মুক্তমতশিক্ষা-ক্যাম্পাসসারাদেশ

হুমকীর সম্মুখীন, আমাদের সেন্টমার্টিন

এ.এস.এম. ইব্রাহীম সাজ্জাত : টেকনাফ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের ইউনিয়ন এবং একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। সেন্টমার্টিন দ্বীপ তার নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের জন্য দেশি বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণকেন্দ্রে রয়েছে। ৫.৯ বর্গকিলোমিটার মূল ভূখন্ডের এই দ্বীপে স্থানীয় জনবসতির সংখ্যা প্রায় ৮০০০ জন। ১৯৮০ সালের দিকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে মানববসতি শুরু হয়।

১৯৯৯ সালে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ (ইসিএ) হিসেবে ঘোষিত এই দ্বীপের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এর বনবিদ্যার তৃতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা এই বছরের মার্চ মাসে সেন্টমার্টিন পরিদর্শনে যায়। তাদের সাথে ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশবিদ্যা অনুষদের অধ্যাপক আক্তার হোসেন স্যার এবং সহকারী অধ্যাপক আক্তার হোসাইন স্যার।

সরেজমিনে দেখা যায় সেন্টমার্টিন দ্বীপে অবাধে চলছে পরিবেশের জন্য হূমকীস্বরূপ কার্যাবলী। টেকনাফ থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজ সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভেড়ার পর শুরু হয় পানিতে বোতল এবং বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক ছোড়ার মহৌৎসব। সেন্টমার্টিন দ্বীপে ১৫১ প্রজাতির জলজ শৈবাল সহ প্রায় ১৭১ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ প্রজাতি এবং ২৫০ এরও বেশি জলজ প্রাণীর জন্য এই প্লাস্টিক অত্যন্ত ক্ষতিকর।

শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্রকাশ্যে প্রবাল বিক্রি করতে দেখা যায়। প্রবাল সামুদ্রিক জোয়ার এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় প্রাথমিক স্তরের সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে। এক হিসেবে দেখা যায়, গত ৭ বছরে সেন্টমার্টিন দ্বীপ তার মোট প্রবালের শতকরা ২৫ ভাগ হারিয়েছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে দ্বিতীয় স্তরের সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে কেয়া উদ্ভিদ অথচ নতুন নতুন হোটেল বা রিসোর্ট করার জন্য কেটে ফেলা হচ্ছে এই কেয়া উদ্ভিদ।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের দৈনিক গড় পর্যটক ধারণক্ষমতা ৩০০০-৫০০০ হলেও পর্যটন মৌসুমে দৈনিক প্রায় ১৫০০০ পর্যটক দ্বীপটিতে ভ্রমণ করে। ধারণক্ষমতার তুলনায় এই বিশাল সংখ্যার পর্যটকের পানির চাহিদা মিটাতে গিয়ে দ্রুত নেমে যাচ্ছে পানির স্তর, পানিতে পাওয়া যাচ্ছে E. Coli ব্যাক্টেরিয়া।

সবমিলিয়ে হারিয়ে যেতে বসেছে সাগরকন্যা সেন্টমার্টিন দ্বীপ এবং তার জীববৈচিত্র। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ১০-১৫ বছর পর সেন্টমার্টিন দ্বীপ হয়ৎবা পরিণত হবে একটা পরিত্যক্ত দ্বীপে।

এসব সমস্যা থেকে উত্তরণে উচিৎ পর্যটক এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা, প্রয়োজনে সেন্টমার্টিন দ্বীপ তার প্রাকৃতিক অবস্থা ফিরে পেতে কয়েক বছরের জন্য পর্যটন বন্ধ রাখা যেতে পারে।

তাই, নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অধিকারী সেন্টমার্টিন দ্বীপকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণে প্রশাসনের এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ। না হলে আমরা হারিয়ে ফেলতে হবে অপরূপা সেন্টমার্টিন দ্বীপটিকে।

লেখক : এ. এস. এম. ইব্রাহীম সাজ্জাত, বনবিদ্যা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

 

জেড/আর


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন