সারাদেশ

ঈদ আসছে রঙে নতুন হয়ে উঠছে ফিটনেস বিহীন লঞ্চ

ঢাকার সঙ্গে সরাসরি কোনো সড়ক যোগাযোগ না থাকায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের লাখো মানুষকে যাতায়াত করতে হয় লঞ্চে। ঈদের সময় ঘরে ফেরা মানুষের ভিড়ে এর চাহিদা আরও বেশি। আর এ সুযোগে এক শ্রেণির লঞ্চ মালিক ঝুঁকিপূর্ণ লক্কড়ঝক্কড় লঞ্চে রঙ লাগিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যান নৌপথে। কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন ডকইয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, পুরনো ফিটনেসবিহীন লক্কড়ঝক্কড় লঞ্চে চলছে রঙ কালি আর মেরামতের কাজ।

জানা যায়, বুড়িগঙ্গা নদীর ওপর রহমানের ডকইয়ার্ড, সাত্তার খান ডকইয়ার্ডসহ কেরানীগঞ্জের তেলঘাট থেকে মীরেরবাগ পর্যন্ত প্রায় ২৭টি ডকইয়ার্ড রয়েছে। অধিকাংশ ডকইয়ার্ড ঘুরে জানা গেছে, ঈদ সামনে রেখে অনেক মালিক দুই মাস আগে লঞ্চ ডকইয়ার্ডে ওঠানোর জন্য অগ্রিম টাকা দিয়ে রেখেছেন। প্রতিটি ডকইয়ার্ডেই বিভিন্ন নৌযান তৈরি, সংস্কার ও রঙের কাজ চলছে। এর মধ্যে অধিকাংশ ডকইয়ার্ডেই চলছে ফিটনেসবিহীন ও ভাঙাচোরা লঞ্চ মেরামত, পুরনো লঞ্চে রঙসহ নানা ধরনের কাজ। সেখানে নিউসান, মর্নিংসান-৯, কালাম-১, ইয়াদ-৩, মানিক-১, কর্ণফুলী-১১, মানিক-৯, অভিযান-৭, জামাল-৯, প্রিন্স রাসেল-৪, এমভি কামাল-১, সুন্দরবন-১০ নামের লঞ্চগুলোর মেরামতের কাজ চলছে।

সাত্তার খান নামক ডকইয়ার্ডে মেরামতের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকা-টরকীগামী নিউসান লঞ্চের ফোরম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, নিউসান লঞ্চের প্লেট, সামনের ফ্যান ফেটে গেছে। এ ছাড়া ঈদের আগে যাত্রীদের আকর্ষণে লঞ্চটি সংস্কার ও রঙ করা হচ্ছে। নিউসান লঞ্চটি তিন দিন আগে মেরামতের জন্য আনা হয়েছে, দু’দিনের মধ্যে সেটি ছাড়া হবে। তিনি জানান, ছোট আকারের এ লঞ্চটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করতে হলে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই মাস সময় লাগবে। সামনে ঈদ তাই তড়িঘড়ি করে লঞ্চটি সংস্কার করা হচ্ছে। লঞ্চটির ইঞ্জিনের সমস্যা আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বড় ধরনের কোনো সমস্যা নেই, যা আছে তা আমরাই দেখছি।

নিউসান লঞ্চটির পাশেই একই কোম্পানির মর্নিংসান-৯ লঞ্চটি সম্পর্কে তিনি বলেন, এ লঞ্চটি পুরো সংস্কার করতে হলে ৪ থেকে ৫ মাস লাগবে। ঈদকে সামনে রেখে এটি সংস্কার করতে আনা হয়েছে। লঞ্চটির দুই পাশের টার্কিং ভেঙে গেছে। সংস্কার ছাড়াও রঙ করা হবে এটির। লঞ্চের সংস্কার কাজ পরিদর্শনে বা ফিটনেস পরিদর্শনে বিআইডব্লিউটিএর পরিদর্শক এলে তারা কী করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু টাকা দিলে চলে যান তারা।

অগ্রগতি ডকইয়ার্ডে সংস্কারের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকা-ভাণ্ডারিয়া রুটের অগ্রদূত প্লাসের সুপারভাইজার ফারুক বলেন, সবাই চায় ঈদের সময় নতুনত্ব আনতে। তিন দিন আগে লঞ্চটি ডকইয়ার্ডে আনা হয়েছে। লঞ্চের ভাঙাচোরা কাজের সংস্কারের পর রঙ লাগিয়ে আগামীকালই লঞ্চটি ছাড়া হবে।

বিআইডব্লিউটিএর এক কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ৪৩টি নৌপথে শতাধিক লঞ্চ চলাচল করে। এগুলোর মধ্যে হাজার দশেক ভিআইপি, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কেবিন রয়েছে। এ লঞ্চগুলোতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন জেলার প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার লোক যাতায়াত করে। আর ঈদের মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় পঞ্চাশ হাজার। এ সময় অতিরিক্ত যাত্রীর লোভে কিছু অসাধু লঞ্চ মালিক লক্কড়-ঝক্কড়, চলাচলে অনুপযোগী লঞ্চ সংস্কার ও রঙ করে চাকচিক্য করে তোলেন। অনেক সময় দেখা যায় অনেকে কয়েক বছর ধরে বসা লঞ্চও নিয়ে আসেন।

বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী লক্কড়ঝক্কড় লঞ্চের রঙ-কালির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোনো লক্কড়ঝক্কড় লঞ্চ নেই। শিপিংয়ের সার্ভে ছাড়া কোনো লঞ্চ ছাড়ার সুযোগ নেই। প্রতি বছর শিপিং কর্তৃপক্ষ লঞ্চের ফিটনেস পরীক্ষা করে সার্ভে সনদ দিয়ে থাকে। তবে ঈদ উপলক্ষে লঞ্চে রঙ ও সংস্কার করা হয়ে থাকে।

বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর মোজাম্মেল হক বলেন, সার্ভে সনদ ছাড়া এবার কোনো লঞ্চকে ঘাটে ভিড়তে দেওয়া হবে না। এ ছাড়া এবার প্রতিটি ঘাটে ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এবার যে মাস্টাররা লঞ্চ চালাবেন, তাদের সার্টিফিকেটও চেক করে দেখা হবে। সবকিছু তদারকির জন্য সার্বক্ষণিক নৌ-পুলিশের পাশাপাশি কোস্ট গার্ড দায়িত্ব পালন করবে। মোজাম্মেল হক বলেন, অন্যবারের চেয়ে এবার কড়া নজরদারি আরোপ করা হয়েছে। একটি লঞ্চও যেন অনিয়ম করতে না পারে, বিশেষ নজরদারি করা হবে সেদিকেও।

 

[সূত্র-সমকাল]


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন