খেলাপ্রধান সংবাদ

বিশ্বকাপ ২০১৮ আর্জেন্টিনার স্বপ্ন চুরমার

ফরাসিরা একে একে এসে তার পিঠ চাপড়ে যাচ্ছেন, কেউ এসে সান্ত্বনার স্পর্শে সহানুভূতিও প্রকাশ করছেন! কিন্তু তাতেও যেন ভ্রম কাটছিল না তার। স্থির, হতবিহ্বল হয়ে মাঠের মধ্যেই দাঁড়িয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। তারপর চোখে-মুখে পানি দিয়ে ড্রেসিংরুমের দিকে পা বাড়ালেন লিওনেল মেসি। প্রস্থান- আরও একবার পরাজিত সৈনিক হয়েই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেন তিনি। যে ঈশ্বরের দিকে তাকিয়ে ছিলেন, মেসির সেই ঈশ্বরই বোধ হয় চাননি আর্জেন্টিনা আর একটু এগিয়ে যাক! গতরাতে ফ্রান্সের কাছে ৪-৩ গোলে হেরে তাই স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেল আর্জেন্টিনার। মেসির বিদায়ের কয়েক ঘণ্টা পর রোনালদোরও বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে গেল। পর্তুগালকে ২-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেল সুয়ারেজ- কাভানির উরুগুয়ে। ৬ জুলাই রাত ৮টায় কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স আর উরুগুয়ে। বয়স ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বয়সী দল ছিল আর্জেন্টিনার।

অন্যদিকে প্রতিপক্ষ ছিল সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়ের দল। অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের সেই লড়াইয়ে জয় হলো ফরাসিদেরই। ম্যাচটিতে ৪-৩-৩ ফরমেশন নিয়ে মাঠে নামে আর্জেন্টিনা। শুরুর একাদশে পরিবর্তন কেবল একটা; আগের ম্যাচে আক্রমণভাগের গঞ্জালো হিগুয়েইনকে বসিয়ে নামানো হয় ক্রিশ্চিয়ান প্যাভনকে। অবশ্য কৌশলটা খানিকটা বদলে নেন হোর্হে সাম্পাওলি। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে মেসিকে আক্রমণভাগের ডানে খেলালেও এই ম্যাচে তাকে দেখা যায় দুই উইংয়ের মাঝে। আর প্যাভনকে রাখা হয় ডান পাশে। তাতে যাত্রাটা একেবারে খারাপ হয়নি। প্রথম ১০ মিনিটের সিংহভাগ বলই থাকে আলবিসেলেস্তেদের দখলে।

কিন্তু ১১তম মিনিটে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা ফ্রান্স সেনসেশন কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ডি-বক্সের মধ্যে নামমাত্র বাধা দিয়ে সর্বনাশই ডেকে আনে আর্জেন্টিনা। ইরানের রেফারি আলিরেজা ফাঘানি বাজান পেনাল্টির বাঁশি। অনুমিতভাবে স্পটকিকের দায়িত্বটা পড়ে ফরাসিদের অন্যতম মূল ভরসা আন্তোনিও গ্রিজম্যানের কাঁধে। এমন সুযোগ কী করে নষ্ট করেন অ্যাথলেটিকো স্টার। দারুণ শটে ফ্রাঙ্কো আরমানিকে পরাস্ত করেন গ্রিজম্যান। এক গোল খাওয়ার পর খানিকটা নুয়ে পড়ে আর্জেন্টিনার আক্রমণ। সেই সুযোগের পূর্ণ ব্যবহার করার চেষ্টা করেন পগবা-জিরুডরা। একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে প্রতিপক্ষ রক্ষণে ভয় ধরিয়ে দেন তারা। ২১তম মিনিটে ব্যবধানটা দ্বিগুণ করতে পারত ফ্রান্স, যদি পল পগবার ডান পায়ের শট লক্ষ্যভ্রষ্টের খাতায় নাম না লেখাত। একেবারে ছাড় দেয়নি আর্জেন্টিনা। ফাঁকফোকর পেলেই আক্রমণে ওঠেন মেসিরা। ৪১তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সেই সুযোগ। এভার বানেগার বাড়ানো বল জমিয়ে ডি-বক্সের প্রায় ৩০.২ ইয়ার্ডস থেকে চোখজুড়ানো শটে দলকে সমতায় ফেরান ডি মারিয়া। মুহূর্তেই জেগে ওঠে পুরো গ্যালারি। চলে আকাশি-সাদার উৎসব। বিশ্বকাপের একুশতম আসরে এটাই সবচেয়ে দূরপাল্লার গোল। এ ছাড়া ১৯৮৬ বিশ্বকাপের পর ডি-বক্সের বাইরে থেকে এই প্রথম গোল হজম করল লেস ব্লুজরা।

১-১ সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দু’দল। বিরতির পর আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। সাফল্যও ধরা দেয় দ্রুত। ৪৮তম মিনিটে মেসির আলতো শটে পা ছুঁয়ে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন গ্যাব্রিয়েল মার্কাদো। তবে ৫৬তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে গ্রিজম্যান একাই আর্জেন্টিনার রক্ষণ ভাঙেন। যদিও তার নেওয়া শট গোলপোস্টের হাওয়া গায়ে লাগিয়ে চলে যায়। মিনিট খানেক পরেই ফরাসিদের উদযাপন। লুকাস হার্নান্দেজের চমৎকার পাস পেয়ে স্কোরলাইন সমান করেন বেঞ্জামিন প্যাভার্ড। এরপরই পাল্টে যায় আর্জেন্টিনার চেহারা। কেমন জানি গা ছাড়া ভাব। রক্ষণেও দেখা যায় পুরো এলোমেলো অবস্থা। তার খেসারত জোটে তাৎক্ষণিক। টপাটপ দুই গোল হজম। ৬৪তম মিনিটের পর ৬৮তম মিনিটে নিজের জোড়া গোলের পাশাপাশি দলের স্কোরটা চারের ঘরে নিয়ে যান এমবাপ্পে। তাতেই যেন ভেঙে পড়ে আর্জেন্টিনার মনোবল। তবে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে সার্জিও আগুয়েরোর মাথা ছুঁয়ে আসা গোলটি দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য কেবল সান্ত্বনার উপহারই হয়ে রইল।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন