শিক্ষা-ক্যাম্পাস

ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজে ‘টাকার বিনিময়ে ও তদবিরের মাধ্যমে কয়েশ শিক্ষার্থী ভর্তি

‘টাকার বিনিময়ে ও তদবিরের মাধ্যমে কয়েশ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজে। এ ক্ষেত্রে পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ একাধিক সদস্য মূল ভূমিকা রাখছেন। প্রতি শ্রেণিতে নির্ধারিত আসন সংখ্যার চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর মাধ্যমে মূলত স্কুলটিকে পুরোপুরি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা হচ্ছে।’ বিভিন্ন মহল থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা অধিদপ্তরে এমন একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে।
প্রতিষ্ঠানটিতে নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে কেন অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে তার জবাব চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ১৫ দিনের মধ্যে জবাব দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব কামরুল হাসানের স্বাক্ষরিত এ চিঠি গত ২৭ মে  প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, কোন ধরণের নিয়ম-নীতি না মেনে এবারও দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে রাজধানীর ভিকারুন নিসা নূন স্কুল কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন সুপারিশের মাধ্যমে কিছু ভর্তি করা হলেও বাকিগুলো ভর্তির ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদের অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।  অভিভাবক ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, শিক্ষার্থী ভর্তির নামে লাখ লাখ টাকা অবৈধ আয় করছে প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন সদস্য। তিনি প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডি বাতিলের দাবি জানান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভর্তির আগেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি ভর্তি নীতিমালা জারি করে। এরপরও অযৌক্তিকভাবে সুপারিশের অযুহাত দেখিয়ে নীতিমালা অমান্য করে স্কুলগুলো। ভিকারুন নিসা স্কুলও তাই করেছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালেও অবৈধ ভাবে শিক্ষার্থী ভর্তির কারণে দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। কিন্তু ওই কমিটির প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। গত বছরও ভর্তি নীতিমালা না মানার কারণে অভিযুক্ত হয়েছিল এই প্রতিষ্ঠাটি। ভর্তি নীতিমালা না মানায় ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠানটির তত্কালীন অধ্যক্ষের এমপিও স্থগিত করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওই বছর ভিকারুননিসা স্কুলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৬৮ লাখ ১৭ হাজার ১০০ টাকা আদায় করেছিল।
প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম আশরাফ তালুকদার এ প্রসঙ্গে বলেন, ২০৯ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন সুপারিশের ভিত্তিতে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তাদের সুপারিশেও কিছু ভর্তি করা হয়েছে। তবে অভিভাবকরা বলছেন, বোনের কোটা, মুক্তিযোদ্ধার কোটা, বদলিসহ বিভিন্ন ইস্যু দেখিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। এর নেপথ্যে রয়েছে আর্থিক অনিয়ম।
গভর্নিং বডির সদস্য মুনসুর আলী বলেন, সরকারির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সুপারিশে ভর্তি করা হয়েছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কেন এই জবাব চেয়েছে তার সুষ্পষ্ট কোন ব্যাখ্যা দিতে পারেননি এই সদস্য। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, কোন প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি যদি এই অনিয়মের সাথে জড়িত থাকে এবং এটি প্রমাণ হয়, তাহলে এই কমিটি ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে বোর্ডের।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন