খেলাপ্রধান সংবাদ

কোয়ার্টারে আজ হাইভোল্টেজ লড়াই, সাম্বার ছন্দে জ্বলে উঠুক ব্রাজিল

চাইলে ‘দুর্ভেদ্য দেয়াল’ বনাম ‘অদম্য শক্তি’ বলা যায়; বলা যায় ‘লাতিন সৌন্দর্যে’র মুখোমুখি ‘ইউরোপ যন্ত্র’ও; এমনকি শক্তি বিবেচনায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের সামনে ‘সোনালি প্রজন্ম’ কিংবা নাম উল্লেখ করে ‘নেইমার-কুতিনহো’ বনাম ‘লুকাকু-হ্যাজার্ড’ও বলা যায়। যে যেভাবে যে অর্থে যে বিবেচনাতেই বলুক, ফিফার স্কোরলাইনে প্রসঙ্গটা কিন্তু সাদামাটা- ‘ব্রাজিল বনাম বেলজিয়াম :ওয়ার্ল্ড কাপ কোয়ার্টার ফাইনাল টু’। আনুষ্ঠানিকতার দায় আছে বলেই হয়তো এমন সাদামাটা উল্লেখ। কিন্তু আপাতনিরীহ ভঙ্গির নামোল্লেখের আড়ালেই জমা হয়ে আছে উত্তাপ, উত্তেজনা আর রোমাঞ্চের রসদ; আভাস দিচ্ছে ‘গেম অব দ্য টুর্নামেন্ট’ হওয়ার মতো দুর্দান্ত লড়াইও। বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় শুরু হচ্ছে যা রাশিয়ার কাজান অ্যারেনায়।

এ কাজানই কিন্তু এরই মধ্যে দুটি বড় দলের বাড়ি ফেরার টিকিট ধরিয়ে দিয়েছে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মানি আর লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে এই মঞ্চ থেকেই। তবে বড় দলগুলোর ‘বিদায় মিছিল’ এড়িয়ে এখনও রাশিয়ায় টিকে আছে ব্রাজিল, সঙ্গে বেলজিয়ামও। নকআউট পর্ব বলে আজকের পর অবশ্য উভয়ের আর থেকে যাওয়ার সুযোগ নেই। বাদ পড়তে হবে যে কোনো এক দলকে। সেটি কি ১৯৯৪ থেকে প্রতিবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা সাম্বার প্রতিনিধি ব্রাজিল, নাকি একবার মাত্র বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে খেলা বেলজিয়াম হবে- সে উত্তর জানা যাবে ম্যাচের শেষে। এমনিতে বর্তমানের ছন্দ, ইতিহাসের নিরিখে চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা আর প্রতিটি পজিশনের খেলোয়াড়দের শক্তি-সামর্থ্য মিলিয়ে সেলেসাওরাই বেশি এগিয়ে। নেইমার-কুতিনহো-মার্সেলোদের নিয়ে গড়া এই ব্রাজিল রাশিয়ায় পা রেখেছে হেক্সা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে। শিরোপার মিশন নিয়ে এসেছে বেলজিয়ামও। পশ্চিম ইউরোপের দেশটি ফিফা র‌্যাংকিংয়েও যথেষ্ট সামনে- তিন নম্বরে। কিন্তু আগের ১২ বারের অংশগ্রহণে যারা ফাইনালেই উঠতে পারেনি, কোয়ার্টারেই উঠল এবার নিয়ে মাত্র তৃতীয়বার, তাদের জন্য শিরোপার পথটা এখনও কুয়াশামাখা পথই বলা যায়। তবে অভিজ্ঞতা না থাকলেও রেড ডেভিলদের কেউই একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না। এই বেলজিয়ামের আক্রমণভাগে আছেন এডেন হ্যাজার্ড, রোমেলু লুকাকু, কেভিন ডি ব্রুইনরা, রক্ষণে আছেন ভিনসেন্ট কম্পানি, থমাস ভারমিউলেন, থিবাউত কুর্তোয়ারা। তাদের সবাইই বিশ্ব ফুটবলাঙ্গনের প্রতিষ্ঠিত নাম। তার ওপর নামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেলজিয়াম এবার খেলছেও প্রত্যাশামতো। এখন পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলে সবচেয়ে বেশি ১২ গোল তাদের। ৪ গোল করে লুকাকু আছেন সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে।

তবে নামি ফরোয়ার্ড বিবেচনা করলে নেইমার-জেসুস-কুতিনহোরাই অবশ্য বেশি এগিয়ে। অবশ্য আক্রমণভাগ নয়, ব্রাজিল এখন পর্যন্ত বেশি স্বস্তিতে দৃঢ় রক্ষণের কারণে। প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে এক গোল হজম করেছিলেন অ্যালিসন। এরপর থেকে থিয়াগো সিলভা, মার্সেলো, মিরান্ডারা নিজেদের জালে আর কোনো গোলই ঢুকতে দেননি। বিশ্বকাপের সাম্প্রতিক আসরের ইতিহাস বলছে গোল বেশি করলেই জেতা যায় না, যারা কম গোল হজম করে তাদেরই শিরোপা জেতার সম্ভাবনা বেশি থাকে। গতবার জার্মানি ৪টি, তার আগের দু’বার স্পেন ও ইতালি ২টি করে গোল হজম করেছিল। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, তিতের ব্রাজিলও মনোযোগ দিয়েছে এ দিকটিতেই। ফিফা র‌্যাংকিংয়ের দুই নম্বরে থাকা ব্রাজিলকে গত বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যেতে হয়েছে সেমিফাইনাল থেকে। তাও বেশ অস্বস্তিকরভাবে জার্মানদের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে। সেই ধাক্কা সামলে তিতের অধীনে বেশ গোছানো দল হয়ে উঠেছে এই ব্রাজিল টিমটি। গত দুই বছরে সেলেসাওদের পরাজয়ের তেতো অভিজ্ঞতাই মাত্র একবারের, তাও ২০১৭ সালে আর্জেন্টিনার কাছে। বেলজিয়ামের সর্বশেষ হার অবশ্য আরও পেছনে। ২০১৬-এর ইউরোর কোয়ার্টারে ওয়েলসের কাছে হারার পর আর কোনো ম্যাচেই অমন অভিজ্ঞতা হয়নি রবার্তো মার্টিনেজের দলটির। জাপানকে হারিয়ে এবার আরেকটি কোয়ার্টার নিশ্চিত করার পর বেলজিয়াম কোচ তাই চোখ রেখেছেন আরও একধাপ ওপরে, ব্রাজিল ম্যাচকে অভিহিত করেছেন ‘স্বপ্নের লড়াই’ হিসেবে। প্রতিযোগিতামূলক ও প্রীতি ম্যাচ মিলিয়ে এ পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। এর মধ্যে তিনবারই শেষ হাসি হেসেছে সেলেসাওরা। বিশ্বকাপে দেখা হয়েছে মাত্র একবার। ২০০২ সালে জাপান-কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত সেই আসরে রোনালদো-রিভালদোর গোলে ২-০-র জয় পেয়েছিল ব্রাজিল। সেবার শেষ পর্যন্ত শিরোপাও হাতে তুলেছিল লাতিন আমেরিকার দেশটি। লক্ষ্যটা এবারও একই আছে।

আজ ব্যবধানটা গড়া হয়ে যাবে শেষতক এগারো বনাম এগারোজন খেলোয়াড়ের মধ্যে। তিতের কোচিং দর্শন অনুসারে একাদশে ব্রাজিল একাদশে আজ পরিবর্তন আসার কথা নয়। তার পরও বাধ্য হয়ে একটি বদল হচ্ছেই। দুটি হলুদ কার্ডের কারণে বেঞ্চে বসে থাকতে হচ্ছে ক্যাসেমিরোকে। রিয়াল মাদ্রিদে খেলা হোল্ডিং মিডফিল্ডারের বদলে শুরুর একাদশে নামার কথা ফার্নান্দিনহোর। বেলজিয়ামের অবশ্য এ ধরনের কোনো সমস্যা নেই। সব খেলোয়াড়ই খেলার উপযুক্ত। তবে জাপানের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে ভালো করায় মারুয়ান ফেল্লাইনির একাদশে জায়গা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। মার্টিনেজ অবশ্য গতকাল পর্যন্ত এ ধরনের কিছু নিশ্চিত করেননি।

নিশ্চিত নয় ম্যাচের গতিপথও। কে যাবে সেমিফাইনালে, আর কাকে ফিরতে হবে বাড়ি- তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত।

 

 

দেশরির্পোট/এ এইচ


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন