সারাদেশ

কক্সবাজার সদরের খরুলিয়ায় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটা তৈরির অভিযোগ, বিক্ষোব্ধ জনতা : প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার: এলাকার জনসাধারণের মত তোয়াক্কা না করে ও ক্ষমতার জোরে অনুমোদনহীন ইটভাটা নির্মাণ করছেন সাবেক ইউপি সদস্য হামিদুল হক মুন্না। কক্সবাজার সদর উপজেলায় পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই তৈরি করা হচ্ছে অনুমোদনহীন ইট ভাটা। ইটভাটা মালিকের হুমকির মুখে প্রতিবাদ করতে ভয় পাচ্ছে এলাকাবাসী। সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের নয় নং ওয়ার্ডের পূর্ব খরুলিয়ায় অনুমোদনহীন ও পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়া লোকালয়ে ইটভাটা গড়ে তুলছেন নয় নাম্বার ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য হামিদুল হক মুন্না। অনুমোদনহীন এই ইট ভাটাটি বসত বাড়ীর মাঝে এবং মসজিদ সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে গড়ে ওঠায় এ নিয়ে বিরূপ আশংকা প্রকাশ করছে স্থানীয়রা। শিশু ও কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্ট জনিত রোগবালাই সহ নানা সমস্যার কবলে পড়ার আশংকা রয়েছে বলে জানান স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও জনসাধারণ। প্রভাবশালী এই সাবেক ইউপি সদস্যকে পরিবেশ বিরোধী ইটভাটা তৈরি না করতে অনুরোধ করলে এলাকাবাসীকে হুমকি দেন সাবেক এই ইউপি সদস্য। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, “যেখানে ইটভাটা তৈরির জন্য মাটি ভরাট করে ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে চতুর্পাশে রয়েছে বসত বাড়ী এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পাড়ার ভেতরকার মাঝখানে ইটভাটার চুল্লিতে অগ্নিসংযোগ করা হলে ইটাভাটার কালো ধোয়া,পোড়া ইটের দূর্গন্ধ এবং ধুলোবালি বাতাসে মিশে গিয়ে লোকালয়ের পরিবেশকে সাংঘাতিক ভাবে দূষিত করবে। তাই সময় থাকতে এই ইটভাটাটি লোকালয় থেকে সরিয়ে অন্যত্র খোলা জায়গায় যেখানে পরিবেশের ক্ষতি না হয় সেখানে প্রতিস্থাপন করার দাবী জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী। অভিযোগকারী এলাকাবাসীর মধ্যে রয়েছেন রামু চাকমারকুল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাস্টার হাবিবুল্লাহ, সিনিয়র শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ ইলিয়াস, আব্দুল কাদের, শহর মুল্লক, আব্দুল্লাহ, জাহেদ হোছাইন, শফিউল আলম, আব্দুল গফুর, নাজির হোছাইন, দুদুমিয়া, আব্দুল কাদের, হাবিবুর রহমান, মমতাজ আহমদ ও আরো অনেকে। অনুমোদনহীন এই ইট ভাটার মালিক সাবেক ইউপি সদস্য হামিদুল হক মুন্না জানান, “ইট ভাটা তৈরির ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত সাপেক্ষে ঝিকঝাক চুল্লি তৈরি করে ইট ভাটার কার্যক্রম পুরোদমে চালু করা হবে। এতে পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।” যেখানে ইট ভাটার তৈরি হচ্ছে ঐ এলাকাটি পরিবেশ গত ভাবে সংকটাপন্ন এলাকা। তাছাড়া এলাকার খুব সন্নিকটে আরো একাধিক ইটভাটা চালু রয়েছে। যা প্রতিনিয়ত পরিবেশকে দূষিত করে আসছে। তাই এই এলাকায় আরো একটি নতুন ইট ভাটা নির্মাণ হলে আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ইটভাটা তৈরির অপতৎপরতা বন্ধ করতে জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন