জাতীয়

দুই ফেরিঘাটে দীর্ঘ হচ্ছে গাড়ির সারি

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের ঈদের অর্ধেক আনন্দ ফিকে যায় দুই প্রধান নৌরুট দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ও শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে নানা দুর্ভোগের শিকার হন যাত্রীরা। গতকাল মঙ্গলবারও এ দুই ঘাটে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। চাপ বাড়তে থাকায় আস্তে আস্তে দীর্ঘ হচ্ছে গাড়ির সারি। এদিন ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় যানবাহনের সারি কয়েক কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। এদিকে, যাত্রীবাহী গাড়ি নির্বিঘ্নে পারাপারের জন্য আজ বুধবার থেকে এ দুই ঘাটে পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা।

শিবালয় (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, বর্তমানে ১৯টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাঝেমধ্যেই বিকল হয়ে দু-একটি মেরামতের জন্য ভাসমান কারখানা মধুমতিতে পড়ে থাকছে। ফলে ফেরিস্বল্পতার কারণে যানবাহন কম পারাপার হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে রাস্তায়। দেখা দিয়েছে দীর্ঘ যানজট। গতকাল ফেরি পারাপারের জন্য বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বাস ও কোচের দীর্ঘ সারি ঢাকা মহাসড়কের নবগ্রাম পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বিস্তৃত হয়ে পড়ে। তবে ঘাট কর্তৃপক্ষ বলছে, আজ বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত- এ তিন দিন সবচেয়ে বেশি যাত্রী ও যানবাহনের চাপ থাকবে। এরপর পরিস্থিতি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তারা আরও বলেন, এবার প্রতিবছরের চেয়ে ছুটির পরিমাণ কম হওয়ায় অনেকে অগ্রিম ছুটি নিয়ে দু-চার দিন আগেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। প্রতিবছর ঈদের দু-তিন দিন আগে পাটুরিয়া

ঘাট এলাকায় যানবাহন ও যাত্রীদের ভিড়ের কারণে পা ফেলার জো থাকে না। তবে এবারের পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ নয়।

আরিচা অফিসের বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল হক অপু জানান, এ নৌরুটে চলাচলরত ফেরিগুলো দীর্ঘদিনের পুরনো। এ কারণে মাঝেমধ্যেই দু-একটা ফেরি বিকল হয়ে পড়ে। ফেরি বিকল থাকলে যানবাহন পারাপার কম হয়।

আরিচা অফিসের বিআইডব্লিউটিসির ডিজিএম আজমল হোসেন জানান, এ নৌরুটে বর্তমানে ১৯টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। আসন্ন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের কারণে বিভিন্ন যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘাট এলাকায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আজ বুধবার খানজাহান আলী নামে আরও একটি রো রো ফেরি বহরে যোগ হবে। এতে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গতকাল দুপুরে ঘাটের পরিস্থিতি এবং নদীপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখতে সরেজমিনে গিয়েছেন নৌ-পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মাহবুবুর রহমান, নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আরেফ, মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীমসহ বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এদিকে, যাত্রীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ অংশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কের শিবালয় উপজেলার টেপড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশ ব্যক্তিগত ছোট গাড়িগুলোকে টেপড়া-নালী সড়ক দিয়ে চলাচলে সহায়তা করছে। এসব ছোট গাড়ি পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাট দিয়ে নদী পার করা হচ্ছে।

মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম বলেন, যাত্রী পারাপার নিশ্চিত করতে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক চলাচল বন্ধ রাখা হবে। এ ছাড়া জরুরি ও সরকারি কাজে নিয়োজিত ট্রাক ছাড়া সব ধরনের ট্রাক পারাপার বন্ধ রাখা হবে।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গতকাল বিকেল থেকে বৈরী আবহাওয়ায় প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়ায় উত্তাল হয়ে ওঠে পদ্মা। বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে পদ্মার বুকে। সঙ্গে রয়েছে প্রচণ্ড ঘূর্ণয়মান স্রোত। এ অবস্থায় ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। কমে যাচ্ছে ফেরির গতি। এসব কারণে যানবাহনের সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। তবে আজ-কালের মধ্যে আবহাওয়া অনুকূলে এলে এ অবস্থার পরিবর্তন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উত্তাল নদীতে রাতের আঁধারেই যাত্রী পারাপার করছে স্পিডবোটগুলো। এ ছাড়া নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়েরও অভিযোগ পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে মাওয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শরজিৎ কুমার বিশ্বাস জানান, সন্ধ্যার পর স্পিডবোট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তা বন্ধ রাখা হয়। তারপরও চলাচল করে থাকলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, স্পিডবোট চালানোয় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আজ বুধবার থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন