বিনোদন

মাইম আর্ট-এর যত কাজ

শুরু থেকে মাইম আর্ট কর্মশালা পরিচালনার পাশাপাশি ৫-৭ মিনিটের ছোট ছোট মূকাভিনয় প্রযোজনা মঞ্চে আনতে থাকে; যেগুলোর প্রায় সবই ছিল একক মূকাভিনয়। যার মধ্যে আছেÑ ‘প্রেমপত্রের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া’, ‘খেলোয়ারের গ-গোল’, ‘বাংলাদেশ’, ‘অনুতপ্ত’, ‘ঘাউরা লাটিম’ ইত্যাদি। ২০১১ সালে মাইম আর্ট মঞ্চে আনে ২৫ মিনিটের মূকনাটক ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’। এটি ব্যাপক প্রশংসিত হলে ২০১৩ সালের ২৩ মে মাইম আর্ট টিকিটের বিনিময়ে প্রদর্শনীর জন্য ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’কে ১ ঘণ্টার পূর্ণাঙ্গ মূকাভিনয় প্রযোজনা হিসেবে মঞ্চে আনে। এ প্রযোজনার সুবাদে নাট্যাঙ্গনে দ্রুত পরিচিতি লাভ করে মাইম আর্ট। এরপর মাইম আর্ট ২০১৫ সালের ১৫ অক্টোবর ১৬টি খ- মূকাভিনয়ের সমন্বয়ে ‘যেমন কর্ম তেমন ফল’ শিরোনামে দেড় ঘণ্টার একটি প্রযোজনা মঞ্চে আনে।

খন্ড মূকাভিনয়গুলো হল- ‘মনোযোগে গোলযোগ’, ‘সুযোগসন্ধানী’, ‘অচেতন মানুষ সচেতন ছাগল’, ‘ডার্টি ম্যান’, ‘গাল ফ্রেন্ড ও খালি পকেট’, ‘বিলের ফাঁদ’, ‘পরোকিয়া’, ‘অকৃতজ্ঞ’, ‘মুখ পালিশ’, ‘ভুলের মাশুল’, ‘ইভটিজিং’, ‘ভন্ড ফকির’, ‘ভোটের দন্ধ’, ‘বয়রা প্রতিযোগী’, ‘ওভার কনফিডেন্স’, ‘বাড়াবাড়ি’। হাস্যরসের মাধ্যমে সমাজের একাধিক অসঙ্গতি তুলে এনে বিভিন্ন ম্যাসেজ প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশে মূকাভিনয়ে দলীয় প্রযোজনার নতুন দ্বার উন্মোচন করে বাংলাদেশে মাইমকে অল্প সময়ে অনেকটাই জনপ্রিয় করে তোলে মাইম আর্ট। এর পর মাইম আর্ট মঞ্চে আনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে বিন্ন মাত্রার মূক নাটক ‘ইউ-টার্ন।

পেট্রোল বোমার উপর নির্মিত এই মূকনাট্যটিও ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। মাইম আর্ট হয়ে উঠে বাংলাদেশের মূকাভিনয়ের অন্যতম এবং অগ্রপথিক এক সংগঠন। ডাক আসতে থাকে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের হয়ে কাজ করার। যা ফলে মাইম আর্ট এর প্রযোজনায় মঞ্চে আসে জনসচেতনতা ও সেবামূলক অনেক প্রযোজনা। যার মধ্যে আছে ‘সাদা মনের মানুষ’, ‘ভূমিকম্পের আগে ও পরে’, ‘কাজের সঠিক ও সহজ নিয়ম’, ‘নারী নির্যাতনের সাজা’, সম্প্রীতি, ইত্যাদি।

মাইম আর্ট দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে বিভিন্য সময়ে যেসব সেবামূলক সংগঠনের হয়ে কাজ করেছে তার মধ্যে সেবা, লিউ ক্লাব, রেড ক্রিসেন্ট, গণজাগরণ মঞ্চ, মহিলা পরিষদ ইত্যাদি। বিভিন্ন সময়ে মাইম আর্ট অসুস্থ ব্যক্তি ও দেশের দুর্যোগ কবলিত মানুষের সহযোগিতার জন্য প্রদর্শনীর মাধ্যমে অর্থের জোগান দিয়েছে। মাইম আর্ট দেশের বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের হয়েও প্রদর্শণী করেছে। যার মধ্যে আছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, ওই ফোন, জাইকা, আইবিএ, এক্সপ্রেশান, ডিবিএল সিরামিক, গ্রামীণফোন ইত্যাদি। সব মিলিয়ে গত ১০ বছরে মাইম আর্ট সারা দেশে ৩০০টিরও অধিক মূকাভিনয় প্রদর্শনী করেছে এবং ২০টির অধিক মূকাভিনয় কর্মশালার আয়োজন করেছে।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন