জাতীয়প্রধান সংবাদরাজনীতি

সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব দেবে আওয়ামী লীগ

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সংলাপে সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব দেবে আওয়ামী লীগ। সেইসঙ্গে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রশ্নে ইসিকেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তাব থাকবে সরকারি দলের।

এ ছাড়াও গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও), সংসদীয় আসনগুলোর সীমানা নির্ধারণ ও নির্বাচনী ব্যয়-সংক্রান্ত বিষয়ে ইসির বিধি-বিধানের অসঙ্গতি দূরীকরণের পাশাপাশি আগামী নির্বাচনেই ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতি চালুর বিষয়টি ভেবে দেখার প্রস্তাব দেওয়া হবে।

আগামী নির্বাচনের রোডম্যাপ বাস্তবায়নে চলমান সংলাপের অংশ হিসেবে ১৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠকে বসবে ইসি। এর প্রস্তুতি হিসেবে প্রস্তাব ও সুপারিশমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি ওই প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করছে।

গত বুধবার তারা প্রাথমিক বৈঠকও করেছেন। ওই বৈঠকে ইসির সঙ্গে সংলাপে দলের পক্ষ থেকে যেসব ইস্যু তুলে ধরার সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলো নির্ধারণ করতে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে নেতারা আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে যথাসময়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানে সবধরনের পদক্ষেপ নিতে ইসির প্রতি আহ্বান জানানোর বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে সংবিধানের কোনো রকম ব্যত্যয় যাতে না ঘটে, সে বিষয়টিতেও নজর দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়।

এদিকে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ ও নির্বাচনী ব্যয়-সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে ইসির বিধি-বিধানের অসঙ্গতি দূর করা নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। নির্বাচনে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং তাদের ভূমিকা কী হবে, সে বিষয়টি ইসি যেন সুনির্দিষ্ট করে দেয়- সে-সংক্রান্ত প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে সংলাপে দলের পক্ষে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রশ্নে কী প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে- তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কয়েকজন নেতা মত দিয়েছেন, বেসামরিক আইনশৃগ্ধখলা বাহিনীগুলোর সহায়তা নিয়েই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করা সম্ভব। তবে সংবিধান ও বিদ্যমান আইনেই রয়েছে নির্বাচন কমিশন কিংবা সিভিল প্রশাসন সেনাবাহিনীকে সহযোগিতার জন্য ডাকতে পারে। এর পরও বিএনপিসহ কয়েকটি দল নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি বারবার তুলে ধরে বোঝাতে চায় যে, তারাই সেনাবাহিনীর পক্ষে আর আওয়ামী লীগ বিপক্ষে। এর পেছনে বিএনপির রাজনীতি রয়েছে। এ কারণে নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ব্যবহার প্রশ্নে সংবিধান অনুযায়ী ইসিকে তার এখতিয়ার অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে বলা হবে।

ভোটগ্রহণে উন্নত বিশ্বের নির্বাচনী পদ্ধতি অনুসরণ করে আধুনিক ও যুগোপযোগী ইলেক্ট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও থাকবে আওয়ামী লীগের। এ ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন পদ্ধতি ব্যবহারের কথাও বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানানো হবে। তবে এক বছরের মধ্যে অনুষ্ঠেয় আগামী নির্বাচন থেকেই ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহার করাটা ইসির পক্ষে সম্ভব কি-না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেও। এ কারণে বিষয়টি ইসির সিদ্ধান্তের ওপরই ছেড়ে দিতে চান দলের নীতিনির্ধারণী নেতারা।

এ ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অভিন্ন পোস্টার, প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় ইসির উদ্যোগে একই সমাবেশের মাধ্যমে প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা চালু, প্রার্থীদের জামানতের টাকা ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার করাসহ আরও কয়েকটি প্রস্তাবও দেওয়া হতে পারে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে দলের সভাপতিম লীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, সংলাপে দলের পক্ষ থেকে কী কী প্রস্তাব দেওয়া হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে কাজ চলছে।

দলের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সংলাপের জন্য তৈরি করা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পর অনুমোদন দেওয়া হবে। সংলাপে দলের কতজন প্রতিনিধি থাকবেন সে বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়টিও কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে। আগামী ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে সংলাপে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের অন্য শরিকদের পক্ষ থেকেও অভিন্ন প্রস্তাব দেওয়ার বিষয় আলোচনায় রয়েছে। সম্প্রতি ১৪ দলের এক বৈঠকে সংলাপে সব দলই সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনা করেই শরিক দলগুলো নিজ নিজ প্রস্তাব চূড়ান্ত করবে।

১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, সংলাপে সব দলই সংবিধান অনুযায়ী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব দেবে। এটাই ১৪ দলের সিদ্ধান্ত।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন