সারাবিশ্ব

যেভাবে গুহায় আটকা পড়ে কিশোর ফুটবল দলটি

থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় চিয়াং রাই এলাকার থাম লুয়াং গুহায় বেড়াতে গিয়ে গত ২৩ জুন নিখোঁজ হয় দেশটির ১২ কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচ। একটি প্রশিক্ষণ পর্বে অংশ নেওয়ার পর তারা ওই গুহার ভেতর প্রবেশ করে। এরপর শুরু হয় একটানা ভারী বর্ষণ। বর্ষার পানি আর কাদায় বন্ধ হয়ে যায় গুহার প্রবেশমুখ। ভেতরে আটকা পড়ে ১৩ জনের দলটি।

ঘটনা জানার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। এর শুরুতেই তারা গুহার প্রবেশমুখে ওই কিশোরদের বাইসাইকেল খুঁজে পাওয়া যায়। গুহার ভেতরে পাওয়া যায় তাদের হাত-পায়ের ছাপ।

এরপর থেকে পুরো থাইল্যান্ডের মানুষের তাকিয়ে আছে গুহাটির দিকে। দেশটির নৌবাহিনীর সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় যুক্তরাজ্য থেকে যাওয়া ডুবুরি দল। গুহায় যাতে অক্সিজেনের ঘাটতি না হয়, সেজন্য প্রবেশ করানো হয় কয়েকশ’ অক্সিজেন ট্যাংক। গুহার ভেতরে তৈরি করা হয় একটি বেস ক্যাম্প। প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়াসহ নানাভাবে নিখোঁজ কিশোরদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চললেও ভারী বর্ষণ উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছিল। এতে করে আটকে পড়া দলটিকে ফিরে পাওয়ার আশা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। কিন্তু উদ্ধারকারীরা দমে যাননি। চালিয়ে যান অভিযান।

এরপর আটকে পড়ার নয় দিনের মাথায় সোমবার সন্ধান মেলে দলটির। ব্রিটিশ উদ্ধারকারী ডুবুরি দল জানায়, কিশোর ফুটবল দলটি ওই গুহার মধ্যে একটি শুকনো কার্নিশের মতো জায়গায় বসে আছে।

আটকা পড়া কিশোরদের বয়স ১১ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে আর তাদের কোচ এক্কাপোল জানথাওংয়ের বয়স ২৫।  তারা যে গুহায় আটকে পড়েছে সেটি ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি থাইল্যান্ডের দীর্ঘতম গুহা। কম প্রশস্ত ও অনেকগুলো প্রকোষ্ঠ থাকায় এর ভেতর চলাচল করা কঠিন।

তাদের সন্ধান পাওয়ার পরই উদ্ধার কর্মীরা ও থাই সেনা কর্তৃপক্ষ জানায়, দলটি যেখানে আটকা পড়ে আছে সেটি গুহার মুখ থেকে ৪ কিলোমিটার ভেতরে। গুহার বাইরে আসতে হলে তাদের ডুবুরির মতো পানির নিচ দিয়ে সাঁতরে আসতে হবে, অথবা কয়েক মাস (পানি না নামা পর্যন্ত) গুহার মধ্যেই অপেক্ষা করতে হবে। তাদের হয়তো আগামী চার মাস ধরে বাইরে থেকে খাবার পাঠাতে হবে। উদ্ধারকারীরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন, কিভাবে ক্রমাগত বাড়তে থাকা পানি অতিক্রম করে দলটির কাছে খাবার ও অন্যান্য সাহায্য পৌঁছে দেওয়া যায়।

আর চিয়াং রাইয়ের গভর্নর নারোংসাক ওসোত্থানাকন বলেন, গুহার ভেতরে বিদ্যুৎ ও টেলিফোন লাইন বসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে তারা বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলতে পারে।

এরপর মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছাতে পারেন উদ্ধারকারীরা। এ খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছানো ডুবুরিদের সাতজনের দলটির মধ্যে একজন ডাক্তার ও একজন নার্সও ছিলেন।

দলটির সঙ্গে ডুবুরিদের দেখা করার পর একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, আটকে পড়া কিশোররা বলছে, তাদের স্বাস্থ্য ভালো আছে। ভিডিওটিতে এরপর তারা প্রত্যেকে একে একে কথা বলেন। সূত্র: এএফপি, রয়টার্স, বিবিসি


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন