সারাদেশ

কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই ডুবছে চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পর পর তিনবার মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়েই লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিএনপির মন্‌জুর আলম মঞ্জুর কাছে পরাজিত হন তিনি। বিশ্নেষকদের দাবি, নির্বাচনের আগে সপ্তাহব্যাপী টানা জলাবদ্ধতাই মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ। আবার একই কারণে আওয়ামী লীগের আ জ ম নাছিরের কাছে ধরাশায়ী হন বিএনপির মন্‌জুর আলমও। তারপরও ভাগ্য বদল হয়নি এ জনপদের ৬০ লাখ অধিবাসীর। এ অবস্থায় জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব দেওয়া হয় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (সিডিএ)। দেওয়া হয় মেগা প্রকল্পে ৫ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দও। তবে এত কিছুর পরও সেই পানির নিচেই ডুবছে চট্টগ্রাম নগরী। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে বিগত দুই দিনে পানিহীন কোনো সড়ক দেখা যায়নি নগরীতে। সড়কে অতিরিক্ত পানি জমে থাকায় বাস-টেম্পোর পরিবর্তে রাস্তায় চলে নৌকা।

এই প্রসঙ্গে চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, তারা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন। তবুও কোথাও কোথাও জলজট সৃষ্টি হচ্ছে। অবশ্য পুরোপুরি নিরসন না হলেও জলাবদ্ধতার পরিমাণ ও স্থায়িত্ব দুটিই অনেক কমে এসেছে। সিডিএর মেগা প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে জলাবদ্ধতা বলতে কিছুই থাকবে না নগরীতে।

একই প্রসঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আবদুচ ছালাম বলেন, নগরবাসীর দুঃখ বিমোচনকারী মেগা প্রকল্পের কাজ সবেমাত্র শুরু হয়েছে। প্রকল্পটি শেষ হওয়ার পরই কাঙ্ক্ষিত সুফল পাবে নগরবাসী। অন্তর্বর্তীকালীন সাময়িক এই দুর্ভোগ বৃহত্তর স্বার্থে নগরবাসীকে সহ্য করতে হবে।

এদিকে গত রোববার ভোররাতে শুরু হওয়া দুই দিনের মাঝারি ও

ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে যথারীতি নগরীর আগ্রাবাদ হালিশহর এলাকার বড়পোল, ছোটপোল, সিডিএ আবাসিক এলাকা, চকবাজার, বাদুরতলা, ষোলশহর, পশ্চিম বাকলিয়া, পূর্ব বাকলিয়াসহ নগরীর নিম্নাঞ্চলে জলজট দেখা দিয়েছে। কালুরঘাট শিল্প এলাকা ও নাসিরাবাদ শিল্প এলাকায় অনেক কারখানায় পানি ঢুকে পড়ায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। আসন্ন ঈদুল ফিতরের চলমান জমজমাট বাজারে ব্যাহত হয় ফুটপাতে ঈদের কেনাকাটা। এতে জলজটের কারণে শিল্পকারখানা ও অফিস আদালতগামী লোকজন ছাড়াও পথচারীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

সরেজমিন নগরীর চকবাজার, পশ্চিম বাকলিয়া ও আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকায় গিয়ে দেখা যায় কোথাও এক ফুট, কোথাও দেড় ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। ষোলশহর দুই নম্বর গেট ও হালিশহর কিছু এলাকায় কোমড়পানি উঠতেও দেখা গেছে। নগরীর বাদুরতলা চকবাজার কাঁচাবাজার, দেওয়ানবাজার, বাকলিয়া শান্তিনগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কজুড়েই পানি আর পানি। আবার কোনো স্থানে নালা সংস্কারের অংশ হিসেবে নতুন করে দেয়াল তুলে দেওয়া হচ্ছে, নালাগুলোতে তাই পানি নিস্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে সড়কেই জমে থাকছে পানি। কোথাও নালা থেকে তোলা মাটির বাঁধও উপচে পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। সেসব স্থানে পথচারীদের হেঁটে চলাও কঠিন হয়েছে। কারণ, ডুবে যাওয়া নালায় পড়ে যাওয়ার শঙ্কা। এসব কারণে কোনো কোনো স্থানে যোগাযোগই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন