অর্থনীতি

বাড়ি তৈরি ও সাজানোর পণ্য ও প্রযুক্তি এক ছাদের নিচে

বাড়ি নির্মাণে অনেকের ভাবনার শেষ নেই। কোন প্রযুক্তিতে তৈরি হবে স্থাপনা, কীভাবে সাজাবেন কিংবা কোন উপকরণে এর স্থায়িত্ব বাড়বে- এসব নিয়ে চলতে থাকে নানা হিসাব-নিকাশ। ইদানীং পরিবেশবান্ধব বাড়ি নির্মাণের প্রতি আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মানুষের এসব ভাবনার কথা মাথায় রেখে নির্মাণ ও গৃহসজ্জার তিনটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী শুরু হয়েছে ঢাকায়। বিভিন্ন দেশের আধুনিক প্রযুক্তির নির্মাণসামগ্রী, প্রক্রিয়াজাত কাঠ ও পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যকৌশলে তৈরি পণ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক এ প্রদর্শনী গতকাল থেকে শুরু হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি), যা চলবে কাল শনিবার পর্যন্ত। এতে অংশ নিয়েছে দেশি-বিদেশি ২০০ প্রতিষ্ঠান।

মেলায় ভারতীয় কোম্পানি থারমেক্স নিয়ে এসেছে দেয়াল, ছাদ ও স্থাপনা খসেপড়া প্রতিরোধের কেমিক্যাল পণ্য। বাংলাদেশে এর বাজারজাত করছে কেনোপাস ট্রেডপার্ক। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা অংশীদার জিয়াউল হাসান জানান, ‘কংক্রিট অ্যাড মিক্সার কেমিক্যাল’ সিমেন্টে ব্যবহার করলে স্থাপনার স্থায়িত্ব বাড়ায়। সিমেন্ট ও কংক্রিট কম ব্যবহার করে মজবুত স্থাপনা তৈরি করা যায়। এটি ওয়াটারপ্রুফ, স্থাপনায় ড্যাম পড়বে না কিংবা নোনা ধরবে না। দেয়ালের মধ্যে পানি ঢুকবে না। এ কেমিক্যাল ব্যবহারে প্রতি বর্গফুটে ৫০ থেকে ৮০ টাকা খরচ হবে। স্থায়িত্ব হবে ৫০ থেকে ৬০ বছর।

দেশি প্রতিষ্ঠান পারটেক্স স্টার গ্রুপ এনেছে জিপসাম বোর্ড। এটি দীর্ঘদিন ধরে আমদানি করছে বাংলাদেশ। গত এপ্রিল থেকে পারটেক্স স্টার গ্রুপ দেশে তৈরি করছে। এখন কম খরচে একই প্রযুক্তির মানসম্মত পণ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইমদাদুল হক। তিনি বলেন, ইউরোপীয় প্রযুক্তিতে নতুন কারখানায় সিলিং টাইলস ও প্লাস্টার বোর্ড তৈরি হচ্ছে। এতে রেডিয়েশন নেই এবং পানি, আগুন ও তাপ নিরোধক। তিনি আরও বলেন, গত তিন মাসে দেশের বাজারে এই পণ্যের ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। অনেক আমদানিকারক এখন তাদের কাছ থেকে সরাসরি নিচ্ছেন।

শুধু বাড়ি বানালেই হবে না। এসব সুরক্ষার জন্য ব্যবস্থা থাকা চাই। মেলায় স্থাপনার ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি নিয়ে এসেছে নাফকো। কোম্পানির প্রকৌশলী সামিউল ইসলাম চৌধুরী সমকালকে বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুবাইয়ে তৈরি নানা যন্ত্রপাতি এনেছেন তারা। পাশাপাশি এক স্থান থেকে পুরো ভবন আলোকসজ্জার সমাধানের ব্যবস্থা রয়েছে।

ভবন তৈরিতে কাঠের সঠিক ব্যবহার ও স্থায়িত্বের সমাধান নিয়ে এসেছে জেএটি হোল্ডিং। প্রতিষ্ঠানটির এরিয়া ম্যানেজার মো. বাহাউদ্দিন বলেন, সর্বশেষ আধুনিক প্রযুক্তি দেশের মানুষের কাছে পরিচিত করতে মেলায় তারা এনেছেন কাঠের বার্নিশ। তাদের কোম্পানির সেয়ারলেক ব্র্যান্ডের এ পলিশ দীর্ঘদিন একই অবস্থায় স্থায়ী থাকে। পলিশ পানি ও তাপ দুটিতেই নষ্ট হয় না এবং দাগ পড়ে না।

‘বাংলাদেশ বিল্ডকন ২০১৮’, ‘গ্রিনআর্ক ২০১৮’ ও ‘বাংলাদেশ উড ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো ২০১৮’ নামের প্রদর্শনীগুলোতে বাংলাদেশ, চীন, তাইওয়ান, ভারত, মালয়েশিয়া, ইতালি, তুরস্ক, নেপাল, শ্রীলংকা ও সিঙ্গাপুর- এই ১০টি দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও পণ্য তুলে ধরেছে। ভারতের ফিউচারেক্স ট্রেড ফেয়ার অ্যান্ড ইভেন্টস ও বাংলাদেশের আস্ক ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশনস যৌথভাবে এসব প্রদর্শনীর আয়োজন করছে। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকবে।

প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউিটের (এইচবিআরআই) পরিচালক মোহাম্মদ শামীম আক্তার, বাংলাদেশ ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান কে এম আক্তারুজ্জামান, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্ট বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্থপতি জালাল আহমেদ, সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন গ্রিন আর্কিটেকচারের (আইসিজিআরএ) আহ্বায়ক ড. খন্দকার সাবির আহমেদ, বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প মালিক সমিতির চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমান, ফিউচারেক্স ট্রেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রেম আনভেশি, আস্‌ক ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশনের পরিচালক নন্দ গোপাল কে এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু সুলতান ভূঁইয়া প্রমুখ।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন