খেলা

বিপর্যস্ত স্পেনের সামনে পর্তুগাল

স্পেন ফুটবলে অস্থিরতা! অন্তর্কলহ! হুয়ান লোপেতেগুইকে বরখাস্ত করার পর স্প্যানিশ মিডিয়াগুলোয় এমন শিরোনাম উঠে আসে। লোপেতেগুইয়ের অধীনে লা ফুরিয়া রোজারা ফিরে পেয়েছে হারানো ছন্দ; তিকিতাকা ফুটবল। বিশ্বজয়ের স্বপ্নও দেখতে শুরু করে স্প্যানিশরা। তার অধীনে এই স্পেন ছিল অপরাজেয়। কিন্তু রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান লুইস রুবিয়ালসের কথা, লোপেতেগুই বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। সংস্থাটিকে না জানিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে কথা পাকাপাকি করেছেন। যে কারণে ছাঁটাই হয়ে মূল্য দিতে হলো তাকে। তার জায়গায় স্পোর্টিং ডিরেক্টর ফার্নান্দো হিয়েরোকে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন। কিন্তু দলটা যে এখন ভেঙে গেল। সার্জিও রামোস-আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের যে বীজ বপন করেছিলেন লোপেতেগুই, তা এক ঝড়েই নষ্ট হয়ে গেছে। মানসিকভাবে বড় ধাক্কা খেয়েছে স্প্যানিশরা। বিশ্বকাপের আগে বিপর্যস্ত লা ফুরিয়া রোজারা। রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষা স্পেনের। গ্রুপ ‘বি’-তে প্রতিপক্ষ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। সোচিতে বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১২টায় আইবেরিয়ান ডার্বিতে মুখোমুখি হবে ২০১০ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ও পর্তুগাল।

প্রতিযোগিতা আসরে শেষ ২০ ম্যাচ অপরাজিত স্পেন। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর ২৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে হেরেছে রোনালদোর পর্তুগাল। এই ম্যাচের আলোচনার বিষয়বস্তু হতে পারত সার্জিও রামোস ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের টানা তিনটি শিরোপা এনে দিয়েছেন তারা। আজ একে অপরের প্রতিপক্ষ। রোনালদোকে থামানোর জন্য প্রস্তুত রামোস এবং তার ক্লাব প্রতিদ্বন্দ্বী জেরার্ড পিকে। কিন্তু এসব নিয়ে খুব একটা আলোচনা হচ্ছে না। ঘরের আগুন নেভাতেই যে হিমশিম খেতে হচ্ছে লা ফুরিয়া রোজাদের। কারণ স্পেন দলটা দুই ভাগে বিভক্ত- একটা বার্সেলোনা, আরেকটা রিয়াল মাদ্রিদ। লোপেতেগুই রিয়ালের কোচ হওয়ার খবরটা ভালোভাবে নেননি বার্সেলোনার ফুটবলাররা। যদিও টুইটারে সার্জিও রামোস বিবাধের গুঞ্জন উড়িয়ে একতার সুর বাজিয়েছেন, ‘আমরা জাতীয় দল। আমরা একটা রং, সমর্থক দেশের প্রতিনিধিত্ব করি। দায়িত্ব ও দ্বায়বদ্ধতা আপনার সঙ্গে থাকে…গতকাল, আজ ও আগামীকাল, এক সঙ্গেই আছি।’

লোপেতেগুই এক ছকে খেলিয়েছেন। ২০১৪ বিশ্বকাপ ও ২০১৬ ইউরোয় ব্যর্থ স্পেনকে এক ছাদের নিচে নিয়ে এনেছিলেন। দলটা ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। টিম হিসেবে খেলে সাফল্যও পাচ্ছিল লা ফুরিয়া রোজারা। বাছাইপর্বে দুর্দান্ত দাপট দেখিয়ে বিশ্বমঞ্চের টিকিট কাটে। কিন্তু কোচ পরিবর্তন হওয়ায় অস্থিরতা বিরাজ করছে খেলোয়াড়দের মধ্যে। জেরার্ড পিকে-ইনিয়েস্তাদের ধারণা ট্যাকটিক্যালিও পরিবর্তন আনবেন ভারপ্রাপ্ত কোচ হিয়েরো। অনেকের মধ্যেই হা-হুতাশ শুরু হয়ে গেছে। লোপেতেগুইকে বরখাস্ত করার বিষয়টি মানতে পারেননি ফুটবলাররা। তবে দায়িত্ব পেয়েই শিষ্যদের আশ্বস্ত করেছেন হিয়েরো। কোচ নিয়ে হা-হুতাশ না করে চ্যালেঞ্জটা জিততে সবাই এক হওয়ার আহ্বান তার, ‘ছেলেরা বিশ্বকাপের জন্য অধীর হয়ে আছে। চ্যালেঞ্জটা তারা চায়। এটা সবার জন চ্যালেঞ্জ; হা-হুতাশ করার সময় নেই। আমাদের ইতিবাচক হতে হবে, মতামতের এখানে কোনো মূল্য নেই। দলে যে খেলোয়াড় আছে এবং আমরা যেটার প্রতিনিধিত্ব করি, সেটা নিয়ে ভাবতে হবে।’ বিশ্বকাপের আগে আচমকা কোচ ছাঁটাইয়ের ঘটনার কোনো প্রভাব পড়বে না বলেই বিশ্বাস স্পেনের ভারপ্রাপ্ত এ কোচের। বিশ্বকাপে এই স্পেনকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন তিনি, ‘আমরা বিশ্বকাপের জন্য লড়াই করতে এসেছি। দল মুখিয়ে আছে। আমাদের দারুণ সুযোগ আছে এবং সেটার ওপর আমাদের নজর দিতে হবে। আমি জানি বিশ্বকাপে ছেলেরা মনপ্রাণ উজাড় করে খেলবে এবং শতভাগ মেলে ধরবে। আমি যে সাড়া পেয়েছি তা চমৎকার। এটা একটা ঐক্যবদ্ধ দল এবং ছেলেরা তাদের লক্ষ্যের কথা জানে।’

যাকে নিয়ে এত সমস্যা, সেই লোপেতেগুই স্পেনের ক্যাম্প ছেড়ে চলে গেছেন। যাওয়ার আগে একটা আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয় ক্রাসন্দরে। একে একে সবাই লোপেতেগুইকে বিদায় জানান। এই দলকে নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন লোপেতেগুই, ‘আমি খুবই ব্যথিত। তবে আমরা দারুণ একটা টিম এবং আশা করি এই দলটা বিশ্বকাপে জিতবে।’

বিদায় বেলায় শুভকামনা জানিয়েছেন। রেখে গেছেন গোছানো একটা দল। তার বিস্ম্ফোরক সিদ্ধান্তের পর স্প্যানিশ ফুটবল সংস্থার বরখাস্ত করার ঘটনা না ঘটলে পর্তুগালের বিপক্ষে আজকের ম্যাচে এগিয়ে রাখা যেত স্পেনকেই। এর আগে ফুটবলের বড় আসরে (বিশ্বকাপ ও ইউরো) তিনবারই মুখোমুখি হয়েছিল দু’দল। ২০১০ বিশ্বকাপে স্পেন জিতেছিল আর ২০১২ ইউরো হয়েছিল ড্র। যদিও টাইব্রেকারে পরে জিতেছিল লা ফুরিয়া রোজারা। আর পর্তুগাল ২০০৪ সালের ইউরোতে স্প্যানিশদের হারিয়েছিল। আজ হিসাবটা বদলে দিতে পারেন রোনালদো।

ম্যাচ ফ্যাক্টস
– বিশ্বকাপে একবারই মুখোমুখি হয়েছিল স্পেন ও পর্তুগাল। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা আসরে দ্বিতীয় রাউন্ডে ডেভিড ভিয়ার গোলে পর্তুগালকে হারিয়েছিল লা ফুরিয়া রোজারা।
– ফুটবলের বড় আসরে (বিশ্বকাপ ও ইউরো) চতুর্থবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পর্তুগাল ও স্পেন। এর আগে দু’বার ইউরো এবং একবার বিশ্বকাপে খেলেছিল দু’দল। মেজর টুর্নামেন্টের আগের তিন লড়াইয়ে একবারই জিতেছিল পর্তুগাল, ২০০৪ সালের ইউরোতে।
– চতুর্থ দেশ হিসেবে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং বিশ্বকাপ জয়ের সামনে পর্তুগাল। ২০১৬ সালে ইউরো জিতেছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল। এর আগে ইউরোর পর বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়েছিল জার্মানি (ইউরো ১৯৭২, বিশ্বকাপ ১৯৭৪), ফ্রান্স (বিশ্বকাপ ১৯৯৮, ইউরো ২০০০), স্পেন (ইউরো ২০০৮, বিশ্বকাপ ২০১০ এবং ইউরো ২০১২)।
– স্পেনের বিপক্ষে আগের তিন লড়াইয়ে গোল পাননি পর্তুগালের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন