প্রধান সংবাদসারাবিশ্ব

কিম জং উনের দেহরক্ষীরা!

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে যখন সিঙ্গাপুরে এসে পৌঁছালেন কিম জং উন, এই কোরীয় নেতাকে নিরপাত্তা দেওয়ার জন্য তাকে ঘিরে রেখেছে একদল দেহরক্ষী। কিম জং উন নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য রয়েছে  একদল সুসজ্জিত দেহরক্ষী। যারা স্যুট পরে কিম জং আনের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তাদের নেতাকে ঘিরে বলয় তৈরি করে দৌঁড়ান, আবার তাদেরকে দেখার সুযোগ হলো বাকী বিশ্বের।

তবে এই সুদর্শন এবং সুসজ্জিত দেহরক্ষীদের কেবল চোখ ধাঁধানোর জন্যই রাখা হয়েছে বলে ভাবলে ভুল করবেন। উত্তর কোরিয়া তাদের নেতার নিরাপত্তার ব্যাপারে কোন রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ।

বিবিসি বলছে, কিভাবে এই রহস্যময় দেহরক্ষী দলের সদস্যদের বাছাই ও কিভাবে তারা কাজ করেন তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন বিশ্লেষক মাইকেল ম্যাডেন । কিম জং উন দেহরক্ষী দলকে সেন্ট্রাল পার্টি অফিস-সিক্স নামে পরিচিত। তাদের আনুষ্ঠানিক নাম অবশ্য ভিন্ন। সরকারি কাগজপত্রে উল্লেখ করা হয় ‘মেইন অফিস অ্যাডজুট্যান্টস’ বলে। কিমের একেবারে খুব কাছে তাকে ঘিরে একটি বৃত্ত তৈরি করে রাখেন তারা।

কোরিয়ান পিপলস আর্মির বাছাই করা সদস্যদের নিয়ে তৈরি করা হয় এই দেহরক্ষী দল। কিমের শারীরিক উচ্চতা অনুযায়ী, দেহরক্ষী দলের সদস্যদের তেমন উচ্চতা হতে হবে। তাদের দৃষ্টিশক্তি হতে হবে প্রখর, তবে চোখে সমস্যা থাকলে চলবে না।

সদস্য বাছাই করা হয় আরও অনেক ধরণের দক্ষতার ভিত্তিতে। যেমন মার্কসম্যানশিপ। কত দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে বন্দুকের গুলি চালিয়ে লক্ষ্যভেদ করতে পারেন তারা। এর পাশাপাশি দেখা হয় মার্শাল আর্টে তাদের দক্ষতা।

দেহরক্ষী হিসেবে বাছাই করার আগে তার এবং পুরো পরিবারের কয়েক প্রজন্মের ব্যাকগ্রাউন্ড ভালোভাবে যাচাই করা হয়। দেহরক্ষীদের অনেকেই কিম জং উনের নিজ পরিবার বা উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীনদের পরিবারের সদস্য বা আত্মীয় হোন।

দেহরক্ষী হিসেবে বাছাই করার পর তাদের খুবই নিবিড় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। কোরিয়ান পিপলস আর্মির স্পেশ্যাল অপারেশন ফোর্সেস এর সদস্যদের যে ধরণের প্রশিক্ষণের ভেতর দিয়ে যেতে হয়, এই দেহরক্ষীদেরও সেই একই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

কিম জংকে ঘিরে সাধারণত একটি বৃত্ত তৈরি করে রাখেন দেহরক্ষীরা। যেসব লোকজন কিমের কাছাকাছি থাকেন, তাদের সারাক্ষণ নজরে রাখেন এরা। তিনি যখন গাড়িতে থাকেন, এরা আগে আগে এবং পাশাপাশি দৌড়াতে থাকতে দেখা যায়। আর তার সঙ্গে থাকে চার থেকে ছ’জন দেহরক্ষী। এদের মধ্যে দেহরক্ষী দলের প্রধানও আছেন।

উত্তর কোরিয়ায় কিম জং উনের কাছাকাছি থাকা লোকজনের মধ্যে এই দেহরক্ষী দলের সদস্যরাই একমাত্র সেমি-অটোমেটিক হ্যান্ডগান বহন করতে পারে।দেহরক্ষীরা সাধারণত পশ্চিমা ধাঁচের স্যুট-টাই পরে থাকেন। কিমের গাড়ীচালকের পড়নে থাকে লিনেনের স্যুট এবং হাতে থাকে চামড়ার দস্তানা।

দেহরক্ষী দলের সদস্য সংখ্যা আনুমানিক দুশো হতে তিনশো। সাধারণত একজন সদস্য দশ বছর পর্যন্ত কাজ করেন। এছাড়াও দেহরক্ষীদের দ্বিতীয় একটি দল আছে, যার নাম গার্ড কমান্ড।এরা কিমের চারপাশে দ্বিতীয় ধাপের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে।

সাধারণ কিম জং  যখন কোন জায়গায় যান, সেই জায়গাটিকে তার জন্য নিরাপদ করাই এদের কাজ। সেটা অফিস ভবন কিংবা, কারও ব্যক্তিগত বাড়ি বা উত্তর কোরিয়া কিংবা দেশের বাইরেও হতে পারে।

গার্ড কমান্ডের আরও অনেক কাজ আছে। কিম জং উনের ব্যক্তিগত প্রয়োজনের যাবতীয় জিনিস বহন এবং যোগানো তাদের কাজ।এদের বাছাই এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে দেহরক্ষীদের মতো একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।

সিঙ্গাপুরে কিমের সাম্প্রতিক সফরের সময় দেখা গেছে, তার সঙ্গে উত্তর কোরিয়া থেকে তিনটি বিমান এসেছিল। সেখানে একটি বিমান ছিল এই গার্ড কমান্ডের লোকজনে ভার।এরা  কিমের জন্য গোপন ও সুরক্ষিত টেলিফোন লাইনের ব্যবস্থা করা থেকে শুরু করে তার কম্পিউটার এবং আইটি সুবিধা জোগানো, সব কিছুই করে থাকে।

সেই সঙ্গে কিমের জন্য পানীয়, খাবার, সিগারেট থেকে শুরু করে  তার সব চাহিদা মেটান তারা।দলে থাকেন কিমের ব্যক্তিগত চিকিৎসকও।কিম পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে স্যুট পরে দৌঁড়ানো দেহরক্ষীদের তৎপরতাই হয়তো বেশি চোখে পড়ে। কিন্তু এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের চেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে দেখা গেলও তারা কিন্তু চোখের আড়ালেই থাকেন।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন