সারাদেশ

কিশোরগঞ্জ ভৈরবের কালিকাপ্রাসাদ ইউনিউন চেয়ারম্যানের অভিযোগ

ভৈরব প্রতিনিধি।।

কিশোরগঞ্জ ভৈরব উপজেলার ৫নং কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফুল মিয়ার কর্তৃক প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ ও উক্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ ফারুক মিয়ার স্বাক্ষর জাল করে বিসিক এলাকার সম্পত্তির মালিগণকে টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে ওয়ারিশ সনদ প্রদানের ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেন উক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফারুক মিয়া। উক্ত অভিযোগে তিনি বলেন, ইউপি সদস্য ফুল মিয়া একজন প্রতারক। ভৈরব উপজেলার ৫নং কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টি আর) সংক্রান্ত প্রকল্প কালিকাপ্রসাদ ওয়াহেদ মিয়ার বাড়ি হতে কবরস্থানের রাস্তায় মাটি ভরাটে প্রকল্পের সভাপতি ফুল মিয়া রাস্তায় ও কবরস্থানের রাস্তায় মাটি ভরাট না করেই প্রতারণামূলকভাবে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেছে। এছাড়া ৫নং কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের একটি এলাকা সরকার বিসিক শিল্পনগরী হিসেবে ঘোষনা প্রদান করা হয়েছে।জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করেছেন। ইউপি সদস্য ফুল মিয়া আমার স্বাক্ষর জাল করে বিসিক এলাকার সম্পত্তি মালিকগণকে ওয়ারিশ সনদ প্রদান করে লক্ষ লক্ষ টাকা জনগণের নিকট হতে প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎ করেছে। সে ৫নং কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্যাট তৈরী করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে বিসিক এলাকার সম্পত্তির মালিকগণকে অধিগ্রণের টাকা উত্তোলনের জন্য অনৈতিকভাবে ওয়ারিশ সনদ প্রদান করছে। এছাড়া গত তিন মাস যাবত ইউনিয়ন পরিষদের মাসিক সভায় অনুপস্থিতও ছিলেন।
এদিকে, ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া কর্তৃক প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ ও ঘুষ-দুর্নীতির উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাররে একটি লিখিত অভিযোগ ঐ ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ মজিবুর রহমান, তিনি তার লিখিত অভিযোগে বলেন, আমি ৫নং কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন পরিষদের ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষাণা-বেক্ষণ (টিআর) সংক্রান্ত গাজীরটেক পাক্কার মাথা হতে আজিজ মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় মাটি ভরাট প্রকল্পের সেক্রেটারী। ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া ৫নং কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন পরিষদের ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষাণা-বেক্ষণ (টিআর) সংক্রান্ত গাজীরটেক পাক্কার মাথা হতে আজিজ মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় মাটি ভরাট প্রকল্পের সভাপতি বাচ্চু মিয়া। রাস্তায় কোন মাটি ভরাট না করেই এবং আমার স্বাক্ষর জাল করে প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করেছে। প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎ করেছে বাচ্চু মিয়া। এছাড়াও বিজিডি কার্ড প্রদান করবে বলে সামসুন্নাহার, স্বামী-রেনু মিয়া,গ্রাম-কালিকাপ্রসাদ আদর্শপাড়া এর নিকট হতে ঘুষ হিসেবে ২,০০০/- (দুই হাজার) টাকা গ্রহণ করে। কিন্তু বাচ্চু মিয়া সামসুন্নাহারকে বিজিডি কার্ড প্রদান করেনি। গরীব মহিলা ঘটনার বিষয়ে ৫নং কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ফারুক মিয়ার নিকট বিচার প্রার্থনা করলে তিনি সদয় হয়ে সামসুন্নাহারকে একটি বিজিডি কার্ড প্রদান করেন। ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া বিধবা কার্ড প্রদান করবে বলে মিনার মা, স্বামী-মৃত তারা,গ্রাম-কালিকাপ্রসাদ আদর্শপাড়া এর নিকট হতে ১,৫০০/- (এক হাজার পাঁচশত) টাকা ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করে এবং তাকে কোন কার্ড প্রদান করেনি। ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়া, মোঃ শাহজালাল, পিতা-মৃত সুরুজ মিয়া,গ্রাম-কালিকাপ্রসাদ আদর্শপাড়া,উপজেলা-ভৈরব,জেলা-কিশোরগঞ্জকে সেলাই মেশিন দিবে বলে ২,০০০/- (দুই হাজার) টাকা ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করে এবং তাকে সেলাই মেশিন প্রদান করেনি।
এছাড়াও ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল জালিয়াতি করে বিসিক এলাকার সম্পত্তির মালিগণকে টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে ওয়ারিশ সনদ প্রদানের উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেন ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফারুক মিয়া এবং ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারের জন্য ডেকেরচর বাজার হতে হেকিম মিয়ার বাড়ী পর্যন্ত রাস্তায় মাঠি ভরাট এবং চরেরকান্দা জামাল মিয়ার বাড়ি হতে রইছ মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় মাঠি ভরাট সংক্রান্ত প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য আঃ লতিফ এবং প্রকল্পের সেক্রেটারী ইউপি সদস্য উক্ত প্রকল্পের কোথাও মাটি ভরাট না করেই প্রতারণামূলকভাবে প্রকল্প দুইটির (১,৪৮,৩৯৪.৫০+১,০০,০০০) মোট-২,৪৮,৩৯৪.৫০/- (দুই লক্ষ আটচল্লিশ হাজার তিনশত চোরানব্বই দশমিক পন্চাশ পয়সা) টাকা আত্মসাৎ করেছে। এছাড়া ইউপি সদস্য আঃ লতিফ, ঐ ওয়ার্ডের সুলতানা বেগম,স্বামী-আহাম্মদ মিয়া,গ্রাম-কুমিরমারা এর নিকট হইতে বিজিডি কার্ড প্রদান করবে বলে ৩,০০০/- (তিন হাজার) টাকা ঘুষ গ্রহণ করে। ইউপি সদস্য আঃ লতিফ, অনাহার বেগম,স্বামী-সামসু মিয়া,গ্রাম-কুমিরমারা,এর নিকট হইতে বিজিডি কার্ড প্রদান করবে বলে ৪,০০০/- (চার হাজার) টাকা ঘুষ গ্রহন করে। কিন্তু তিনি তাদেরকে বিজিডি কার্ড প্রদান করেনি। ইউপি সদস্য আঃ লতিফ,ঐ এলাকার আছিয়া বেগম,স্বামী-ইকবাল মিয়া, গ্রাম-কুমিরমারা এর নিকট হতে সেলাই মেশিন প্রদান করবে বলে ২,০০০/- (দুই হাজার) টাকা ঘুষ গ্রহণ করে। কিন্তু তাকে সেলাই মেশিন প্রদান করেনি। ইউপি সদস্য আঃ লতিফ, ঐ ওয়ার্ডের কনু মিয়া, পিতা-মৃত অজুর উদ্দিন মুন্সী,গ্রাম-কুমিরমারা এর নিকট হতে বয়স্ক ভাতা কার্ড প্রদান করবে বলে ৩,০০০/- টাকা ঘুষ গ্রহণ করে। কিন্তু তাকে বয়স্ক ভাতা কার্ড প্রদান করেনি। এমতাবস্থায় ঘটনা সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আঃ লতিফ এর বিরুদ্ধে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রার্থনা করেন উক্ত গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আজিজুল হক।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন