সাহিত্য

মানবমুক্তির জন্য আজীবন সাধনা করেছেন শওকত ওসমান

কথা সাহিত্যিক শওকত ওসমান বিশ শতকের শ্রেষ্ঠ বাঙালিদের একজন। সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদবিরোধী এ প্রবাদ পুরুষ আজন্ম শোষকের বিরুদ্ধে তার লেখনীর মাধ্যমে শোষিতের কথা বলেছেন। তার লেখনী যেমন গণজাগরণের দিশারী, তেমনি তা বিশ্বসাহিত্যে স্থান করে নিয়েছে স্বমহিমায়।

সোমবার (১৪ মে) ছিল এ কথা সাহিত্যিকের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী। দিনটি স্মরণে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও কথাশিল্পী শওকত ওসমান স্মৃতি পরিষদ আয়োজন করে স্মরণ সভার। বিকেলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে।

সভায় শওকত ওসমানকে নিয়ে জীবন ঘনিষ্ঠ আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আজিজুল হক এবং ড. বেগম আকতার কামাল। শওকত ওসমানকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন তার কণিষ্ঠ পুত্র জানেসার ওসমান।

সৈয়দ আজিজুল হক বলেন, শওকত ওসমানের জীবন ছিল সংগ্রামী। তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আজীবন লড়াই করে গেছেন। এ লেখক নিজে প্রগতির পথে হেঁটেছেন এবং জাতিকে সে পথে নিতে চেষ্টা করেছেন। একজন ঔপন্যাসিক হিসেবে তিনি জাতির মননকে বুঝে দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করেছেন।

লেখক রূপকধর্মী লেখা লিখতেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শওকত ওসমানের ‘ক্রীতদাসের হাসি’ আদমজী পুরস্কার পায়। অথচ তারা বুঝতেই পারেনি এ লেখা তাদের বিরুদ্ধেই। শওকত ওসমান সবসময়ই রূপকধর্মী লেখা লিখতে পছন্দ করতেন। তার সাহিত্যপাঠের মধ্য দিয়ে আমাদের সচেতনতা বাড়ানো উচিত।

বেগম আকতার কামাল বলেন, শওকত ওসমান জীবনে আশাবাদী ও ইতিবাচক ছিলেন। তিনি সময়কে নিয়ে চমৎকারভাবে খেলা করেছেন তার লেখনীর মধ্যে। এ লেখক প্রকৃতি ও প্রযুক্তি, দু’টো বিষয়েই সচেতন ছিলেন এবং মানবমুক্তির জন্য সাধনা করেছেন আজীবন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শওকত ওসমানের উপর একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় জাদুঘরের কিপার শিহাব শাহরিয়ার। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব ও চিফ কন্ট্রোলার


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন