আইন-আদালতজাতীয়সাক্ষাৎকারসারাদেশ

বদির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার প্রমাণ নেই-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার তথ্যের আরও প্রমাণ দরকার। অভিযোগ থাকলেও তার কোনো প্রমাণ নেই। তবে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইন সকলের জন্য সমান। কাউকে আশ্রয়-প্রশয় দেই না।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযান শুরুর পর গত কয়েকদিন ধরে সারাদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা মাদক বিক্রেতা বলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মাদক ব্যবসার সাথে কক্সবাজারের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য বদির সংশ্নিষ্টতা রয়েছে বলে-গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে নাম রয়েছে- এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন সাংবাদিকদেরএক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। তার বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির সংশ্নিষ্টতার তথ্যের আরো প্রমাণ দরকার। তবুও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

মন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য হলেও কেউ তো আইনের বাইরে নন। বর্তমানে একজন সংসদ সদস্য অপরাধের কারণে কয়েক বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন। নিজস্ব গতিতে বিচার কাজ চলছে। এখনো তিনি জামিন পাননি। দেশবাসী সকলেই জানেন। আইন সকলের জন্য সমান।

তিনি বলেন, কক্সবাজারের এমপি বদির বিরুদ্ধে আগেও মামলা হয়েছে। তাকেও একবার কারাগারে যেতে হয়েছে। তার সম্পর্কে আরো তথ্য উপাত্ত্য নেওয়া হচ্ছে। পর্যাপ্ত তথ্য পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবে সরকার। কেউ কিন্তু আইনের ঊর্ধ্বে নন।

সাম্প্রতিক ‘বন্দুকযুদ্ধ’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, দেশে কোনো ক্রস ফায়ার হচ্ছে ন, যা হচ্ছে বন্ধুকযুদ্ধ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখনই হাই-প্রোফাইল মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে গেছে, তারা হয় পালিয়েছেন বা যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন। আর পুলিশের ওপর আক্রমণ করলে আইনত কাউন্টার অ্যাটাক করার বিধান রয়েছে। গত কয়েকদিনে এধরনের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথ্য-প্রমাণ ভিত্তিতে কাজ করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ি কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এমনবার্তা জিরো টলারেন্স নীতি সকলকে জানানো হয়েছে। সুতরাং সে সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা বা নিরাপত্তা বাহিনীর লোক বা সাংবাদিক হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি আরো বলেন, মাদকে সংশ্নিষ্ট যেই হোক না কেন সরকার কাউকে ছাড় দেবে না। সে সংসদ সদস্য হোক বা অন্য যে কেউ হোক তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না। সঠিক প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে গ্রেফতার রা হচ্ছে। যেসব তথ্য আসছে, এর সঙ্গে প্রমাণাদি না যোগাড় করে কাউকে আটক করছি না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক বিক্রেতাদের সম্পর্কে কারোর কাছে কোন তথ্য থাকে তা আইনশৃঙ্খলা বহিনীর কাছে সরবরাহ করতে হবে। বিদ্যমান তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। শুধু সংসদ সদস্য কেন অন্য কারোর বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তা সরবরাহ করার অনুরোধ জানান মন্ত্রী।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন