মুক্তমতলাইফষ্টাইলস্বাস্থ্য

“শিশুর শাসন হোক ভালোবাসাময়

মুনমুন বড়ুয়া চৌধুরী : ভূমিষ্টকালীন ব্যক্তির প্রাথমিক রুপকে বলা হয় শিশু। তাছাড়া, সচরাচর যে ছেলে বা মেয়ের বয়স ১৮ বছরের নিচে অবস্থান করছে সে শিশু হিসেবে চিহ্নিত। কেননা, এ সময় তাদের মন থাকে পরিনির্মল ও কোমল প্রকৃতির। যেখানে কোনো পাপের ছোঁয়ার ছায়া পরে নি। বিজ্ঞজনেরা বলে থাকেন যে, শুচিতার মূর্ত প্রতীক শুভপ্রাণ শিশুরাই ধরার বুকে নিয়ে আসে নন্দনের সংবাদ। একটি শিশু জন্মের পর তার মা-বাবা শিশুর বেড়ে উঠাকে সুন্দররুপে সুগম করতে চেষ্টার ত্রুটি রাখে না। এজন্য, তারা তাদের সন্তানের জন্য যেটা ভালো হবে সেটা সব্বোর্চ চেষ্টা করে পূরণ করে থাকে। ভালো মা-বাবার এই এক প্রধান বৈশিষ্ট্য।

সন্তান বড় হবার সাথে সাথে তাকে নিয়ম-কানুন, দ্বায়িত্ববোধ, পারস্পরিক সুসম্পর্ক তৈরী করার মন মানসিকতাসহ বিভিন্ন আচার আচরণ শেখানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া, ভালো মন্দের পার্থক্য নির্ধারণ করে, ভালোকে গ্রহণ ও খারাপবে বর্জন করার শিক্ষা প্রদান করতে হবে। এজন্য। অনেক মা-বাবাই তাদের সন্তানকে নিয়স কানুন শেখানোর জন্য বিভিন্ন রকম করে শাসন করে থাকেন। কখনও মানসিক, আবার কখনও শারিরীক। শিশুর নিয়ম কানুন শেখা দরকার এবং সুশৃঙ্খল ভাবে চলা উচিত। এটা শিশুকে শিখবে পরিবার থেকে। আর, এই শেখার জন্য তাকে কঠোর শাস্তি পেতে হবে কেনো? কোমল মনের এই শিশুদের শেখাতে হবে ভালোবেসে। শিশুদের যত আদর যত্নে আর ভালোবেসে নিয়ম কানুন শেখাবেন, শিশুর বেড়ে উঠা ততই সুন্দর হবে। অনেক বাবা মা বা পরিবারেরর বড় জনেরা বলে থাকে,
“আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন আমরা অনেক মার খেয়েছি। কেননা, মার ছাড়া নিয়ম কানুন শেখানো যায় না”

বাস্তবিক পক্ষে, শিশুনে মেরে, বকে বা অন্যকোনো কঠোর শাস্তি দিয়ে ভালো-মন্দ শেখানো সম্ভব না। কারণ, মার, বকা, শাস্তি এসব শিশুর মনে চরম ভীতির সৃষ্টি করে, যা পরবর্তীতে ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। তাছাড়া, শিশুকে ভালোভাবে সুশৃঙ্খল নিয়ম কানুন শেখানোর জন্য শিশুর মনোভাববে বুঝতে হবে। কারণ, সব শিশুকে একই উপায়ে শাসন করা যায় না।
শিশুর মধ্যে ভালো অভ্যাস তৈরী করার জন্য এবং তাকে নিয়ম শৃঙ্খলা শেখানোর জন্য সর্বপ্রথম পরিবারের সকলের আচরনকে সুন্দর ও শৃঙ্খলাপূর্ণ হতে হবে। কেননা, শিশুরা পরিবারের বড়দেরকে অনুকরণ করে সবার আগে । তাই, শিশুকে শেখানোর আগে প্রথমে খেয়াল রাখতে হবে নিজেদের ব্যবহারের কোনো পরিবর্তন আনতে হবে কিনা। মা-বাবা যদি দিনের পর দিন শিশুর সামনে ঝগড়া বা উগ্রভাবে মনোভাব পোষণ নরে, তাহলে শিশুকে যতই শাসন বা শাস্তি প্রদান করা হোক না কেনো শিশু উগো মেজাজের অধিকরী হবে। একটি শিশু তখনই ভালো মানুষ হিসেবে তৈরী হবে যখন তার পরিবারের মানুষরা তার সাথে বন্ধুর মতন মিশবে, পরিবারের মানুষদের দ্ব্যর্থময় আচরণ তাকে সুন্দর আচার আচরণ শেখাতে বাঁধা সৃষ্টি করে। কারন, আমরা সবাই জানি যে পরিবার হলো শিশুর প্রধান প্রাথমিক বিদ্যালয়। পরিরারে সকলের কথা বার্তা যত সুন্দর ও সাবলীল হবে, শিশুর কথা বলা ততই নিমর্ল হবে। পরিবারের মানুষেরা যতটা গুরুত্ব দিয়ে দ্বায়িত্ববোধক কাজ সম্পাদন করবে (যেমন – রুম থেকে বের হবার সময় আলো, ফ্যান নিভিয়ে বের হওয়া, টেবিলে পানি পরলে তা মুছে দেওয়া, কাপড় ভাজঁ করে রাখা, পড়ার টেবিল গুছিয়ে রাখা, গাছে পানি দেওয়া ইত্যাদি) শিশুরাও ঠিক বড়দের অনুকরণ করে এসব দ্বায়িত্ববোধ কাজ শিখতে পারবে। ছোট ছোট দ্বায়িত্বপালন করতে করতে তারা একসময় বড় দ্বায়িত্ব পালনে আগ্রহী হবে। সাথে সাথে তারা নিষ্ঠতাও শিখবে । সবচেয়ে বড় কথা হলো শিশুকে নিয়ম কানুন শেখানোর জন্য কোনো প্রকার মার বা শাস্তির প্রয়োজন পড়ে না। ছোটরা তো ভুল করবেই। ভুল আর দোষ দুটি আলাদা বিষয়। তাদের ভুলকে যদি দোষ মনে করা হয় এবং তাদেরকে যদি শাস্তি প্রদান করা হয়, তাহলে শিশুরা এই ভুল থেকে শুধরাবে না বরং দোষ করাটাই শিখবে।

জাতিসংঘ ঘোষিত শিশু অধিকার সনদের মূল কথা হচ্ছে, শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য চাই নিরাপদ পরিবেশ, চাই তার সকল ধরনের সুরক্ষার ব্যবস্থা, তার চাই খাদ্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা, চাই পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও সেবা, চাই উপযুক্ত শিক্ষা। এক কথায়, শিশুকে উপযুক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য চাই অনুকূল পরিবেশ। তাই, শিশুর শাসন হতে হবে ভালেবাসাময়। তবেই তো সুন্দর দেশ গঠনে অঙ্গীকার ভূমিকা রাখতে সক্ষস হবে শিশুরা।

 

জেড/আর


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন