সাহিত্য

সাহিত্যচর্চাকে সাধনা মনে করছি: দীপংকর দীপক

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় নাট্যকার, আবৃত্তিকার ও সাংবাদিক দীপংকর দীপকের দুটি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। এগুলো হচ্ছে, ‘কালচক্র’ (কাব্যগ্রন্থ) ও ‘প্রহেলিকা’ (গল্প সংকলন)। বইমেলা ও লেখালেখি নিয়ে কথা বললেন তিনি।

নতুন বই দুটি নিয়ে বলুন-
‘কালচক্র’ গ্রন্থটিতে শতাধিক কবিতা রয়েছে। এসব কবিতায় প্রকৃতিবাদ, কর্মবাদ, সময়ের মূল্যবোধ, মানবমনের দুঃখবোধ, স্বদেশপ্রেম, মানবপ্রেম, মৃত্যুভাবনাসহ গবেষণামূলক নানা বিষয় উঠে এসেছে। অন্যদিকে ১০টি গল্প নিয়ে ‘প্রহেলিকা’ গ্রন্থটি সাজানো হয়েছে। এসব গল্পে ধর্মনিরপেক্ষতা, নারী স্বাধীনতা, জীবনমুখী সংগ্রাম, প্রথাবিরোধী মনোভাব, শ্রেণিচেতনা ও সমাজ বাস্তবতা জীবন্ত উপাদান হয়ে পরিস্ফুটিত হয়েছে। সবমিলিয়ে দুটি বইয়েই মানবতার কথা বলা হয়েছে। ‘কালচক্র’ গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে কলি প্রকাশনী। স্টল নং- ৩৬৭ ও ৩৬৮। অন্যদিকে ‘প্রহেলিকা’ প্রকাশ করেছে মিজান পাবলিশার্স। স্টল নং- ৩৯০, ৩৯১ ও ৩৯২।

বই দুটি নিয়ে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
৩ ফেব্রুয়ারি ঢাবির আবৃত্তি সংগঠন ‘সংবৃতা’র আয়োজনে জমকালোভাবে ‘কালচক্র’ গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত আবৃত্তিশিল্পীরা আমার অধিকাংশ কবিতার প্রশংসা করেন। তাদের অনেকেই মেলা থেকে বইটি সংগ্রহ করেছেন। ‘প্রহেলিকা’ বইটিও ভালো যাচ্ছে। বন্ধু-বান্ধব ও শুভকাঙ্খিরাও বই দুটি পড়ে তাদের নিজ নিজ অভিমত জানাচ্ছেন। অনেকে স্বপ্রণোদিত হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বই দুটির প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। গত সপ্তাহে বইমেলা খুব একটা জমেনি। তবে চলতি সপ্তাহে পাঠকদের আনাগোনা বেড়েছে। তাই ক্রমশ বই বিক্রিও বাড়ছে।

কত সাল থেকে বই প্রকাশ হচ্ছে?
২০০৯ সাল থেকে আমার বই প্রকাশ হচ্ছে। আমার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘নিষিদ্ধ যৌবন’। এটি অঙ্কুর প্রকাশনী প্রকাশ করে। পরবর্তিতে এর নাম ‘নিষিদ্ধ যৌবন- প্রথম খ-’ রাখা হয়। কাব্য ধারার ভিন্নতার কারণে বইটি পাঠকদের নজর কাড়ে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে মিজান পাবলিশার্স থেকে এর সিক্যুয়াল গ্রন্থ ‘নিষিদ্ধ যৌবনÑ দ্বিতীয় খ-’ প্রকাশিত হয়। এ পর্যন্ত আমার প্রায় ১০ টি বই প্রকাশিত হয়েছে। অন্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘বুনো কন্যা’, ‘নাস্তিকের অপমৃত্যু’, ‘ঈশ^রের সঙ্গে লড়াই’ প্রভৃতি।

ব্যক্তিজীবন সম্পর্কে জানতে চাই
আমার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায়। কৈশোরেই আমার লেখালেখিতে হাতেখড়ি হয়েছে। স্কুল ম্যাগাজিনসহ বিভিন্ন সংগঠনের ম্যাগাজিনে আমার লেখা বেশ প্রশংসিত হয়েছে। সেই অনুপ্রেরণা থেকেই সাহিত্যচর্চাকে সাধনা মনে করছি। আমি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করার পর বাংলা সাহিত্যে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেছি। লেখালেখিকে সচল রাখতেই ছাত্রাবস্থা থেকে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি। বর্তমানে জাতীয় দৈনিক যায়যায়দিনে সহ-সম্পাদক হিসেবে কর্মরত রয়েছি। এর আগে দৈনিক আলোকিত সময়, দৈনিক সমকাল, সাপ্তাহিক প্রতিচিত্র ও সাপ্তাহিক সূর্যোদয়ে সাংবাদিকতা করেছি। তাছাড়া কিছুদিন আরটিভিতেও কাজ করেছি।

সাহিত্যচর্চা নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?
বাংলা ভাষার মাধুর্যতায় আসক্ত হয়ে কাব্যচর্চা করছি। মনের পিপাসা নিবারণে গল্প লিখছি। আগামী বইমেলা উপলক্ষে একটি উপন্যাস লেখার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ নিয়ে একটি বই লিখছি। প্রকৃতপক্ষে সাহিত্যচর্চার বিষয়টি আমার রক্তের সঙ্গে মিশে রয়েছে। তাই আজীবন সাহিত্যসাধনা করে যেতে চাই।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন