জাতীয়

ঘরমুখো মানুষের ঢল কমলাপুরে

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার কিছুক্ষণ পরে থামল রাজশাহীগামী সিল্ক্কসিটি এক্সপ্রেস। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হলো মানুষের দৌড়াদৌড়ি, ট্রেনে ওঠার প্রতিযোগিতা। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ট্রেন পূর্ণ হয়ে গেল। আরেকটি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো ময়মনসিংহগামী একটি ট্রেন। ট্রেনটি যাত্রার সময় দেখা গেল ছাদে মানুষ, দরজায় হাতল ধরে ঠেলাঠেলি করেও যাচ্ছেন অনেকে।

কর্মকর্তারা জানালেন, মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে ভিড় বেড়েছে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো সিলেট, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহগামী ট্রেনগুলোতে যাত্রী ছিল ঠাসা। পুরো স্টেশন চত্বরে ছিল ঘরমুখো মানুষের স্রোত।

তবে এদিন মহাখালী, গাবতলী এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলোতে যাত্রীর বাড়তি চাপ ছিল না বলে জানিয়েছেন পরিবহন সংশ্নিষ্টরা। এই তিনটি টার্মিনালের মধ্যে শুধু গাবতলী টার্মিনালেই কিছুটা ভিড় দেখা গেছে। পরিবহন সংশ্নিষ্টরা বলছেন, বেশিরভাগ টিকিট বিক্রি হয়েছে এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার

অতিরিক্ত ট্রিপ রয়েছে। ওই দুই দিন যাত্রীর ভিড় বেশি হবে বলে জানান তারা।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী জানান, মঙ্গলবার সারা দিনে ৩১টি আন্তনগর ট্রেনসহ ৬৬টি ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা। বেলা সাড়ে ১২টার মধ্যে ২৩টি ট্রেন ছেড়ে যায়। দুটি ট্রেন ছাড়তে কিছুটা দেরি হয়েছে। তিনি জানান, অন্যান্য দিনের তুলনায় ভিড় কিছুটা বেশি ছিল এ দিন। গত ৩ জুন যারা অগ্রিম টিকিট কেনেন তারাই গতকাল ভ্রমণ করেছেন।

মহাখালী বাস টার্মিনালে লম্বা লাইন দিয়ে যাত্রীদের টিকিট কাটতে দেখা গেল ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া এনা পনিবহন, আলম এশিয়া প্রভৃতি বাসের। এনা পরিবহনের ম্যানেজার আতিক জানান, এখানে অগ্রিম টিকিট দেওয়া হয় না। যাত্রীরা এসে লাইন ধরে টিকিট কাটেন। তার মতে এখন (মঙ্গলবার) যে ভিড় দেখছেন তা স্বাভাবিক। মূল ভিড় শুরু হবে বুধবার থেকে।

সরেজমিনে দেখা গেল, গাবতলী টার্মিনালে যাত্রীদের বসার সুব্যবস্থা নেই। অনেকেই ব্যাগের ওপর বসেছেন, অনেকে সামান্য ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন। পরিবহন সংশ্নিষ্টরা জানান, যাত্রীদের বসার জায়গায় অস্থায়ী দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালেও যাত্রীর স্বাভাবিক চাপ ছিল বলে সংশ্নিষ্টরা জানান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও ছিল প্রচণ্ড ভিড়। লঞ্চ পরিবহন সংশ্নিষ্টরা জানান, আগামী তিন-চার দিনই প্রচণ্ড ভিড় হবে। মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত কেবিনের সব টিকিটই বিক্রি হয়ে গেছে।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন