঠাৎ জানালার কাচটা ভেঙে পড়ল৷ কখনও আবার ঘরের ভিতর টিভি, ডাইনিং টেবিল নিজে থেকেই উল্টে পড়ে গেল৷ ফ্রিজটা হঠাৎ নিজে থেকেই ঘুরে গেল উল্টোদিকে৷ দরজার খিল খুলে সিঁড়ি ঘরের কাচে ছুড়ে মারল কে?
গত কয়েকদিন ধরে ভারতের উত্তর দমদম পুরসভার উত্তর নীলাচল এলাকার মজুমদার বাড়িতে এমন সব ভৌতিক ঘটনা ঘটেই চলেছে৷ শুরু হয়েছে ১৩ নভেম্বর থেকে৷ দিনে দিনে বাড়ছে উপদ্রব। প্রথম প্রথম দিনে একবার কী দু’বার উপদ্রব হত। তবে শুক্রবার দুপুর থেকে লাগাতার তাণ্ডব চলেছে মজুমদার বাড়িতে৷ আতঙ্কে রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে বাড়ির প্রত্যেকের৷ কিন্তু কীভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে এই ঘটনাগুলিকে৷ মজুমদার বাড়ির এই অদ্ভুত ঘটনাগুলির পিছনে কে? ভূত? না কি অন্য কিছু?

বাড়ির কর্তা মনোতোষ মজুমদার তাঁর ছেলে, বউমা ও নাতিকে নিয়ে এই বাড়িতে থাকেন৷ মনোতোষবাবুর ছেলে মানসবাবু জানিয়েছেন, আগে কখনও এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি বাড়িতে৷ কালীপুজোর পরে একদিন কে যেন ছাদে রাখা সমস্ত ফুলের টব ফেলে ভেঙে দিয়েছিল৷ তখন তাঁরা ভেবেছিলেন কোনও জন্তু হয়তো এই কাজ করেছে৷ তবে ১৩ নভেম্বর থেকে ঘরের ভিতর উপদ্রব শুরু হয়৷

মানসবাবু বলেন, “হঠাৎ সেদিন ঘরের জিনিসপত্র ভাঙা শুরু হয়৷ একদিন দুপুরে আমি কাজ থেকে বাড়ি ফেরার পর আমার হেলমেটটি কে যেন টিউবলাইটে ছুড়ে সেটি ভেঙে ফেলে৷ বাড়িতে দুটি খরগোশ ছিল৷ প্রথমে খরগোশগুলিকে কামড় দেয়৷ অদ্ভুতরকম দু’টি দাঁতের চিহ্নদেখা যায় খরগোশের গায়ে৷ পরে খরগোশের খাঁচায় তালা দেওয়া হলে খাঁচা সমেত ছুড়ে ফেলে দেয়৷”

মানসবাবুর স্ত্রী রঞ্জনাদেবী বলেন, “কখনও আলনা ফেলে দিচ্ছে, কখনও টিভির টেবিল সমেত উল্টে দিচ্ছে৷” এ দিন মজুমদার বাড়িতে গেলে দেখা যায়, বাড়ির কোনও জানলার কাচ অক্ষত নেই৷ সব ক’টি ভাঙা৷ নিচের তলার দু’টি ঘর একেবারে লন্ডভন্ড করা৷ ঘরের সমস্ত আয়না ভাঙা৷ সমস্ত আসবাবপত্র তছনছ করা অবস্থায় পড়ে রয়েছে৷ ঘরে ঢুকতেই মানসবাবু বললেন, “আপনারা ঢোকার সময়ই ফ্রিজটা নিজে থেকে উল্টোদিকে ঘুরে গেল৷”

শুক্রবার থেকে উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার পর মানসবাবুর এক আত্মীয় বিজ্ঞান চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন৷ ভৌতিক ব্যাপার শুনে এলাকার সমস্ত মানুষ এ দিন মজুমদার বাড়ির সামনে ভিড় জমান৷ পুলিশকেও খবর দেওয়া হয়৷ বিশরপাড়া বিজ্ঞান চক্রের সম্পাদক সুশীলকুমার বিশ্বাস এদিন মজুমদার বাড়ি ঘুরে দেখেন৷ তাঁর মতে, “এই বাড়িতে ভৌতিক কোনও ব্যাপার নেই৷ যা ঘটছে বা ঘটেছে সবই ‘ম্যান মেড’৷

এত কাণ্ড ঘটলেও মজুমদার পরিবারের এই ভৌতিক ঘটনা মানতে নারাজ প্রতিবেশীরা৷ নাম প্রকাশ না করতে চেয়ে এক প্রতিবেশী বলেন, “টিভিতে একটি গোয়েন্দা কাহিনিতে কয়েকদিন আগে দেখিয়েছে, এই ধরনের ভৌতিক কাণ্ড সাজিয়ে সমস্ত সম্পত্তি হাতানোর ফন্দি এঁটেছিল বাড়ির লোকেরাই৷”

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, মনোতোষবাবুর বাড়ির পিছনে একটি পুকুর আছে৷ সেই পুকুরটি বোজানোর চেষ্টা চলছে অনেকদিন ধরেই৷ এই ঘটনার সঙ্গে ওই পুকুর বোজানোর কোনও সম্পর্ক থাকতে পারে বলে মত অনেকের। এবেলা


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন