জাতীয়শিক্ষা-ক্যাম্পাস

প্রশ্ন ফাঁস তদন্তে দুটি কমিটি গঠন হাইকোর্টের

মাধ্যমিকসহ বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে গতকাল হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় চলমান এসএসসি পরীক্ষা বাতিল চেয়ে গত বুধবার রিট আবেদনটি করেন তিন আইনজীবী। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্ত ও ফাঁস রোধে একটি আইন প্রণয়নে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়ারও আবেদন করা হয় রিটে।

রিটকারীদের একজন আইনজীবী আইনুন্নাহার সিদ্দিকা বলেন, বুধবার আমরা তিনজন আইনজীবী রিটটি করেছি। রিট আবেদনে এবার যেসব পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে, সেগুলো বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেয়ার নির্দেশনা জারির আবেদন করেছি।

রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট যে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন, তার একটির নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ। আর বিচারিক তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ। প্রত্যেক কমিটির সদস্য সংখ্যা হবে পাঁচজন করে।

এর আগে একই বেঞ্চ প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে ব্যর্থতা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। শিক্ষা সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, আইন সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের ড্রাফটিং উইংয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, তথ্যপ্রযুক্তি সচিব, বিটিআরসির সচিব-চেয়ারম্যান, বিটিসিএল প্রধান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক-চেয়ারম্যান, ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং পুলিশের মহাপরিদর্শককে দুই সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে হবে।

এ বিষয়ে রিটকারীর আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, বিচারিক তদন্ত কমিটি প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করবে। আর প্রশাসনিক কমিটি প্রশ্ন ফাঁস প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেয়া যায়, তা নির্ধারণ করবে। দুটি কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে ৩০ দিন সময় দিয়েছেন আদালত।

তিনি জানান, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজের নেতৃত্বে বিচারিক তদন্ত কমিটিতে থাকবেন নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আইন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন করে উপসচিব। আর ড. কায়কোবাদের নেতৃত্বে প্রশাসনিক কমিটিতে থাকবেন বুয়েটের অধ্যাপক সোহেল রহমান, মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কম্পিউটার সোসাইটির একজন বিশেষজ্ঞ ও সিআইডির ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা।

রসায়নের প্রশ্নও ফাঁস: এদিকে রসায়নবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল নাটোরের লালপুর থেকে ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। লালপুর উপজেলার কদিমচিলানের চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশ থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ১০ জন পরীক্ষার্থী।

র্যাব-৫ জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে একটি চক্র ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছে। চক্রটিকে ধরতে র্যাব সদস্যরা অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সেজে একটি ফেসবুক গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ঢাকা থেকে ফাঁস হওয়া রসায়ন বিষয়ের প্রশ্নপত্র এক পরীক্ষার্থীর মোবাইলে এলে ওই কেন্দ্রের বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র নিয়ে উত্তরপত্র তৈরি করছিল। এ সময় র্যাব সদস্যরা মোবাইলে আসা প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল পেয়ে ১০ শিক্ষার্থীসহ ১৩ জনকে আটক করে।

আটককৃত ১০ শিক্ষার্থী হলো— কলসনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের তাহমিনা খাতুন, আছিয়া খাতুন, জান্নাতুল ফেরদৌস, নুরে জান্নাত, সুমি খাতুন, রত্না খাতুন, নাসরিন জাহান নিপা, জিসান কাজী নিবিড় এবং হাজিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাসুমা খাতুন ও সৈকত সরকার। আটক অন্য তিনজন হলেন— কদিমচিলান ইউনিয়নের হাসান আলী, সোহেল রানা ও সোহেল রানার স্ত্রী কলসনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদৌস রুনা।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন