আইন-আদালতজাতীয়প্রধান সংবাদরাজনীতি

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস রোগের ভয়াবহতার কারনে তিনি তার বাঁ হাত নাড়াতেই পারছেন না। তাই অবিলম্বে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আজ সোমবার পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে পরিবারের স্বজনরা তাকে এমনটাই জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন মির্জা ফখরুল। রাত ৮টায় এক জরুরী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার, বোন সেলিমা ইসলাম, ভাতিজা অভিক ইস্কান্দার, নাতনি রাইদা ইসলাম (সাইফুল ইসলাম ডিউকের মেয়ে), ভাগ্নে ডা. মামুনসহ পরিবারের ৫ সদস্য। বিকেলে পৌনে ৫টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা কারাগারের ভেতরে অবস্থান শেষে বের হয়ে আসেন তারা।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা শুনে তার রাজনৈতিক কার্যালয় গুলশানে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলন করেন মির্জা ফখরুল। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘গত দশদিন পর আজ খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন তার পরিবারের স্বজনরা। তারা সেখানে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ভয়াবহ অবনতি দেখে দলকে অবহিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া গত এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে আক্রান্ত। প্রত্যেক রাতে কাঁপুনি দিয়ে তার এই জ্বর আসছে। কোনো অবস্থাতেই তার এই জ্বর নিয়ন্ত্রণে আসছে না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে তার চোখের সমস্যা বেড়েছে। ডান চোখ লাল হয়ে ফুলে গেছে। সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস রোগের ভয়াবহতার কারনে তিনি তার বাঁ হাত নাড়াতেই পারছেন না। কোমরের সমস্যার কারণে তার শরীরের বাঁ পাশ এবং বাঁ পায়েও তীব্র ব্যাথা অনুভব করছেন। খালেদা জিয়া আগের থেকেও অনেক বেশি অসুস্থ। এ সকল কারণে তিনি হাঁটাচলাও করতে পারছেন না। তার স্বাস্থ্যের অবস্থা ক্রমান্বয়ে খারাপের দিকে যাচ্ছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর সুপারিশের নথি এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পড়ে আছে। কিন্তু কোন নির্দেশনা আসেনি বলে তার সুচিকিৎসার ব্যাঘাত ঘটছে।’

ফখরুল আরও বলেন, ‘এটা অত্যন্ত অমানবিক ব্যাপার। খালেদা জিয়ার মতো জাতীয় নেতার সঙ্গে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। এ সময় বিএনপি চেয়ারপরসনের প্রতি সরকারের উদ্দেশ্যে নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আমরা সন্দিহান, জানিনা কেন সরকার খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা করছেন না।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আশঙ্কা প্রকাশ করে আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে আরও অসুস্থ করে রাজনীতি থেকে সরিয়ে রাখার জন্যই এমন আচরণ করা হচ্ছে।’ এ সময়ে তিনি হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় এর সকল দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতিতে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে তার রোগের বর্ণনা দেন। চিকিৎসার অভাবে এ ধরনের রোগে কি সমস্যা তৈরী হতে পারে বলে তারে মত দেন। তারা বলেছেন, ‘দ্রুত তার সুচিকিৎসা করা না হলে তার বা হাত অবশ, অন্ধত্ব এমনকি প্যারালাইসিস হতে পারে।’

সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, উপদেষ্টা অধ্যাপক সিরাজউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন