খেলা

ক্রোয়েশিয়ার প্রাণভোমরা ম্যাজিশিয়ান মডরিচ

শুধু দলনেতাই নন, মধ্যমাঠে ক্রোয়েশিয়ার প্রাণভোমরা তিনি। রাশিয়া বিশ্বকাপে ক্রোয়াটদের স্বপ্নের সারথি লুকা মডরিচ। তার ভেলায় চড়ে এখন বিশ্বকাপের ফাইনালে চার মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশটি। ক্রোয়েশিয়ার হয়ে ইতিহাস গড়ার নায়ক অনেকেই আছেন। আক্রমণে মারিও মানজুকিচ-ইভান প্যারিসিচরা আছেন। মধ্যমাঠে দাপট দেখিয়েছেন ইভান রাকিটিচ ও লুকা মডরিচ। তবে সবার চেয়ে আলাদা রিয়াল মাদ্রিদ তারকা মডরিচই। বল নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া, সতীর্থকে বল বানিয়ে দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করা, পায়ের জাদু দেখানো- সব কিছুই রাশিয়ায় দেখিয়েছেন মডরিচ। ফুটবলবোদ্ধারা তার নাম দিয়েছেন ম্যাজিশিয়ান।

বুধবার মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২ বছর বয়সী এ মিডফিল্ডার ছিলেন দুর্দান্ত। শুধু মাঝমাঠেই নয়, দলের প্রয়োজনে অনেকবারই নিচে নামতে দেখা গেছে মডরিচকে। দেখা গেছে ডিফেন্ডারের ভূমিকায়। ম্যাচের ৫ মিনিটে ডেলে আলি যখন দ্রুতগতিতে ক্রোয়েশিয়ার বক্সের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছিলেন, তখন মাঝমাঠ থেকে নিচে গিয়ে ইংলিশ তারকাকে ফাউল করেন তিনি। এ জন্য মাশুল দিতে হয়েছে ক্রোয়াটদের। সেট পিস থেকে গোল করে থ্রি লায়ন্সদের এগিয়ে নেন ট্রিপেয়ার। তখন ক্রোয়েশিয়ানরা কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মডরিচের ওপর। কিন্তু তিনি যে এক লড়াকু সৈনিক। সহজেই হাল ছেড়ে দেন না। ম্যাচের পুরো সময়ই সারা মাঠে দৌড়েছেন। রাকিটিচের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে আক্রমণ সাজিয়েছেন। ওপরে গিয়ে ইংলিশ রক্ষণভাগকে এলোমেলো করে দিয়েছেন। তাকে থামাতে গিয়েও তো গোল হজম করে ইংল্যান্ড। ৬৮ মিনিটে ভারসালকোর ক্রস খুঁজে নেয় প্যারিসিচকে। ইন্টারমিলানের এ ফরোয়ার্ড পা দিয়ে গোল করে সমতা আনেন। অথচ ইংলিশ ফুটবলররা দু’জন ব্যস্ত ছিলেন মডরিচকে থামাতে।

প্রথমার্ধে ছন্নছাড়া ছিল ক্রোয়েশিয়া। বিরতির পর হঠাৎই বদলে যায় দৃশ্যপট। সেই বদলে যাওয়ার পেছনে আছেন মডরিচ। মাঝ বিরতিতে কোচ জল্গাতকো দালিচ দলের দুই প্রাণভোমরা রাকিটিচ ও মডরিচকে বলেছিলেন মাথা ঠাণ্ডা রেখে খেলতে। ঠিকমতো পাস দিতে। কোচের এই টোটকাতেই কাজ হয়ে যায়। দু’জনই সেরাটা মেলতে থাকেন। তবে সবার চেয়ে সেরা ছিলেন মডরিচই। সবাই অবাক হয়ে যায় মডরিচের খেলার দম দেখে। দ্বিতীয় রাউন্ডে ডেনমার্ক, কোয়ার্টার ফাইনালে রাশিয়ার পর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও ১২০ মিনিট খেলতে হয়েছে ক্রোয়েশিয়াকে। তাদের ক্লান্ত দেখা যায়নি। সবাই দলের জন্য জীবন দিয়ে খেলেছেন। মডরিচকে ওঠানোরও চেষ্টা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত দল যখন লিড নেয় আর খেলার চার মিনিট বাকি, তখনই মডরিচকে তুলে নেন কোচ দালিচ। তার আগ পর্যন্ত শুধু মডরিচই নন, সবাই মরিয়া হয়ে খেলেছেন। কেউ মাঠ থেকে উঠে যেতে চাননি। কোচ দালিচ তো ম্যাচ শেষে বলেই দিয়েছেন, ‘আমি বারবার চেষ্টা করেছে বদলির জন্য, কিন্তু কেউই রাজি হয়নি।’

এই বিশ্বকাপে করেছেন দুই গোল। ক্রোয়েশিয়ার ছয় ম্যাচের সবগুলোতেই শুরু থেকে ছিলেন মডরিচ। বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার হওয়ার দৌড়ে অনেক এগিয়ে আছেন রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার। রাশিয়ার সাবেক কোচ বরিস ইগনাতায়েবের চোখে সেরা ফুটবলার মডরিচই। ‘মেধা, সৃষ্টিশীলতা ও দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সামর্থ্যের দিক বিবেচনা করে আমি মনে করি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হলো মডরিচ। সে সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করেছে। যারা বিশ্বসেরা সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন করবেন, তারা হয়তো ইতিমধ্যে করেছেনও, তবে আমার দিক থেকে আমি ভোটটা মডরিচকেই দেব’- বলেন ইগনাতায়েব।

 

 

দেশরির্পোট/এএইচ


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন