খেলাপ্রধান সংবাদ

মেসিকে আটকানোর ফর্মুলা নেই

জন্ম তার সুইজারল্যান্ডে। পেশাদার ক্যারিয়ার শুরুও সুইস ক্লাব বাসেলের হয়ে। তবে ইভান রাকিটিচ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বেছে নিয়েছেন পিতৃভূমি ক্রোয়েশিয়াকেই। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা ক্রোয়েশিয়া রাশিয়া বিশ্বকাপে নামছে ‘ডি’ গ্রুপের মাধ্যমে। এখানে রাকিটিচকে খেলতে হবে বার্সেলোনার ক্লাব সতীর্থ লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা, ইউরোপিয়ান বাছাইয়ে একই গ্রুপে থাকা আইসল্যান্ড এবং আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার বিপক্ষে। স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাকিটিচ কথা বলেছেন গ্রুপ প্রতিপক্ষ, নিজেদের সম্ভাবনা আর বিশ্বকাপের অন্য ফেভারিটদের নিয়ে। বলেছেন সপ্তাহখানেক আগে প্রস্তুতি ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া ব্রাজিল সম্পর্কেও।

বিশ্বকাপের জন্য ক্রোয়েশিয়া কতটা প্রস্তুত?

রাকিটিচ : আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। দলের সবাই দারুণ কিছু করার জন্য প্রত্যয়ী। আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি। আমাদের খেলোয়াড়রাও উচ্চমানসম্পন্ন। বিশ্বের সেরা ক্লাবগুলোর খেলোয়াড় আছে কয়েকজন। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে প্রতিযোগিতা করার মতো অভিজ্ঞতা ভালোমতোই আছে।

কোচ দালিচ আপনাদের জন্য কী এনে দিয়েছেন?

রাকিটিচ: সব কোচেরই ভিন্ন ভিন্ন আইডিয়া আছে। দালিচ একজন তরুণ কোচ হলেও সত্যিই ভালো করছেন। তিনি সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে অভ্যস্ত। তার কাছে যোগাযোগটাই সবচেয়ে বড়। তিনি খেলোয়াড়দের সঙ্গে মিশতে পছন্দ করেন। আমরাও তাকে পছন্দ করি। আমাদের তার পাশে থাকা উচিত।

আক্রমণ, রক্ষণ নাকি মানসিকতা : বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় সফল হতে কোন জিনিসটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

রাকিটিচ :সব কিছুই কিছু করে দরকার। কারণ সবই গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় দলের দায়িত্বটা কিন্তু ভিন্ন রকমের হয়। এখানে সব কিছুকে ভিন্নভাবে দেখতে হয়, কারণ ক্লাবের মতো এখানে দিন ধরে ধরে কাজ করা যায় না। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে কী করতে হবে সে সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা থাকা আর ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া। ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলে যারা আছে, তাদের অধিকাংশই ভিন্ন ভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলে। স্পেনে যেটা আছে, জাতীয় দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই রিয়াল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনার। এজন্য তারা জাতীয় দলে ফুটবল দর্শনটা কাজে লাগাতে পারে। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা তেমনটা নয়।

বলকান দলগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিশেষ ক্ষমতা আছে?

রাকিটিচ :এই শক্তিটা বলকান দেশগুলোর সবসময়ই ছিল। এটা আমাদের বিশেষ এক পাওয়া। তবে ভুলে গেলে চলবে না বিশ্বকাপে সবাই এক লক্ষ্য নিয়েই নামছে। এখানে এমন কোনো দল নেই যারা বলতে পারবে আমাদের এখানে এনে তোলা হয়েছে। রাশিয়াতে আমরা সারপ্রাইজ প্যাকেজ হতে চাই।

লুকা মডরিচের সঙ্গে এটিই কি আপনার শেষ রসায়নের মঞ্চ?

রাকিটিচ :হতে পারে। এরই মধ্যে আমি ১১ বছর কাটিয়ে ফেলেছি। আমি দেখতে চাই এবারের আসরে আমরা কতদূর কী করতে পারি। এ কারণে বলতে পারছি না বিশ্বকাপের পরও জাতীয় দলের সঙ্গে চালিয়ে যাবো কি-না। এই মুহূর্তে বলতে পারি, বিশ্বকাপটা আমি উপভোগ করতে চাই। জাতীয় দলের জার্সি পরে খেলার অনুভূতিটা সবসময়ই বিশেষ রকমের, কারণ সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয় কিন্তু এটিই। রাশিয়া বিশ্বকাপের পর বসে ভাবব কোনটা ভালো হয়।

১৯৯৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। এই দলটি কি তাদের ছায়ায় এগোচ্ছে?

রাকিটিচ : হ্যাঁ, তেমনটাই। মানুষ সবসময় আমাদের এ কথাই বলে। আমাদের মনে করিয়ে দেয়, তুলনা করে সেই সময়ের প্রাপ্তির সঙ্গে। চাপটা আমরা গ্রহণ করছি। পজিটিভভাবেই নিচ্ছি। কারণ মানুষ এসব বলে দলকে ভালো খেলতে দেখতে চায়। এর আগে তো এমনটা ছিল না। আমি আশা করি এবার আমরা পারব। কারণ আমাদের বয়স বেড়েছে, দারুণ কিছু করার জন্য খুব বেশি আর সময় পাব না।

মেসিকে কীভাবে আটকাতে হবে- সে কথা কি দালিচকে এর মধ্যে বলে দিয়েছেন?

রাকিটিচ :মেসিকে কীভাবে আটকাতে হবে তার ফর্মুলা এখন পর্যন্ত কেউই খুঁজে পায়নি। দালিচ পাননি, আমি পাইনি; কেউই পায়নি। (বার্সেলোনায়) আমরা যেটা করি, সেটা হচ্ছে ওর খেলাটা উপভোগ করা। আমরা নিজেদের সেরার সঙ্গে মিলিয়ে পরিমাপ করি। আর সেরার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগও দারুণ ব্যাপার। আমরা জানি, আর্জেন্টিনা ম্যাচে মেসিকে আটকানো কঠিন হবে। নাইজেরিয়া, আইসল্যান্ডও সহজ হবে না। আমাদের চেষ্টা থাকবে মেসির থেকে যেন এগিয়ে থাকতে পারি। তবে সেও জানে অন্যরা তার বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা খেলবে।

বিশ্বকাপে তো মেসি আপনার প্রতিপক্ষ, এখনও কি তার খেলা উপভোগ্য হবে?

রাকিটিচ :আমি বলব না যে ভালো লাগবে। কিন্তু এটা বিশ্বকাপ, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেলতেই হবে। সেরাদের বিপক্ষে খেলাটা এক ধরনের উদ্দীপনাও জোগায়। আর্জেন্টিনা-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে সব চোখই থাকবে লিওর ওপর। যে যেমনই বলুক, তারাই কিন্তু ফেভারিট। তবে আমরাও মানুষকে দেখাতে চাই, ক্রোয়েশিয়া একটি ভালো দল। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আমরা একটুও ছাড় দেব না। আমাদের হালকাভাবে নেওয়াও উচিত হবে না।

ফুটবলের কাছ থেকে মেসির একটি বিশ্বকাপ পাওনা আছে বলে মনে হয়?

রাকিটিচ :অবশ্যই। সে যে মাপের খেলোয়াড়, তাতে একটি বিশ্বকাপ তার প্রাপ্য। ফুটবল কিন্তু টেনিস নয়। মেসিকে চাপে ফেলে বলতে পারবেন না যে বিশ্বকাপটা তাকে একাই জিততে হবে। তার যেমন জেতা দরকার, তেমনি একই স্বপ্ন নিয়ে আরও ৩১টি দলও আছে। শেষ পর্যন্ত মেসিই যদি জিততে পারে, তাহলে আমরা সবাই খুশিই হবো। তবে বিশ্বকাপ জিতলে বা না জিতলে তার কীর্তি বদলে যাবে না। আপনি যদি সেরা হন, তাহলে ব্যক্তিগতভাবে একটি নাকি পঞ্চাশ হাজারটি শিরোপা জিতলেন সেটা মুখ্য নয়। ফুটবলে লিও মেসির যে অবস্থান, সেটা একটা বিশ্বকাপের মাধ্যমে বদলে যাবে না।

নাইজেরিয়া সম্পর্কে কতটুকু জানেন?

রাকিটিচ :ওরা খুব পরিশ্রমী দল। তাদের কোচ একজন জার্মান। কাউন্টার অ্যাটাকিংয়ে দারুণ দক্ষতাসম্পন্ন শক্তিশালী খেলোয়াড়ও আছে। ওদের বিপক্ষে আমাদের জোর প্রস্তুতি নিয়ে নামতে হবে।

আর আইসল্যান্ড? ম্যাচটি কি ক্ল্যাসিকোর মতো মনে হবে?

রাকিটিচ :(বাছাইপর্বের গ্রুপে আইসল্যান্ডের পেছনে দ্বিতীয় হওয়া) এরপর কিন্তু অনেক দিন কেটে গেছে। ওরা গ্রুপে আমাদের চেয়ে এগিয়ে ছিল। এ কারণে ওদের বিপক্ষে এবার গোল করা দরকার। ওরা কিন্তু সাধারণ কিন্তু কার্যকরী ফুটবল খেলতে পারে। খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক; শতভাগ প্রস্তুত হয়েই নামবে এবার। যেহেতু প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে আসছে, সে কারণে উজ্জীবিতও থাকবে।

ক্রোয়েশিয়া কি বিশ্বকাপ জিততে পারবে?

রাকিটিচ :এখনই অতদূর ভাবতে চাই না আমরা। আমাদের ফোকাস এখন নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম। তারপর গ্রুপ পর্বের অন্য ম্যাচ। একবার নকআউট পর্বে পৌঁছাতে পারলে, আর ভালো খেলতে পারলে যে কোনো কিছুই সম্ভব।’

স্পেন কি এবার বিশ্বকাপের ফেভারিট?

রাকিটিচ : নিঃসন্দেহে। আমি আশা করি এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক বিশ্বকাপ হবে। খেলা হবে গতিময়। এবারের আসর হতে যাচ্ছে তুমুল লড়াইয়ের দিক থেকে সেরা আসর। কিছু চমকও থাকতে পারে। স্পেন বাকি দলগুলোর চেয়ে একধাপ এগিয়ে। তারা নিশ্চয়ই এক নম্বর টিম হওয়ার দিকে চোখ রেখেছে।

আপনার কি মনে হয় না গোলমুখে স্পেনের শক্তির কমতি আছে?

রাকিটিচ :আমি বরঞ্চ স্পেন সুযোগ তৈরি করতে না পারলেই হতাশ হবো। কারণ প্রতিটি ম্যাচেই ১০-১৫টি সুযোগ তৈরি করতে পারে তারা।

প্রস্তুতি ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলেছেন। কেমন দেখলেন?

রাকিটিচ :ওরা শক্তিশালী দল। যেভাবে পরিবর্তন আনে সেটা অবিশ্বাস্য। তবে এই দলটা দিন দিন আরও ভালো হয়ে উঠছে। তারাও অন্যতম ফেভারিট। এতে কোনো প্রশ্ন নেই। এমনকি নেইমার থাকায় আরও বেশি। ও সাম্প্রতিক সময়ে হয়তো খুব একটা খেলতে পারেনি। তবে আশা করি, প্রথম ম্যাচে সে সম্পূর্ণ ফিট হয়েই নামতে পারবে।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন