খেলাপ্রধান সংবাদ

‘ব্যালন ডি’অর নয় বিশ্বকাপ চাই’-কিলিয়ান এমবাপ্পে

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে আইকন মানতেন। এখন মানেন কি-না কে জানে। এরই মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে জুভেন্তাসে যোগ দিয়েছেন সিআর সেভেন। গুঞ্জন আছে কিলিয়ান এমবাপ্পের দলবদল নিয়েও। তিনি নাকি লস ব্লাঙ্কোস ক্লাবটিতে রোনালদোর শূন্যস্থানটা পূরণ করতে আসবেন। এমন কিছু হলে এমবাপ্পে হয়তো আরও বেশি উচ্ছ্বসিত হতেই পারেন। কারণ যাকে দেখে ফুটবলে মন দেওয়া, তার আসনটায় নিজে বসতে পারলে স্বপ্ন ধরাটা না জানি আরেকটু সহজ হয়ে যাবে ফরাসি সেনসেশনের জন্য। এরই মধ্যে রাশিয়া বিশ্বকাপে আলো ছড়িয়ে কেড়েছেন সবার নজর। গত মঙ্গলবার সেমিফাইনালে বেলজিয়ামকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে তার দল ফ্রান্স। দারুণ এই অর্জনের সঙ্গী হতে পেরে গর্বিত এমবাপ্পে। তবে এবার অবশিষ্ট কাজটা শেষ করতে চান। তার কাছে বিশ্বকাপ সবার আগে, ব্যালন ডি’অর নয়, ‘আমি বিশ্বকাপটা জিততে চাই। ব্যালন ডি’অর নিয়ে ভাবছি না।’

শৈশব থেকেই এমবাপ্পে হিরো। পাড়ার ক্লাবগুলো নিয়মিত মাতিয়ে বেড়াতেন। তাতে ফ্রান্স ফুটবলে জায়গা নিতে তার খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি। ২০১৪ সালে অনূর্ধ্ব ১৭ দলের পর ২০১৬ সালে উনিশ দলে নাম লেখান। সেখানে সবাইকে চমকে দেন এমবাপ্পে। এর এক বছর পরই তাকে জাতীয় দলে টানে সাবেক বিশ্বচ্যম্পিয়নরা। রাশিয়া বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দিদিয়ের দেশমের আক্রমণভাগের অন্যতম অস্ত্র এখন এমবাপ্পে। শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে কোয়ার্টারের টিকিট কাটতে তার অবদান ছিল অনেকটা। ১৯ বছর বয়েসে জোড়া গোল করে ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের পাশে বসেন তিনি। অথচ এই এমবাপ্পে বিশ্বকাপের স্বপ্নটা দেখতেন ছোটবেলা থেকে। একদিন দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জিতবেন সেটা ছিল তার এত দিনের লালিত স্বপ্ন, ‘এটা সত্যিই বিশ্বাস হচ্ছে না। একটা সময় স্বপ্ন দেখতাম বিশ্বকাপের। এবার মনে হচ্ছে সে দিকেই যাচ্ছি। আসলে এই অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।’

১৯৯৮ বিশ্বকাপে জিনেদিন জিদানরা ফ্রান্সকে প্রথম বিশ্বকাপটা উপহার দেন। সে থেকে কেটে গেছে কুড়ি বছর। এবার যখন অনেকটা পথ ফাড়ি দিয়েছে ফরাসিরা, বাকি থাকা আরেকটি ধাপও টপকাতে চায়। অবশ্য কোনোক্রমে যদি কাঙ্ক্ষিত শিরোপাটা অধরা থেকে যায়, তাহলে খুব একটা আফসোস লাগবে না এমবাপ্পের, ‘এখনও একটা ধাপ বাকি। সেটা উতরে যাওয়ার আশায়ই আছি। তবে না হলেও তেমন একটা হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আমরা যতদূর এসেছি তাতেই সন্তুষ্ট।’

বেলজিয়ামকে হারানোর পর ড্রেসিংরুমে বেশ মজা করে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। সেখানে যোগ দেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোন। সবার সঙ্গে তিনিও উদযাপন আনন্দে মাতেন। দিনটা চমৎকার কেটেছে এমবাপ্পেদের, ‘ম্যাচ শেষে ড্রেসিং রুমে আমরা সবাই সেলিব্রেশন করি। কোচ দেশম খুবই আনন্দিত। আমরা সবাই খুশি। ফ্রান্স প্রেসিডেন্টও আসেন আমাদের খোঁজ-খবর নিতে। একপর্যায়ে তিনিও আমাদের উদযাপনে শামিল হন। সবাই আমাদের পাশে, আশা করি সবাই মিলে শেষটা রাঙাতে পারব।’

ফাইনালের আগে ফ্রান্স হাতে পেল চার দিন। সময়টা একেবারে কম নয়। এই সময়ের মধ্যে নিজেদের ভালোভাবে ঝালিয়ে নেওয়ার কাজটাই হয়তো করবেন দেশম। তাতে যদি আসে ফ্রান্সের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ!

 

দেশরির্পোট/এএইচ

 


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন