খেলাপ্রধান সংবাদ

টাইগাদের দায়িত্ব ছাড়তে চান সুজন

নতুন বছরে এর থেকে বাজে শুরু আর হতে পারত না বাংলাদেশের। ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালের পর টেস্ট সিরিজও হেরেছে টাইগাররা। দলের এমন পারফরম্যান্সে প্রশ্নবিদ্ধ টিম ম্যানেজমেন্ট। কাঠগড়ায় টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন। ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের বিপর্যয়ের পর এ পদে আসীন হন তিনি। দলের বিপর্যয়ের সমালোচনার তীরে বিদ্ধ সুজন দায়িত্ব পালনে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটের পরিবেশ নোংরা হয়ে গেছে বলেও মত প্রকাশ করেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সুজন।

গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সঙ্গে আমার কাজ করতেই ইচ্ছে করছে না। নোংরা লাগছে জায়গাটা। এত বছর ধরে ক্রিকেটের সঙ্গে আছি। বাংলাদেশের উন্নতির জন্যই কাজ করছি। কিন্তু এমন সমালোচনা আমাকে ব্যথিত করে।’

নোংরা জায়গাটা কেমন, সেই ব্যাখ্যা চাওয়া হলে সুজন ক্ষোভ নিয়ে বলেন, ‘‘বলার কিছু নেই। আপনারাও জানেন, আমরাও জানি। নোংরা বলতে গেলে যে, মিডিয়ায় যেভাবে বলা হয়। আমাদের ক্রিকেটের একটা বড় অন্তরায় মিডিয়াও। আমরা এত ‘ফিশি’ হয়ে যাচ্ছি। মিডিয়ায় এত বেশি আলোচনা হচ্ছে আমার। এটা মনে হচ্ছে, এত বছর ধরে ক্রিকেটে আছি, এত গসিপিং। ভালো-খারাপ আসবেই। কিন্তু কিছু কিছু জিনিস নেতিবাচক হয়ে যাচ্ছে আমাদের ক্রিকেটের জন্য।’’

এদিকে আগামী মাসের শ্রীলংকা সফরের ত্রিদেশীয় নিদাস ট্রফির আগে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। সেক্ষেত্রে হয়তো টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ ও সহকারী কোচ রিচার্ড হ্যালসলকে তাদের পদে রেখে দেবে বিসিবি। পরের সিরিজেও তার দায়িত্বে থাকা প্রসঙ্গে সুজন জানান, ‘নিদাস কাপে কে দায়িত্বে থাকবে, তা ঠিক করবে বোর্ড।’ আক্ষেপ নিয়ে সুজন বলেন, ‘বাঙালি কেউ কাজ করলেই সবচেয়ে বড় সমস্যা। হাথুরুসিংহে যখন প্রথম এল, আরো বড় বড় কোচ এসেছে, তখনো শুরুতে ফল খারাপ হয়েছে। কিন্তু এ রকম হয়নি।’

দেশের মাটিতে টানা দুই সিরিজের ব্যর্থতায় প্রশ্ন উঠছে সাপোর্ট স্টাফদের নিয়ে। হাথুরু দায়িত্ব ছাড়ার পর কোনো কোচ নিয়োগ দিতে পারেনি বিসিবি। টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের মোড়কে কোচের দায়িত্ব পালন করেন সুজন। সহকারী কোচ হ্যালসলের সঙ্গে মিলে দল চালাচ্ছেন তিনি। দলের বিপর্যয়ের পরও নিজের দায় দেখছেন না তিনি। কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন ক্রিকেটারদেরই।

দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতায় সুজনের ব্যাখ্যা, ‘সিরিজ শুরুর আগে টিমের পরিবেশ ভালো ছিল। যেটা আগেও ছিল। হারলে যেটা হয়, সবাই হতাশ হয়ে পড়ে। কেউ হারতে চায় না। এখন আমরা নতুন একটা ফরমেটে ঢুকতে যাচ্ছি। এখানে নতুন কিছু মুখ এসেছে। জাতীয় দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছে পাঁচজন। এখন সব ব্যর্থতা ভুলে ১৫ ও ১৮ তারিখের দুটি খেলায় মনোযোগ দিতে হবে, যেভাবেই হোক ভালো খেলতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের সাফল্যের হার ইতিবাচক। আশা করি, যে মাইন্ডসেট ছিল টেস্টে, সেটা থেকে বেরিয়ে টি২০-এ ভালো ক্রিকেট খেলব। এখানে তো ড্র করার সুযোগ নেই। ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজে হেরেছি। এখন বাকি টি২০। এখানে ফেরাটাই আমাদের লক্ষ্য। এজন্য ছেলেদের কোনো চাপ দেব না। মাঠে ভালো খেলার প্রয়োগটাই হলো আসল। চেষ্টা থাকবে, যেন ভালো শুরু করতে পারি।’


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন