জাতীয়প্রধান সংবাদ

আমার সব চিন্তা দেশের মানুষকে ঘিরে

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের দিনবদল শুরু হয়েছে। সরকারের ধারাবাহিকতার কারণেই উন্নয়ন দৃশ্যমান। তিনি বলেন, দিনবদলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকার গঠন করা আওয়ামী লীগ টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় এটা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার সব চিন্তা দেশের মানুষকে ঘিরে।’

গতকাল বুধবার ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেট ৪ লাখ ৬৪ হাজার কোটিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতি যথেষ্ট শক্তিশালী ও মজবুত বলে এত বড় বাজেট দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ আর স্বল্পোন্নত দেশ নয়, উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। সকলের মিলিত পরিশ্রমে দেশ এখানে এসেছে। এখানে প্রভু-ভৃত্য সম্পর্ক নয়, সবাই একটি পরিবার।

সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা যাতে থেমে না যায় সেজন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তার জীবনে কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। তার চিন্তা দেশের জন্য কী করা যায়, দেশের মানুষের জন্য কী কাজ করা যায়। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ছোট ভূখণ্ডের এই অর্জন কিন্তু কম নয়। সরকারের এই ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে।

সরকারের সেক্টরভিত্তিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন ১৮ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। প্রাইমারি থেকে পিএইচডি পর্যন্ত ২ কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি/উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ের এক কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর মা মোবাইলের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা পাচ্ছে। শিক্ষক-অভিভাবক ও প্রশাসনের সহায়তায় শিক্ষার্থীদের টিফিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি অন্যের কাছে হাত পাতবে কেন? এই টিফিনের ব্যবস্থা নিজেরাই করে তার প্রমাণ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, সরকার চায় কোনো মানুষ গৃহহারা থাকবে না। সবাইকে ঘর করে দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু এখনকার জন্য বা এক বছরের বাজেট নয়, একশ’ বছরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যেমন ডেল্টা প্ল্যান, এর বিস্তৃতি ২১০০ সাল পর্যন্ত। নদীমাতৃক বাংলাদেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে। দেশটাকে উন্নত করার জন্য এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ১০ বছর আগে প্রবৃিদ্ধর বিচারে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৫৮তম। এখন ১৬টি দেশকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন ভারত, চীনের মতো শক্তিশালী দেশগুলোর সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে চলে এসেছে। এই অর্জনের পেছনে আছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রচেষ্টা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু দৃশ্যমান। ‘ফ্ল্যাট ডিজাইন’ (সাধারণ নকশা) করলে এতদিনে পদ্মা সেতু হয়ে যেত। রেল যুক্ত করে দোতলা সেতু করার পরিকল্পনা করায় সময় একটু বেশি লাগছে। তিনি বলেন, জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ আগে দেওয়া হতো দেড় গুণ, এখন তিন গুণ দেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে রেলসেতু যুক্ত হওয়ায় পদ্মা সেতুর খরচ বাড়ছে। এটা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। যে টাকাই প্রয়োজন হোক, পদ্মা সেতু হবে। সরকার চায় উন্নতমানের কাজ করতে, যাতে এটি শতবছর টিকে থাকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। বাজেটে এ বিষয়ে কিছু নেই বলে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। যেহেতু সুস্থভাবে পুঁজিবাজার চলছে, সেখানে করার কী আছে। পুঁজিবাজার এখন বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট চমৎকার। এটা নিয়ে কেউ কোনো কথা বলতে পারেনি। এই বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। অর্থমন্ত্রী দীর্ঘজীবী হোন, আরও বাজেট দিন- এটা আমরা চাই।

তিনি বলেন, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ আমাদের গড়তে হবে। যে যা-ই বলুক মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এগিয়ে নিয়ে যাব।

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা ছিল। হঠাৎ করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করল। যারা গ্রাম থেকে এসেছে তারাই যদি কোটা না চায় তাহলে এর কী দরকার। এ নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে কমিটি করা হয়েছে। এত বছর ধরে যে জিনিসটা চলেছে তাকে তো রাতারাতি বদলানো যাবে না। বলেছি থাকবে না। এখন এই থাকবে না-টা কীভাবে কার্যকর করা যায় তার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরপর মফস্বলের কেউ চাকরি না পেলে সরকারকে দায়ী করতে পারবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় টাকা দিতে পারেননি বলে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এমআইটিতে দুই সেমিস্টার পড়ে আর পড়তে পারেননি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব থেকে দুঃখের কথা আমার ছেলে ব্যাঙ্গালোরে পড়ল। ব্যাঙ্গালোর ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে গ্র্যাজুয়েট হলো। এরপর কিছুদিন চাকরি করল। এরপর আরও উচ্চশিক্ষার জন্য এমআইটিতে (যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) চান্স পেল। আমি তার শিক্ষার খরচ দিতে পারিনি। আব্বার বন্ধু আমার ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার সব দায়িত্ব নিয়েছিলেন। উনি বলতেন তুমি পলিটিক্স করো। এটা আমার ওপর ছেড়ে দাও। তিনি না থাকলে আমি পড়াতে পারতাম না। এমনকি মিশনারি স্কুলে তারা পড়েছে। সপ্তাহে একদিন শুধু মাংস খেতে পারত, বাকি দিনগুলোতে সবজি বা ডাল-ভাত খেতে হতো। এভাবে কৃচ্ছ্রসাধন করে তারা বড় হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করেছে আবার চাকরি করেছে। পড়ার মাঝে গ্যাপ দিয়ে চাকরি করে আবার পড়াশোনা করেছে। গ্র্যাজুয়েশনের পরে কিছুদিন চাকরি করে স্টুডেন্ট লোন শোধ দিয়েছে। আবার ভর্তি হয়ে মাস্টার ডিগ্রি করেছে। পড়াশোনা করা অবস্থায়ও ঘণ্টা হিসেবে কাজ করেছে। প্রতি ঘণ্টা একটা ডলার পেত, সেটা দিয়ে তার চলত।

বিদ্যুৎ উৎপাদন উন্নীত হয়েছে ১৮ হাজার মেগাওয়াটে :বাসস জানায়, বর্তমানে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে ক্যাপটিভসহ ১৮ হাজার ৩৫৩ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার সংসদে তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের নূরুন্নবী চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের মে পর্যন্ত মোট ১০ হাজার ৭৩৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৯৬টি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার কার্যক্রম চলছে।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন