খেলাপ্রধান সংবাদ

মাশরাফিদের দায়িত্ব নিতেই আসছেন রোডস

নিজস্ব প্রতিেবেদক: চন্ডিকা হাথুরুসিংহে সরে দাঁড়ানোর মাস দুয়েকের মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) সাক্ষাৎকার দিয়ে গেছেন রিচার্ড পাইবাস ও ফিল সিমন্স। দু’জনের একজনকেও পছন্দ হয়নি বিসিবির। আগামীকাল বা আগামী পরশু সাক্ষাৎকার দিতে আসছেন আরও একজন, স্টিভ রোডস। তিনি অবশ্য আগের দু’জনের মতো এতটা পরিচিত নন। তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সাকিব-মুশফিকদের হেড কোচের দায়িত্বটা তিনিই পেতে যাচ্ছেন। বিসিবির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করতেই নাকি আসছেন সাবেক এ ইংলিশ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।

সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা তিনজনের মধ্যে রোডস বিসিবির এক নম্বর পছন্দ। কোচ নিয়োগ বিষয়ে বিসিবির পরামর্শক গ্যারি কারস্টেনের ভোটও রোডসের পক্ষে। তালিকায় থাকা অন্য কোচদেরও ডাকা হচ্ছে না। তাই তিনিই যে বাংলাদেশ জাতীয় দলের পরবর্তী কোচ হতে যাচ্ছেন, সেটা অনেকটাই নিশ্চিত। গতকাল বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরীও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে কোচের জন্য অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে, ‘স্টিভ রোডস আমাদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন। আশা করছি আগামী দু-এক দিনের মধ্যে বোর্ডের সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করবেন। মূলত প্রধান কোচের পদে সাক্ষাৎকারের জন্য তাকে ডাকা হয়েছে। চূড়ান্ত সাক্ষাৎকার দিতে যখন কেউ আসেন, মৌলিক কিছু ব্যাপারে তার সঙ্গে একমত হয়েই আনা হয়। সেটা সবার ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। আপনারা অতীতে দেখেছেন পাইবাস-ফিল সিমন্স এসেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় রোডস এসেও নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্নিষ্ট যারা আছেন তাদের সঙ্গে দেখা করে উনার প্রেজেন্টেশন (উপস্থাপনা) দেবেন। সেভাবেই তার সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামী বিশ্বকাপ ও টি২০ বিশ্বকাপে বোর্ড কী চায় তা তাকে জানানো হবে, তিনি যেভাবে চান সেটাও জানাবেন।’

কেন রোডসকে হেড কোচ হিসেবে চিন্তা করা হচ্ছে সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন প্রধান নির্বাহী, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা বেশ কয়েকজন কোচের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, সেখানে বড় নাম ও অভিজ্ঞতা দুটোই ছিল। কিন্তু নানা কারণে তাদের পাওয়া সম্ভব হয়নি। এ মুহূর্তে যে কয়জনকে পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে রোডস অভিজ্ঞদের একজন। তার অভিজ্ঞতাকেই আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। আগামী বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডে হবে, এটাও বিবেচ্য বিষয়। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনের কাউকে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।’ বাংলাদেশের কোচের হতে নিজের আগ্রহের কথা ক্রিকইনফোর কাছে স্বীকার করেছেন রোডসও, ‘আমি নিশ্চিত করতে পারি, বাংলাদেশের সঙ্গে কথা হয়েছে। এটাও নিশ্চিত করতে পারি, আমি আগ্রহী। আমার মতে, এটা দারুণ সম্মানজনক একটা দায়িত্ব। তবে এই মুহূর্তে কিছুই নিশ্চিত নয়। কারও উচিত নয় পূর্বানুমান করে এটাকে নিশ্চিত ধরে নেওয়া।’ তবে সবকিছু ঠিক থাকলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যাওয়ার আগেই টাইগারদের ক্যাম্পে রোডসকে দেখা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী। হাথুরু চলে যাওয়ার পর বিসিবি প্রথমে প্রস্তাব দিয়েছেন টম মুডি, মাহেলা জয়াবর্ধনে, কুমার সাঙ্গাকারা, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার ও জাস্টিন ল্যাঙ্গারকে। তারা সাড়া না দেওয়ায় রিচার্ড পাইবাস ও ফিল সিমন্সের সাক্ষাৎকার নিয়েছিল বিসিবি। কিন্তু দু’জনকেই মনে ধরেনি বিসিবির। এরপর পল ফারব্রেস রাজি হয়েও পারিবারিক সমস্যা দেখিয়ে পিছিয়ে যান।

বাংলাদেশিদের কাছে নতুন হলেও ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাঙ্গনে ভীষণ পরিচিত মুখ রোডস। আগামী সপ্তাহে ৫৪-তে পড়তে যাওয়া রোডস ইংল্যান্ডের হয়ে ১১টি টেস্ট ও ৯টি ওয়ানডে খেললেও তার প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ার বেশ সমৃদ্ধ। ১৯৮৫ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত টানা ১৯ বছর খেলেন কাউন্টি দল উস্টারশায়ারে। ২০০৬ সালে কোচ হিসেবে যোগ দেন উস্টারেই। কোচিংয়ে তিনি খেলোয়াড়ি জীবনের সাফল্যকে ছাপিয়ে যান। টানা এক যুগ পালন করেছেন উস্টারশায়ারের ডিরেক্টর অব ক্রিকেটে দায়িত্ব। তবে উস্টারের সঙ্গে তার প্রায় ৩৩ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন হয় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায়। তরুণ ক্রিকেটার এলেক্স হপবার্নের ধর্ষণ মামলার কথা ক্লাব কর্তৃপক্ষকে দেরি করে জানানোয় তাকে বরখাস্ত করা হয়। এর পরই ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড প্রতিভা অন্বেষণে কাজে লাগাচ্ছে তাকে।

 

 

দেশরির্পাট/দিদারুল


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন