খেলাপ্রধান সংবাদ

বিদায় পর্তুগাল বিদায় রোনালদো

৭৪ মিনিট তার দেখা মিলেছে যোদ্ধার ভূমিকায়। এরপর আর মাঠে থাকতে পারেননি। বেরসিক চোট তাকে সাইডবেঞ্চেই পাঠিয়ে দেয়। তবে যাওয়ার আগে দারুণ আক্রমণ, চোখ ধাঁধানো পাস আর বাঁধিয়ে রাখার মতো দুটি গোল উপহার দিয়ে গেছেন। সেই দুই গোলেই গতকাল শেষ হাসি হাসল উরুগুয়ে। সোচির ফিস্ট অলিম্পিক স্টেডিয়ামে পর্তুগালকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট হাতে পেল দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৬ জুলাই নিঝনি নভোগোরদ স্টেডিয়ামে শেষ আটের লড়াইয়ে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে উরুগুয়ে।

এদিন ম্যাচের শুরুতেই উরুগুয়েকে চেপে ধরে পর্তুগাল। দ্বিতীয় মিনিটের মাথায় এগিয়ে যেত তারা। যদি বের্নেদাদো সিলভার হেড লক্ষ্যভ্রষ্টের খাতায় নাম না উঠতো। ষষ্ঠ মিনিটে বাম দিক দিয়ে আরেকটি আক্রমণ। কিন্তু ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সেই চেষ্টা রুখে দেন উরুগুয়ের গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা। অবশ্য সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খেলায় ফেরে উরুগুয়ে। সপ্তম মিনিটে দারুণ একটি পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙেন এডিসন কাভানি। সিক্স ইয়ার্ড বক্স থেকে চমৎকার হেডে পর্তুগিজ গোলরক্ষকের চোখ ফাঁকি দেন তিনি। তাতেই ঘুরে দাঁড়ায় উরুগুয়ে। বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে যায় তারা। তবে এক গোল খাওয়া পর্তুগালও খুঁজতে থাকে সুযোগ। নিয়মিত আক্রমণ চালিয়ে উরুগুয়ে রক্ষণে কাঁপিয়ে দেয় তারা। ১১তম মিনিটে হোসে ফন্তের আশা জাগানিয়া হেড উরুগুয়ের গোলপোস্টের খানিকটা পাশ দিয়ে চলে যায়। কয়েক সেকেন্ড পর ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া রোনালদোর ডান পায়ের শটও আটকে যায় রক্ষণ দেয়ালে। ১৫ থেকে ১৬তম মিনিটের মধ্যে পর্তুগালের আরও দুটি আক্রমণ নস্যাৎ করে দেয় উরুগুয়ের ডিফেন্ডাররা। প্রতিপক্ষের এমন মুহুর্মুহু আক্রমণের মাঝে থেমে ছিল না উরুগুয়ে।

সুযোগ পেলেই পর্তুগালকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ২২তম মিনিটে ব্যবধানটা দ্বিগুণ করতে পারত উরুগুয়ে। কিন্তু লুইস সুয়ারেজের ডান পায়ের শট পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়। প্রথমার্ধের শেষ দিকে আক্রমণের ধার কিছুটা বাড়িয়ে দেয় পিছিয়ে থাকা পর্তুগাল। তাতেও গোলের দেখা পায়নি। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় উরুগুয়ে। বিরতির পর সমতায় ফিরতে মরিয়া পর্তুগাল তড়িঘড়ি করে বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালায়। সেক্ষেত্রে ফলও আসে দ্রুত। ৫৫তম মিনিটে রাফায়েল গুয়েরেইরোর দারুণ ক্রসে মাথা ছুঁয়ে দলকে সমতায় ফেরান পেপে। বিশ্বকাপে দেশের জার্সিতে এটাই পেপের প্রথম গোল। তবে রক্ষণে কিছুটা ঢিলেঢালাভাব দেখা যায় পর্তুগালের। এই সুযোগটা কাজে লাগায় উরুগুয়ে। ৬২তম মিনিটে ক্ষিপ্রগতির আক্রমণে ডি-বক্সের সামনে থাকা কাভানির উদ্দেশে বল বাড়িয়ে দেন রদ্রিগো বেন্টানকুর। ভুল করেননি এই পিএসজি তারকা। নিজের জোড়া গোলের পাশাপাশি দলের স্কোরটা দুয়ের ঘরে নিয়ে যান। বিশ্বকাপে উরুগুয়ের হয়ে এটা ছিল কাভানির পঞ্চম গোল। দুই গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করে পর্তুগাল। কিন্তু কিছুতেই গোল আদায় করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-১ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ফার্নান্দো সান্তোসের শিষ্যদের।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন