জাতীয়প্রধান সংবাদস্বাস্থ্য

চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে থেকে যথাযথভাবে মানুষকে সেবা দেয়ার নির্দেশ-প্রধানমন্ত্রীর

সরকারি চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে থেকে যথাযথভাবে মানুষকে সেবা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তা না হলে চাকরি ছেড়ে দিতে বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গতকাল সাতটি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমরা যখন উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকদের নিয়োগ দিই, তখন অনেকেই আছেন, যারা কর্মক্ষেত্রে থাকতে চান না। যেকোনো উপায়েই তারা ঢাকায় থাকেন। যদি চিকিৎসকদের ঢাকায়ই থাকার ইচ্ছা হয়, তাহলে তাদের সরকারি চাকরি করার প্রয়োজন নেই। রাজধানীতে বসে প্রাইভেট রোগী দেখে তারা অনেক টাকা উপার্জন করতে পারেন। তাই তাদের চাকরি ছেড়ে দিয়ে বাড়িতে চলে যাওয়াই ভালো। আমরা তাদের স্থানে নতুন নিয়োগ দেব।

মানসম্পন্ন চিকিৎসক তৈরিতে মেডিকেল কলেজগুলোর শিক্ষার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার দেশে বিপুলসংখ্যক মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এরই মধ্যে পাঁচটি সেনানিবাসে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সেনানিবাসেও এ ধরনের কলেজ প্রতিষ্ঠা করব। এসব মেডিকেল কলেজে ‘রোগী হত্যাকারী ডাক্তার’ নাকি ‘রোগী রক্ষাকারী ডাক্তার’ তৈরি হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা তদারক করতে হবে।

দেশের মেডিকেল শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকরা একাডেমিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে যাতে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারেন, সেজন্য শিক্ষক হিসেবে বাংলাদেশে বিদেশী চিকিৎসকদের সুযোগ উন্মুক্ত করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যদি বিদেশী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বাংলাদেশে আসেন, তাহলে দেশের লোকদের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হবে না। এখানেই তারা বিদেশী চিকিৎসাসেবা পাবেন।

তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি চিকিৎসকদের আবাসন সমস্যার ব্যাপারে সরকার সংবেদনশীল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি এরই মধ্যে চিকিৎসকসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সমস্যার সমাধানে উপজেলা পর্যায়ে বহুতল ভবন নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছি।

কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম চালু রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রম যাতে কেউ বন্ধ করতে না পারে, সেজন্য ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে দেয়ার মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াত আত্মঘাতী পদক্ষেপ নেয়। তারা যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে পুনরায় এগুলো বন্ধ করে দেবে।

দ্বীপ ও হাওড় এলাকায় নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক বাজেট তৈরির সময় একটি তহবিল গঠনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্যান্য বিশেষায়িত ক্ষেত্রের তুলনায় চাহিদার চেয়ে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টদের সংখ্যা কম। এক্ষেত্রে দেশে চিকিৎসকের সংখ্যা সামান্য।

স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া।

পরে শেখ হাসিনা বান্দরবান সদর হাসপাতাল, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর, খুলনার ফুলতলা, নেত্রকোনার কেন্দুয়া, গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও ঢাকায় জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সাতটি অ্যাম্বুলেন্সের ডামি চাবি হস্তান্তর করেন।

সম্প্রতি জাপানের টয়োটা ব্র্যান্ডের ৬০টি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো চলতি মাসেই হস্তান্তর করা হবে এবং এ ধরনের আরো ৩৮টি অ্যাম্বুলেন্স আগামী মাসে হস্তান্তর করা হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের রাজস্ব বাজেট থেকে অ্যাম্বুলেন্সগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল হক খান। সমাপনী বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।-খবর বাসস।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন