অর্থনীতি

সবজির বাজারে উত্তাপ

মোবাইল কোর্টসহ সরকারের নানা পদক্ষেপ গ্রহণের পরও রাজধানীর বাজারগুলোয় কমেনি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। রমজানের ষষ্ঠ দিনে কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রথম রমজানের মতো এখনো প্রতিটি পণ্যের দামে রয়েছে ঊর্ধ্বগতি। রমজান শুরুর আগে হঠাৎ করেই রাজধানীর বাজারগুলোয় অস্থিরতা শুরু হয়। এ প্রভাব মানুষের চোখে পরে রমজানের প্রথম দিন থেকেই। রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নাগালের মধ্যে রাখতে অভিযানে নামেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। লক্ষাধিক টাকাও জরিমানা করা হয় ব্যবসায়ীদের।

বাজারগুলোয় টানানো হয়েছে মূল্য তালিকা। কিন্তু তালিকাগুলো শুধু ব্যবহার হচ্ছে ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখানোর জন্য। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সেই তালিকা মানছে না কেউই। তাই তো বাজার করতে এসে ক্রেতারা হয়ে পরছেন কিছুটা অসহায়।

এদিকে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের তুলনায় বাজারে সব পণ্যেরই যোগান বেড়েছে। কিন্তু এখনো দ্রব্যমূল্য মানুষের হাতের নাগালে আসেনি। সবচেয়ে বেশি উত্তাপ সবজির বাজারে। অধিকাংশ সবজি ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকার মধ্যে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বুধবার রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ কাঁচা বাজার হাতিরপুল বাজারে দেখা গেছে, দোকানে কাঁচা বাজারের নির্ধারিত দামের তালিকা ঝুলানো থাকলেও খেয়াল খুশি মতো চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে সব ধরনের সবজি। এখানকার সবজি বিক্রেতারা বলছেন, সবজির দাম কখনো নির্ধারিত থাকে না। চাহিদা ও মানের ভিত্তিতে সবজির দাম বেড়ে যায়।

ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজান মাসে বাজার দর কম হওয়ার কথা। ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো করে বাড়তি দামে সবজি বিক্রি করছে। বাজারটিতে সবচেয়ে চড়া দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে লম্বা আকারের বেগুণ। প্রতি কেজি বেগুন ৪৮-৭০ টাকার মধ্যে বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও বিক্রি করা হচ্ছে ১০ টাকা বেশি দরে। এছাড়া প্রতি কেজি পটল, চিঁচিঙ্গা, কাঁচা মরিচ, ঢেঁড়শ, পাকা টমেটো, বরবটি, করল্লা, কাঁকরোল বিক্রি হতে দেখা গেছে ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। দেশি পিয়াজের প্রতি কেজি ছিল ৪৫ টাকা আর বিদেশি পিয়াজ ছিল ৩৫ টাকা।  টমেটো ও কচুর লতির কেজি প্রতি ৮০ টাকা, করল্লা ও কাঁকরোলের কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পটলের কেজি ৬০ টাকা, ঢেঁড়শের কেজি ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচের প্রতি কেজি দর ছিল ৫০-৭০ টাকা।  কাঁচা পেঁপের কেজি ৫৫ টাকা, প্রতি হালি লেবু ৫০, আলুর কেজি ২৫, প্রতি পিস লাউ ও মিষ্টি কুমড়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এদিকে সব ধরনের চাল আগের চড়া দামেই বিক্রি হতে দেখা গেছে। হাতিরপুল বাজারের খুচরা সবজি ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন বলেন, কাঁচা বাজারের দামের কোনো ঠিক নাই। যেকোনো সময় দাম আরো বাড়তে পারে। রমজানে অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বেশি হওয়ায় সবজির দাম একটু ঊর্ধ্বমুখী বলে জানান তিনি। রমজান মাসে কাঁচা পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় হতাশ হয়ে এ বাজারের ক্রেতা লোকমান হাকিম বলেন, এক কেজি পেঁপে ৫০ টাকার বেশি দামে কিনতে হয়। বেগুনের দাম আরো বেশি। চালের দাম তো কমছেই না। এভাবে চলতে থাকলে জীবন চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়বে বলে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এ ক্রেতা।

ধানমন্ডিস্থ রায়ের বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজান শুরুর দিনের মতোই প্রতি কেজি দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, সোনালী (পাকিস্তানি) মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ২৫০ থেকে ৩২০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০ টাকা, খাশি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, গরুর মাংশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০০ টাকা। তবে মাছের বাজারে দাম একটু কম থাকলেও প্রতি কেজি রুই ২৮০ থেকে ৩৯০ টাকা, চিংড়ি (বাগদা-গলদা) ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকা, ছোট মাছ (কাচকি, পুটি, ট্যাংরা) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে।

এদিকে সবজির বাজারও রয়েছে কিছুটা চড়া। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, পিয়াজ ৪৫ টাকা, রসুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, আদা ১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা, প্রতি হালি লেবু ৩০ টাকা, করলা ৬০ টাকা। অন্যদিকে রমজানে ইফতারি তৈরির প্রধান সামগ্রী বেশন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৯০ টাকা।

বাজারের এই মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে রায়বাজারের সবজি বিক্রেতা আনোয়ারের দাবি, অন্য বছরের রমজানের তুলনায় এ বছরের রমজানে সবজির মূল্য ততটা বাড়েনি। দেশে চলমান বৃষ্টির জন্যই হঠাৎ করে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে সবজির দাম। মুদি দোকানি আশরাফুল বলেন, ক্রেতাদের মনে সব সময়ই একটা প্রবণতা থাকে যে রমজান আসলেই বিক্রেতা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু প্রতিবারের তুলনায় এবারে রমজানে দ্রব্যমূল্যে কিছুটা ধীরগতি রয়েছে বলে জানান তিনি।

বাজারে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ মহাজনদের বিষয়। আমরা খুচরা বিক্রেতা। আমাদের পণ্য কিনে এনে ব্যবসা করতে হয়। আমরা বেশি দাম দিয়ে কিনে আনলে, বেশি দামে বিক্রি করি আর কমে কিনলে কমে বিক্রি করি।

মূল্য তালিকার কথা বল্লে তিনি বলেন, রমজান উপলক্ষে আমাদের বেশি টাকা দিয়ে পণ্য কিনে আনতে হয়। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেটেরা তা বোঝেন না। এজন্য তাদের জরিমানার হাত থেকে রক্ষা পেতেই আমরা মূল্য তালিকা টানাতে বাধ্য হয়। কিন্তু এই তালিকা অনুযায়ী পণ্য বিক্রি করলে আমাদের ব্যবসায়ে লাভ তো দূরের কথা আসলও ঘরে তুলতে পারবো না।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন