প্রধান সংবাদসারাদেশ

আবার কাঁদাল পাহাড়, ভূমিধসে নিহত ১৩

পাহাড়ে মৃত্যুর মিছিল থামাতে দু’দিন আগে থেকেই মাইকিং করছিল রাঙামাটির জেলা প্রশাসন। গত বছর এ সময়ে সদরের যেসব পাহাড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল, সেটির চারপাশেই ছিল তাদের প্রচারণা। কিন্তু শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে থাকা নানিয়ারচরে ছিল না প্রশাসনের তৎপরতা। সেখানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে দিতে তাদের কোনো উদ্যোগও ছিল না।

রাঙামাটি, চট্টগ্রামসহ পাঁচ জেলায় ১৬০ জনের প্রাণহানির বর্ষপূর্তিতে আবার কাঁদাল পাহাড়। এবার রাঙামাটির নানিয়ারচর এবং কক্সবাজারের মহেশখালী ও উখিয়ায় পাহাড়ধস ও গাছচাপার পৃথক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন নারী-শিশুসহ ১৩ জন। এর মধ্যে দুই পরিবারের সাতজন মারা গেছেন। দু’দিন ধরে টানা ভারি বর্ষণে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের অন্তত অর্ধশত স্থানে ধস নেমেছে। পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি একাকার হয়ে নষ্ট করেছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের কারণে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। আংশিক চালু আছে চট্টগ্রাম ও বান্দরবান সড়ক। ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় নতুন করে আবারও পাহাড়ধসের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন অব্যাহত রেখেছে মাইকিং। রাঙামাটির বিভিন্ন স্কুল-কলেজে খোলা হয়েছে ২৪টি আশ্রয়কেন্দ্র। দুর্গত এলাকায় পাঠানো হচ্ছে ত্রাণ সহায়তা। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তুলনায় ত্রাণের পরিমাণ অনেক কম বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, ‘টানা তিন দিনের ভারি বর্ষণের কারণে নানিয়ারচরসহ রাঙামাটির বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। নানিয়ারচরে মাটিচাপা পড়ে এ পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে। এখনও যারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন, তাদের নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। দুর্গত এলাকার জন্য ত্রাণও আনা হচ্ছে।’

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘অব্যাহত বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢল একাকার হওয়ায় চট্টগ্রামের রাউজান ও ফটিকছড়িতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জেলার আরও অন্তত পাঁচটি উপজেলায় পানি প্রবেশ করেছে। আমরা দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পাঠিয়েছি। প্রয়োজনে পাঠানো হবে আরও ত্রাণ। পাহাড়ের পাদদেশে যারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে, তাদের নিরাপদে সরে যেতে তিন দিন ধরে মাইকিং করছি আমরা। সোমবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড় থেকে ৪৯০টি পরিবারের সহস্রাধিক মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। তবে এখনও ঝুঁকির মুখে পাহাড়ে আছে কয়েক হাজার পরিবার।’

নিহতদের পরিচয় :নানিয়ারচর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কোয়ালিটি চাকমা জানান, কয়েক দিন ধরে টানা ভারি বর্ষণের কারণে গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বড়পুলপাড়া, ধর্মচরণপাড়া, হাতিমারা ও চৌধুরীছড়া মোনতলাপাড়া এলাকায় পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন- নানিয়ারচর ইউনিয়নের বড়পুলপাড়ায় একই পরিবারের সুরেন্দ্র লাল চাকমা (৫৫), তার স্ত্রী রাজ্য দেবী চাকমা (৫০) ও মেয়ে সোনালী চাকমা (১৪), একই ইউনিয়নের রুমেল চাকমা (১৪); বুড়িঘাট ইউপির ধর্মচরণপাড়ায় মৃত শ্যামল বিকাশ দেওয়ানের মেয়ে ফুল দেবী চাকমা (৫০), ইতি চাকমা (১৯), পুত্রবধূ স্মৃতি চাকমা (২৩) ও তার দেড় বছরের শিশু আয়ুব দেওয়ান এবং বুড়িঘাট ইউপির হাতিমারা এলাকায় মিশন চাকমার ছেলে রিপেল চাকমা (১৪), তার বোন রীতা চাকমা (৮) ও ঘিলাছড়ি ইউপির চৌধুরীছড়া মোনতলাপাড়ায় মৃত হেম রঞ্জন চাকমার ছেলে বৃষকেতু চাকমা (৬০)। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। তবে তাদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি জেলা প্রশাসন।

আহতদের নানিয়ারচরের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন তালুকদার জানান, লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই আত্মীয়স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে, পাহাড়ধসে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের পানিরছড়ায় বাদশা মিয়া (৩৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত বাদশা মিয়া ওই এলাকার মৃত চান মিয়ার ছেলে। এ ছাড়া গাছচাপা পড়ে কক্সবাজারের উখিয়ায় বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জামতলী এলাকার হোসেন আহমদের ছেলে মোহাম্মদ আলী (২০) নিহত হয়েছেন। তিনি পাহাড় কেটে বসতি গড়েছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় বিভীষিকা :গতকালের পাহাড়ধসে স্ত্রী স্মৃতি চাকমাসহ পরিবারের চারজনকে হারিয়েছেন রিগেন দেওয়ান। পাহাড়চাপা পড়ার শব্দ শুনে তিনি দৌড়ে প্রাণে বেঁচে যান। রিগেন দেওয়ান বলেন, “সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ একটি বিকট শব্দ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ধস শুরু হয়। আমি দৌড়ে আত্মরক্ষা করি। কিন্তু ভেতর থেকে তখন ছোট ভাই ইমান দেওয়ান ‘দাদা আমাকে বাঁচান’ বলে চিৎকার করছিল। গিয়ে দেখি, তার প্রায় গলা পর্যন্ত চাপা দিয়ে রেখেছে মাটি। অনেক কষ্ট করে তাকে উদ্ধার করতে পারলেও মাটির সঙ্গে মিশে গেছে মা, বোন, বউ ও ছেলে।” রিগেন দেওয়ানের ছোট ভাই ইমান দেওয়ান বলেন, ‘মুহূর্তের মধ্যে ঘটে গেছে সবকিছু। আমাকে ভাই টেনে তুললেও সকালে গ্রামবাসীর সহায়তায় মা, বোন, ভাবি ও ভাতিজার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।’

যেভাবে উদ্ধার করা হয় হতাহতদের : নানিয়ারচর উপজেলা কিছুটা দুর্গম হওয়ায় সেখানে পাহাড়ধসের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি প্রশাসন। দুর্ঘটনার পরপর প্রথমে স্থানীয় লোকজনই উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। এরপর তাদের সঙ্গে যোগ দেয় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনার পর ঘটনাস্থলে যেতে পারলেও আরেকটি টিম সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে যেতে পারেনি।

রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিসের অতিরিক্ত পরিচালক দিদারুল আলম জানান, নানিয়ারচরে কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনার খবর পাওয়ার পর পর সেনাবাহিনীর সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম সম্মিলিতভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। তিনি আরও জানান, ভারি বর্ষণের কারণে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে কয়েকটি স্থানে মাটি পড়ে গিয়ে রাস্তা ব্লক হয়ে গেছে। এ কারণে ঘটনাস্থলে যেতে বাধার মুখে পড়েছে ফায়ার সার্ভিসের টিমও। মাটি সরাতে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের লোকজন।

যে কারণে ফের দুর্ঘটনা : রাঙামাটিসহ পাঁচ জেলায় পাহাড়ধসে ১৬০ জন প্রাণ হারানোর প্রথম বর্ষপূর্তি আজ বুধবার। গত বছর ১৩ জুন ভয়াবহ পাহাড়ধসে রাঙামাটি শহরের ভেদভেদীর যুব উন্নয়ন বোর্ড এলাকা, মুসলিমপাড়া, শিমুলতলী এলাকা, সাপছড়ি, মগবান, বালুখালী এলাকা এবং জুরাছড়ি, কাপ্তাই, কাউখালী ও বিলাইছড়ি এলাকায় পাঁচ সেনাসদস্যসহ ১৬০ জনের মৃত্যু হয়। তার আগের দিনটিতে আবার পাহাড় ট্র্যাজেডিতে নানিয়ারচরে প্রাণ গেল ১১ জনের। গত বছর নিহত হওয়া ১৬০ জনের মধ্যে ছিল না নানিয়ারচরের কেউ। সেবার পাহাড়ধসের বড় ঘটনাও ঘটেনি এ উপজেলায়। কিন্তু গতবারের ভারি বর্ষণের পর নানিয়ারচরের পাহাড়গুলোর মাটি আলগা হয়ে গিয়েছিল। এর মধ্যে আবার অনেকে পাহাড়ের মাটি কেটে নতুন করে বসতি স্থাপন করেছেন এ উপজেলায়।

উপজেলার বড়পুলপাড়া, ধর্মচরণপাড়া, হাতিমারা ও চৌধুরীছড়া মোনতলাপাড়া এলাকাতেই এমন বসতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। রাঙামাটি সদরের যেসব পাহাড়ে আগে ধস হয়েছে, সেখানে নজরদারি বাড়ায় ওখানকার অনেক মানুষ নতুন করে বসতি স্থাপন করেছেন এসব এলাকার পাহাড়ে। টানা তিন দিনের ভারি বর্ষণে তাই এবার পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটল নানিয়ারচরে। গত বছর পাহাড় ট্র্যাজেডির পর পরিবেশ অধিদপ্তর ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় গঠিত পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি তাদের রিপোর্টে ফের পাহাড়ধসের আশঙ্কা করেছিল। এ জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর ১২ দফা ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি ১৫ দফা সুপারিশ করেছিল।

উভয় কমিটি তাদের রিপোর্টে পাহাড়ে অবৈধ ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের স্থাপনা উচ্ছেদ করে স্থায়ীভাবে অন্যত্র পুনর্বাসনের মতামত প্রদান করেছিল। নতুন করে কেউ যাতে আবার পাহাড় কেটে বসতি গড়তে না পারে, সে জন্য কঠোর মনিটরিংয়েরও প্রস্তাব ছিল তাদের। পাহাড় কেটে যারা বাসা ভাড়া দিচ্ছেন, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথাও বলেছিল তদন্ত কমিটি। তবে গত এক বছরে কোনো সুপারিশই বাস্তবায়ন করেনি স্থানীয় প্রশাসন। মন্ত্রণালয় থেকেও এ ব্যাপারে ছিল না কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা। মাইকিং করে ও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় চিহ্নিত করে দায় সেরেছে স্থানীয় প্রশাসন। এ কারণে বছর না ঘুরতে আবারও ১৩ প্রাণ কেড়ে নিল পাহাড়।

কাঁদছে রাঙামাটি :গত বছর পাহাড়ধসে পাঁচ জেলায় নিহত হওয়া ১৬০ জনের মধ্যে ১২০ জনই ছিলেন রাঙামাটির বাসিন্দা। এবার আবার পাহাড়ধসে মারা যাওয়া ১৩ জনের মধ্যে রাঙামাটির আছেন ১১ জন। বছর না ঘুরতে আবার স্বজন হারানোর কান্নায় কাতর এখন রাঙামাটি। ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকলে রাঙামাটিতে আবারও ঘটতে পারে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা।

প্রশাসনের হিসাবে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে তিন হাজার ৩৭৮ পরিবারের প্রায় ১৫ হাজার লোক এখনও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে বসবাস করছে। শুধু রাঙামাটি পৌর সদরের নয়টি ওয়ার্ডের ৩৪টি এলাকায় ৬০৯টি পরিবারের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসের কথা জেলা প্রশাসনই চিহ্নিত করেছে। তাদের হিসাবে, এ জেলায় এখনও ৩১টি পাহাড়ে আছে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে চম্পানির মার টিলা, চেঙ্গির মুখ, এসপি অফিসসংলগ্ন ঢাল, মাতৃমঙ্গল এলাকা, কিনারাম পাড়া, স্বর্ণটিলা, রাজমনিপাড়া, পোস্ট অফিস কলোনি, মুসলিমপাড়া, কিনা মোহনঘোনা, নতুনপাড়া পাহাড়ের ঢাল, শিমুলতলী, রূপনগর এলাকা পাহাড়ের ঢাল, কাঁঠালতলী মসজিদ কলোনি, চম্পকনগর পাহাড়ের ঢাল, আমতাবাগ স্কুলের ঢাল, জালালাবাদ কলোনি পাহাড়ের ঢাল।

এ ছাড়া রাঙামাটি সদর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ৭৫০ পরিবারের তিন হাজার ৪২৪ জন পাহাড়ের ঢালে ঝুঁকিতে আছে। এদিকে, গত তিন দিনের ভারি বর্ষণে রাঙামাটি শহরের পুরাতন বাসস্টা্যন্ড এলাকা, চম্পকনগর, লোকনাথ আশ্রম ও ভেদভেদীসহ ২০ থেকে ২৫টি স্থানে মাটিধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ধসে যাওয়া এসব লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত সোমবার রাত ২টার দিকে রাঙামাটি শহরের কল্যাণপুর এলাকায় বিশাল ওয়াল ধসে পড়ে একটি বাড়ির লোকজন আটকা পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওয়াল ভেঙে তাদের উদ্ধার করেন।

বিচ্ছিন্ন হচ্ছে সড়ক যোগাযোগ :রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস কয়েকটি স্থানে মাটি সরিয়ে দিলেও এখনও বন্ধ রয়েছে ভারি যান চলাচল। কারণ, রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের রানীরহাট এলাকায় সড়কের ওপর পানি উঠে গেলে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া ভারি বর্ষণের কারণে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের বিভিন্ন স্থানে মাটি ধসে গিয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আংশিক বন্ধ রয়েছে বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ। মঙ্গলবার ভোর থেকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি ওঠায় খাগড়াছড়ির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশ নাজিরহাট ফাঁড়ির কর্মকর্তা মুজিবর রহমান। তিনি বলেন, প্রবল বর্ষণের সঙ্গে পাহাড়ি ঢলের কারণে ফটিকছড়িতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটু থেকে বুকসমান পানি হয়েছে। এ কারণে দু’দিক থেকেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, নাজিরহাট মাইজভাণ্ডার সড়ক, গহিরা হোয়াঁকো সড়ক, ফটিকছড়ি কাজীর হাট সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে হাঁটু থেকে বুকসমান পানি হয়ে গেছে। এদিকে সাতকানিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোবারক হোসেন জানান, বাজালিয়া এলাকায় পানি ওঠায় বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কে কোনো ছোট গাড়ি চলাচল করতে পারছে না। কিছু কিছু বড় গাড়ি চলাচল করলেও ছোট যান চলাচল বন্ধ।

পানিবন্দি লাখো মানুষ :পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি একাকার হওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য এলাকার লাখো মানুষ। ফটিকছড়িতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনেও পানি উঠেছে বলে জানান চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের নিচতলা পানির নিচে। ফলে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সাপে কাটা চার রোগীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

ফটিকছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন জানান, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পানি ওঠায় অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সড়কের পাশাপাশি ব্রিজ-কালভার্টও ভেঙে গেছে বলে জানান তিনি। এদিকে, সাতকানিয়া উপজেলার আমিলাইশ, চরতি, নলুয়া ইউনিয়নের মানুষ পুরোপুরি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রাউজানেও বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এ উপজেলার অন্তত পাঁচটি ইউনিয়ন ভাসছে পাহাড়ি ঢলে।

রাঙামাটিতে ২৪ আশ্রয়কেন্দ্র :জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন স্থানে এ পর্যন্ত ২৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এ ছাড়া কয়েকটি স্থানে আশ্রিতদের থাকার জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো তাঁবু টাঙিয়ে আশ্রিতদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে নারী, পুরুষ, শিশুসহ পাঁচ শতাধিক লোক আশ্রয় নিয়েছে।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন