খেলা

জয়ের ব্যপারে প্রচুর আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ

আত্মহত্যারও তবে যুক্তি হয়! যুক্তি দিয়ে প্রথম ইনিংসে দৃষ্টিকটু রকমের বাজে ব্যটিংয়ে ১১০ রানে অল আউট হয়ে যাওয়াকে বলা যায় ‘দুর্ঘটনা’। আত্মহত্যার মতো করে একের পর উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসার পরও দায় চাপানো যায় অদৃশ্য ‘দুর্ভাগ্য’র ওপর!

প্রথম ইনিংসে যা হয়েছে, তা ‘দুর্ঘটনা’; কিছুটা ‘দুর্ভাগ্য’ও- এমন যুক্তি দেখিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে তিনশ’র বেশি রান তাড়া করে জেতা সম্ভব বলে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ দলের। মিরপুরের মাটিতে কোনো দলেরই তিনশ’র বেশি রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড না থাকলেও, চতুর্থ ইনিংসে প্রতিপক্ষের বোলিং লাইনআপে রঙ্গনা হেরাথের মতো বোলার থাকার পরও- জয়ের ব্যপারে ড্রেসিংরুমের আত্মবিশ্বাসের নাকি প্রচুর!

শুক্রবার শেষ বিকেলে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হিসেবে আসা মেহেদি হাসান মিরাজ যখন দলের এই ‘অতি আত্মবিশ্বাসে’র কথা বলছিলেন, তার খানিক আগেই এক প্রকার ‘জয়োৎসব’ সেরে নিয়েছে শ্রীলংকা। ৩১২ রানের লিডকে সঙ্গী করে দিনের খেলাশেষের পর রোশেন সিলভা ও সুরঙ্গা লাকমল যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, ড্রেসিংরুমের সামনে তখন হাথুরুসিংহের নেতৃত্বাধীন কোচিং স্টাফও ক্রিকেটাররা তাদের বিজয়ীর অভিবাদন জানালেন করতালি ও পিঠ চাপড়িয়ে দিয়ে। ত্রিদেশীয় সিরিজের পর টেস্ট সিরিজটা কবজা হয়ে গেল- হাথুরুসিংহের মুখে এমন অভিব্যক্তি যদি কেউ আবিষ্কার করে থাকেন, তা অন্তত বাড়াবাড়ি কিছু হবে না।

অথচ এমন এক আবহের পরও মিরাজ বেশ চনমনে, সতেজ! শ্রীলংকা বর্তমান অবস্থায়ও যদি ম্যাচ ছেড়ে দেয়, জেতার জন্য করতে হবে ৩১৩ রান। এমন ম্যাচ জয়ের ব্যপারে ড্রেসিংরুমের আত্মবিশ্বাস কোন পর্যায়ে- এমন জিজ্ঞাসায় মিরাজের চটপটে উত্তর, ‘ম্যাচে তো সবকিছুই হতে পারে। আমাদের লক্ষ্য আগামীকাল দ্রুত দুটি উইকেট তুলে নেওয়া। আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে, ওরা যত রানই করুক, সেটা তাড়া করতে পারবো।’

যে দল প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়ে গেছে ১১০ রানের মধ্যে, সেই দল দ্বিতীয় ইনিংসে সোয়া তিনশ, সাড়ে তিনশ রান করা কি এতোই সোজা? ২০ বছর বয়সী মিরাজের মতে আসলেই সোজা, ‘প্রথম ইনিংসে (এমন) হতেই পারে। প্রথম ইনিংসের ভুল থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। আমাদের যারা ব্যাটসম্যান আছে, সবাই খুব আত্মবিশ্বাসী। মুমিনুল ভাই, তামিম ভাই, রিয়াদ ভাই, তারপর মুশফিক, লিটন ভাইরা আছেন। সবার মধ্যে আত্মবিশ্বাস আছে। প্রথম ইনিংসে যা ঘটেছে, তাকে আসলে দুর্ঘটনাই বলবো।’

প্রথম ইনিংসের ব্যটিং যদি দুর্ঘটনাও হয়, তাহলেও প্রশ্ন থেকে যায় দ্বিতীয় ইনিংসে রান তোলার সামর্থ্য নিয়ে। বাংলাদেশ দল তাদের ১৭ বছরের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে রান তাড়া করে জিতেছেই মাত্র তিনবার। যে রান তাড়া করা গেছে তার মধ্যে সর্বোচ্চ ২১৭ রান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে যা ছিল সেই ২০০৯ সালে, নিয়মিত খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতে যে ক্যারিবিয়ানরা ছিল ভঙ্গুর প্রতিপক্ষ! মিরাজ অবশ্য যুক্তি দিতে গিয়ে অত দহৃরে যাননি। বরঞ্চ শ্রীলংকার বিপক্ষেই যে তাদেরই মাটিতে জয় আছে মনে করিয়ে দিলেন সেটি, ‘শ্রীলংকার মাটিতে গিয়ে আমরা একটা টেস্ট (বাংলাদেশের শততম) জিতেছিলাম। আমার কাছে মনে হয় শ্রীলংকার মাটিতে দুইশ রান (আসলে ১৯০) তাড়া করে জিততে পারলে নিজেদের মাটিতে আমরা ৩০০ প্লাস রান করে জিততে পারবো। এটাই আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।’

আত্মবিশ্বাস মাঠে রূপান্তর করতে হলে কী করতে হবে, তা ভালো করেই জানা বল হাতে ২ উইকেট নেওয়ার আগে প্রথম ইনিংসে ৩৮ রানে অপরাজিত থাকা মিরাজের, ‘আমাদের সিনিয়র খেলোয়াড় যারা আছে, তারা ভালো খেলবে, দায়িত্ব নেবে। তারা ভালো খেললে দলও ফল পাবে।’

আসলেই। তবে দায়িত্বটা তাদের প্রথম ইনিংসেও ছিল। যেখানে তারা ডাহা ফেল। এবার দ্বিতীয় ইনিংসে ‘দুর্ঘটনা ও দুর্ভাগ্য’ এড়িয়ে আত্মবিশ্বাসের বাস্তবায়ন ঘটাতে পারলেই হয়!


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন