মুক্তমতশিক্ষা-ক্যাম্পাস

দুর্যোগ সহনীয় আবাস গড়ি, নিরাপদে বাস করি

এ. এস. এম. ইব্রাহীম সাজ্জাত: দূর্যোগ হচ্ছে কোনো মানবসৃষ্ট বা প্রাকৃতিক কারণে এমন কোনো অস্বাভাবিক অবস্থা সৃষ্টি হওয়া, যার কারণে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে আসে, উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হয় এমনকি প্রাণহানি পর্যন্ত ঘটে।
এই ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করতে প্রতিবছর ১৩ই অক্টোবর ‘আন্তর্জাতিক দূর্যোগ প্রশমন দিবস’ পালিত হয়। ‘আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস’ ২০১৭-এর প্রতিপাদ্য বিষয় ‘দুর্যোগ সহনীয় আবাস গড়ি, নিরাপদে বাস করি’।

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে আমরা সাধারণত যে দূর্যোগগুলো দেখি, সেগুলো হলো : বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, বজ্রপাত, ভূমিকম্প ইত্যাদি। এরমধ্যে যে দূর্যোগটা আমাদের সবচেয়ে বেশি হুমকীস্বরূপ সেটা হলো ভূমিকম্প।

অতীতে সাইক্লোন এবং বন্যায় অনেক মানুষ মারা গেলেও এখন পর্যাপ্ত সংখ্যক আশ্রয় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং মিডিয়ার জোর প্রচারণার কারণে এসব দূর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমে এসেছে।

ভূমিকম্প এমন এক দূর্যোগ যার কোনো পূর্বাভাস দেয়া যায় না। স্বভাবতই এই কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও অনেক বেশি যা আমরা বিগত বছরগুলোতে নেপাল, হাইতি, ইরান প্রভৃতি দেশে লক্ষ্য করেছি।

ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান এবং বার্মা এই তিনটি গতিশীল প্লেটের সংযোগস্থলে বাংলাদেশ অবস্থিত থাকায় দেশটি সবসময় ভ’মিকম্প ঝুকিপূর্ণ।সম্প্রতি ‘নেচার জিওসায়েন্স জার্নালে’ প্রকাশিত বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর এবং ইউএসএ এর একদল গবেষকের গবেষনাপত্রে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের পূর্ব অংশের প্লেট মিয়ানমারের পশ্চিম অঞ্চলের প্লেটকে বছরে ৪৬ মিলিমিটার করে ঠেলছে। দুই প্লেটের সংযোগ স্থলে ভূমিকম্পের শক্তি জমা হচ্ছে অন্তত ৪০০ বছর ধরে। ওই শক্তি একসঙ্গে মুক্তি পেলে তা প্রলয়ঙ্করি ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে।’
.
আর এই ভূমিকম্প ঝুঁকিতে আছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১৪ কোটি বাসিন্দা। বিজ্ঞানীদের মতে, ‘শুধু সাড়ে সাত মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকার ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়বে। আর, ভূমিকম্পের মাত্রাটা যদি ৮.২ থেকে ৯ হয়, তাহলে মুহূর্তের বসবাসের অযোগ্য নগরী হয়ে উঠতে পারে ঢাকা।’

ঠিকমতো অনুমোদন না নিয়ে, জলাশয় ভরাট করে, নিম্নমানের নির্মানসামগ্রী দিয়ে প্রতিনিয়ত গড়ে উঠছে সুরম্য অট্টালিকা যা প্রতিনিয়ত দূর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির আশংকা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আর তাই, এবারের ‘আন্তর্জাতিক দূর্যোগ প্রশমন দিবস’ এর প্রতিপাদ্য ‘দুর্যোগ সহনীয় আবাস গড়ি, নিরাপদে বাস করি’ কে বাস্তবে রূপ দিয়ে আমাদের উচিৎ দূর্যোগ সহনীয় আবাস গড়ে তোলা।
.
লেখক : এ. এস. এম. ইব্রাহীম সাজ্জাত,
বন ও পরিবেশবিদ্যা অনুষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

জেড/আর


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন