জাতীয়প্রধান সংবাদরাজনীতি

নির্বাচনে সেনা মোতায়েন চায় জাতীয় পার্টি

একাদশ সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনেরও দাবি জানিয়েছে জাতীয় পার্টি। তবে স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে তারা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার নির্দিষ্ট সময়ের পরে সংসদ ভেঙে দেওয়ার পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। তার মতে, বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব কারী দলগুলোকেই নিয়েই নির্বাচনকালীন অন্তর্বতী সরকার গঠন করতে হবে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আয়োজিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে সোমবার জাতীয় পার্টির অংশ নেন। সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এরশাদের নেতৃত্বে ২৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে ইসিতে যায়। তবে দলে বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্যদের কেউ ছিলেন না। এমনকি বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদও অনুপস্থিত ছিলেন।

জাপার আট দফা প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, দলীয় প্রধানের সুপারিশের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য নিয়োগ, নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া, নির্বাচন কমিশনের ওপর অন্তর্বতী সরকারের হস্তক্ষেপ না রাখা, তফশিল ঘোষণার পর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনে কোনো বিতর্কিত কর্মকর্তাকে দায়িত্বে না রাখা, নির্বাচনী ব্যয় সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ, প্রচার কাজের গাড়িবহর সীমিত রাখা এবং বার বার সীমানা পরিবর্তন না করে ভোটের আনুপাতিক হারে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ করা। এছাড়া নির্বাচনের সময়ে প্রয়োজনে সংবিধানের ধারা-উপধারা সংশোধন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিয়ে আসার জন্য মত দেয় জাতীয় পার্টি। নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কারের বিষয়ে জাতীয় পার্টির প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে-ভোটাররা দলকে ভোট দেবেন, সরাসরি প্রার্থীকে নয়। প্রত্যেক দল প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে আনুপাতিক হারে সংসদীয় আসনের সদস্য পাবে।

সংলাপ শেষে এরশাদ উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, সরকারই অন্তর্বতী সরকার গঠন করবে। গতবারও তা হয়েছিল। এবারও তাই হবে বলে তিনি আশা করেন। এরশাদ বলেন, জনগণের ধারণা  হলো, সেনাবাহিনী মোতায়েন হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। তাই জাপা সেনা মোতায়েনের পক্ষে।

বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারে থাকতে পারবে কি না এবং না থাকলে তাদের ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার গ্রহণযোগ্য হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার হবে যারা সংসদে রয়েছে তাদের নিয়ে। বিএনপি সংসদে নেই। তাই দুঃখজনক ঘটনা হলেও বিএনপি থাকতে পারবে না।

এরশাদ বলেন, তারা খুব আশাবাদী আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে নির্বাচন কমিশনার ও ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিল ছিলেন।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন