সারাদেশ

কলাপাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সহকারী  নেছারের কাছে জিম্মি শিক্ষকরা

মোঃহাসানুজ্জামান(অমি গাজী)কলাপাড়া,পটুয়াখালী,প্রতিনিধি।।
কলাপাড়ায় দূর্ণীতি দমন কমিশন (দুদক) এর গণশুনানী চলাকালে দুর্নীতির অভিযুক্ত সেই
কলাপাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সহকারী  নেছার উদ্দিনের কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না তার ঘুষ বানিজ্য। নেছারউদ্দিনের বিরুদ্ধে একাধির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও থামানো যাচ্ছে না তার ঘুষ বানিজ্য।
ঘুষ না দিলে পদে পদে হয়রানি হতে হয়, সাধারণ শিক্ষকদের বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগ, পরবর্তী বেতন ভাতা, অনলাইন অগ্রায়নের সময় তাকে মোটা অংকের ঘুষ দিতে হয় তাকে।
শিক্ষকদের একটি সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সাল থেকৈ মাধ্যমিক শাখার সকল বই সরকারের বিনা মূলে বিতারণের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস পর্যন্ত সরকারি খরচে পৌছে দিয়ে থাকে। এবং উপজেলা থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌছানো বাবদ প্রতি বইতে ০.১৫ টাকা হারে বই পরিবহন ভাড়া উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরকার দিয়ে থাকেন।
 কিন্তু ২০১০ সাল থেকে অদ্যবদি সরকারী বই পরিবহন ভাড়া কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পায়নি।
উল্টো ঢাকা থেকে উপজেলায় বই আনা পরিবহন খরচের নামে অবৈধভাবে প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৫০০-১০০০ টাকা দিয়ে বই নিতে হয়। ৩/৪ বছর পূর্বে  এ ব্যাপারে উর্দ্দতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সহকারী নেছার উদ্দিন রাতের অন্ধকারে প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে গিয়ে তার ভুল হয়েছে এবং ভবিষ্যতে বই পরিবহনের ভাড়া সুষ্ঠভাবে বিতরণ করবে বলে মৌখিক অঙ্গীকার করলেও বর্তমানে যা টাকা দিয়ে নিতে হচ্ছে।
এছাড়া প্রত্যেকবার উপবৃত্তির টাকা প্রদানে প্রতিষ্ঠান থেকে ২০০০ টাকা করে উৎকোচ আদায়, শিক্ষক/কর্মচারীদের নতুন এমপিও, টাইম স্কেল, ইনডেক্স ডিলিট, সংশোধন ইত্যাদি অনলাইনে আবেদনে অগ্রায়নের ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা দিতে হয় তাকে। প্রতিষ্ঠানের সাধারণ তথ্য জমাদানে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা সেকায়েপ উপবৃত্তির কাগজপত্র জমাদানে প্রতিষ্ঠান প্রতি ২ হাজার টাকা মনিটরিং ফরম জমা দানে ৫শত টাকা উপবৃত্তির আপিল ফরম জমাদানে ২ হাজার টাকা, ইএমআইএস ও ব্যানবেইজ বার্ষিক জরিপ হার্ড কপি জমাদানে ৬০০ টাকা করে প্রত্যেক মাসে বিদ্যালয়ের মাসিক বেতনের রিটার্ন ফরমের ২০০ টাকা পিটিএ গ্রান্ট, বিদ্যালয় অবকাঠামো উন্নয়ন কল্পে সেকায়েপ কর্তৃক আর্থিক অনুদানের আবেদন অগ্রায়ন ইত্যাদি সকল আর্থিক কর্মকান্ডে ১০% হারে ঘুষ দিতে হয় ছাত্র শিবিরের এই সাবেক নেতাকে। শিক্ষকরা আরো জানান, সে দীর্ঘ ১৮ বছরের অধিক সময় বিরতীহিন ভাবে একই স্থানে কর্মরত থাকায় কলাপাড়া উপজেলাকে নিজ এলাকা মনে করেন এবং দম্ভের সাথে বলেন, আমার হাত অনেক লাম্বা আমাকে বদলী করার ক্ষমতা কারো নেই। অত্র উপজেলায় চাকরী কালীণ সময় ৭/৮ জন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদলী হলেও অফিস সহকারী নেছার উদ্দিন অদৃশ্য ক্ষমতার দাপটে এখানে রয়ে গেছে বহলতবীয়তে।
ভোক্তভোগী শিক্ষকরা আরো জানান, ১লা ফেব্রুয়ারী কলাপাড়ায় দূর্ণীতি দমন কমিশন (দুদক) এর গণশুনানী চলাকালে নেছার উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে লালুয়া এস.কে.জে.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ জুনায়েত হোসেন একটি লিখিত অভিযোগ উত্থাপন করেন।
দেশরির্পোট/এএইচ


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন