রাজনীতি

খালেদা জিয়াকে ছাড়া জাতীয় নির্বাচনে যাবে না বিএনপি

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া আগামী জাতীয় নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে দলের এ অবস্থান আবারও পরিস্কার করেন নেতারা। তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনকালীন ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি, সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার আর সেনাবাহিনী মোতায়েন ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না। এর বাইরে দেশের রাজনৈতিকসহ সার্বিক বিষয়ে কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন দলটির নীতিনির্ধারক নেতারা। রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত বাংলাদেশে কর্মরত ১৮টি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তারা দেশের রাজনৈতিক, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের গাড়িবহরে হামলা, সংবাদমাধ্যমে দমন-পীড়ন নিয়ে বক্তব্য দেন। সূত্র জানায়, বৈঠকের শুরুতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তিন পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এই বক্তব্যে বিগত দিনের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়ম, ভোট কারচুপি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষপাত এবং অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট গ্রহণে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তিনি নির্বাচনের সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকেও সামনে নিয়ে আসেন। এ ছাড়া দলের পক্ষ থেকে এসব সিটি নির্বাচনের বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ সিডি আকারে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মহাসচিবের বক্তব্যের পর কূটনীতিকরা আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে মির্জা ফখরুল তাদের জানান, দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। তিনি আইনের শাসন থেকে বঞ্চিত। এ অবস্থায় নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকলে তারা কীভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। এ ছাড়া নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা ছাড়া, বর্তমান সংসদকে বহাল রেখে আর সেনাবাহিনী মোতায়েন ছাড়া দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা পর্যন্ত নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন।

সূত্র জানায়, এ সময় কূটনীতিকরা খালেদা জিয়ার মামলা ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান। তাদের এমন বক্তব্যের পর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এবং আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী খালেদা জিয়ার মামলা ও তার জামিন নিয়ে বিস্তারিতভাবে তাদের উপস্থাপন করেন। তারা জানান, বিচার বিভাগের নিম্ন আদালত সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার অধীন হওয়ার কারণে তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জামিনযোগ্য মামলাগুলোতেও তার জামিন আটকে দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে উচ্চ আদালতেও সরকার নানাবিধ প্রভাব খাটিয়ে তার জামিন প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করছে।

এ সময় কূটনীতিকরা সম্প্রতি দেশের নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চান। বিএনপি নেতারা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দিয়ে তাদের জানান, আন্দোলনরত এসব খুদে শিক্ষার্থীদের ওপর ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী দ্বারা হামলা চালিয়ে তাদের রক্তাক্ত করা হয়েছে। হেলমেট ও মুখোশ পরে বিভিন্ন সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা করে তাদেরও আহত করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বৈঠকে অনেক কূটনীতিক যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলার প্রসঙ্গও সামনে নিয়ে আসেন। তারা জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা ওয়াকিবহাল হলেও বিএনপির মতামত জানতে চান। জবাবে নেতারা জানান, সরকারি দল ও তাদের নেতাকর্মী অনেক বেশি অসহিষুষ্ণ হয়ে পড়েছে। যার কারণে তারা ভিন্নমত ও পথকে সহ্য করতে পারছেন না। তারা সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করে দিয়েছে। এ ছাড়া ফটোসাংবাদিক শহিদুল আলমকে আটক ও তাকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের বিষয়ও সামনে নিয়ে আসেন বিএনপির নেতারা।

কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, এ জে মোহাম্মদ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফাহমিদা মুন্নি, ব্যারিস্টার রিমন ফারহানা, কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার মীর হেলাল ও তাবিথ আউয়াল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মান, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, জাতিসংঘের প্রতিনিধি, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কুয়েত, স্পেন ও পাকিস্তানের প্রতিনিধি ছিলেন।

 

 

দেশরির্পোট/এএইচ

 


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন