প্রধান সংবাদরাজনীতি

খালেদা জিয়া অসুস্থতার ভান করে কোর্টে হাজিরা দিচ্ছেন না-শেখ হাসিনা!

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া অসুস্থতার ভান করে কোর্টে হাজিরা দিচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, হাজিরা দিলেই তো ধরা খাবে। কারণ আমেরিকার এফবিআইয়ের লোকেরা বসে আছে, সাক্ষী দেয়ার জন্য, সে যে দুর্নীতি করেছে। কোর্টে হাজিরা দিতে পারবে না এমন তো অবস্থা নয়।

শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় এ সব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরও তার (খালেদা জিয়া) দুর্নীতির কাহিনী আছে, অসুস্থার ভান করে কোর্টে হাজিরা দেয় না। হাজিরা দিলেই ধরা খাবে। এটা হলো বাস্তবতা। হ্যাঁ, অসুস্থতা তার আছেই। ক্ষমতায় থাকতে আমেরিকায় গিয়ে চিকিৎসা করে এসেছে, সৌদিতে চিকিৎসা করেছে। অথচ কোর্টে হাজিরা দিতে পারবে না এমন তো অবস্থা নয়।

দলীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারাই বলেন, কেউ এভাবে এতিমের টাকা চুরি করে খেতে পারে? অথচ এতিমখানার জন্য টাকা এনে সেই টাকা কীভাবে নয়-ছয় করেছে আপনারা সেটা দেখেছেন। ওই সামান্য টাকা তারা ফেরত দিতে পারল না। এখন শাস্তি হয়েছে, জেলে গেছে। এখানে আমাদের তো কোনো দায় নেই। বিএনপির এত জাঁদরেল জাঁদরেল আইনজীবী তারা কী করল? ১০ বছর ধরে মামলা চলেছে। খালেদা জিয়া দুর্নীতি করেনি এটি প্রমাণ করতে তার আইনজীবীরা ব্যর্থ হয়েছেন।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নিজ এলাকায় জনবিচ্ছিন্ন কাউকে মনোনয়ন দেয়া হবে না।  যেসব নেতা দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলে এলাকায় কাজ করেছেন। সরকারের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন, তারাই মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবেন।

তিনি আরো জানান, তৃণমূল থেকে জরিপের রিপোর্ট আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর হাতে এসে পৌঁছেছে। যারা বড় নেতা হয়েও নিজ এলাকায় জনবিচ্ছিন্ন তাদের মনোনয়ন দেয়া হবে না।

২০১৩ সালে সংলাপের জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রীর ফোন এবং বিএনপি নেত্রীর দুর্ব্যবহারের কথাও তুলে ধরেন সেতুমন্ত্রী।

বলেন, মনে আছে টেলিফোনের সেই সংলাপ কী নির্মমভাবে, নির্দয়ভাবে শেখ হাসিনাকে অপমান করে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন খালেদা জিয়া।

২০১৫ সালে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর বিএনপি নেত্রীকে প্রধানমন্ত্রী দেখতে গেলে গুলশান কার্যালয়ে তাকে ঢুকতে না দেয়ার কথাও তুলে ধরেন কাদের। তিনি বলেন, এই নিষ্ঠুরতা যারা করে তাদের সঙ্গে কি সংলাপ হয়? সেদিন দরজা বন্ধ করে বাংলাদেশে সংলাপের দরজাই তারা বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন, দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ, রংপুর, খুলনা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অধীন প্রতিটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দলীয় চেয়ারম্যান এবং প্রতিটি ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দলীয় নির্বাচিত কাউন্সিলাররা।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন