সারাবিশ্ব

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে গোটা যুক্তরাষ্ট্র। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা শিশুদের মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং অভিবাসনবিরোধী সব কর্মকাণ্ড স্থগিতের দাবিতে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি, জাতিসংঘের শহর নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের সাত শতাধিক শহরে গতকাল রোববার একযোগে বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়। ‘ফ্যামিলি বিলঙ্গস টুগেদার’ ব্যানারে এ বিক্ষোভ ছিল ট্রাম্পবিরোধী স্লোগানে উত্তাল। খবর বিবিসি ও সিএনএনের

অনেক শহরের বিক্ষোভের নেতৃত্বের মধ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর, কংগ্রেসম্যানসহ স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও ছিলেন। নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, বোস্টন, ফিলাডেলফিয়া, ডালাস, লসঅ্যাঞ্জেলেস, মায়ামি, আটলান্টা, ডেট্রয়েট, শিকাগো, ফিনিক্স, আটলান্টিক সিটিসহ বিভিন্ন সিটির কর্মসূচি থেকে ইমিগ্রেশনের জটিলতা অবসানে বিল পাসের জন্য কংগ্রেসের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় নভেম্বরের নির্বাচনে ব্যালট বিপ্লব ঘটানো হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী সিংহভাগই ছিলেন শ্বেতাঙ্গ নারী-পুরুষ এবং স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী। অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলেও গতকালের বিক্ষোভ কর্মসূচির মেজাজ ছিল একেবারেই ভিন্ন। এবার অভিবাসীদের নজরদারিতে নিয়োজিত দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বিভাগটির (আইসিই বা আইস) বিলুপ্তির দাবি তুলেছেন সবাই। আইসের আচরণে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান বিপন্ন হতে চলেছে বলেও বিক্ষোভ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে, এ বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে হোয়াইট হাউস থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় নিজের কঠোর অভিবাসন নীতির লাগাম টানার পরিবর্তে উল্টো বিরোধী ডেমোক্রেট দলকে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছেন। তিনি টুইটে বলেন, ডেমোক্রেটদের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত নিরাপদ করা সম্ভব হচ্ছে না। একই কারণে অপরাধী বিদেশিদের গ্রেফতার ও বহিস্কারের প্রক্রিয়াও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, যে অভিবাসন পুলিশ বিভাগের কঠোর পদক্ষেপের কারণে পরিবার থেকে কয়েক হাজার শিশু বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, সেই আইনের প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তারা এখন যা করছে তা অভিনন্দনযোগ্য।

নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের কর্মসূচিতে ছিলেন কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং এবং নির্বাচিত কংগ্রেসওম্যান করটেজ। তারাও প্রচণ্ড ক্ষোভের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড রুখে দিতে আসছে নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমাক্রেটদের বিপুলভাবে বিজয়ী করার আহ্বান জানান এই দুই কংগ্রেসওম্যান। এই সিটির অপর কর্মসূচি শুরু হয় সিটি হল সংলগ্ন ফোলি স্কয়ার পার্ক থেকে এবং গগনবিদারী স্লোগানসহ তা ব্রুকলিন ব্রিজ অতিক্রম করে। শুধু ওয়াশিংটন ডিসিতেই বিক্ষোভ করেছেন ৩০ হাজারের বেশি মানুষ।

গত ৭ সপ্তাহে আড়াই হাজারের বেশি অভিবাসী শিশুকে মা-বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ইমিগ্রেশনের এজেন্টরা। এ ছাড়াও আরও প্রায় ২০ হাজার শিশু ডিটেনশন সেন্টারে অবর্ণনীয় দুর্দশায় রয়েছে। তাদের অভিভাবকরা এসাইলাম না পাওয়ায় এমন করুণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ৪৫ দিনের মধ্যে এসাইলামের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হলে সংশ্নিষ্টদের প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার কথা। ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ নির্দেশে সেসব রীতি এখন প্রায় অকার্যকর। এরই মধ্যে গত বুধবার একজন ফেডারেল জজ রুলিং দিয়েছেন, পরিবার-বিচ্ছিন্নকরণের আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে। ৩০ দিনের মধ্যে শিশুদের মা-বাবার কাছে ফেরত দিতে হবে।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন