সারাবিশ্ব

জীবিত উদ্ধারের আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত লোম্বোকে

ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত লোম্বোক দ্বীপে জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা ক্রমে ক্ষীণ হয়ে আসছে। গতকাল ভূমিকম্পের তৃতীয় দিনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩০ ছাড়িয়েছে। এরই মধ্যে দ্বীপের ১ লাখ ৫৬ হাজার গৃহহীনের মানবিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও ওষুধ ঘাটতি তীব্র হয়ে উঠেছে। খবর আল জাজিরা ও এএফপি।

লোম্বোকে রোববার রাতে আঘাত হানা ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩১ দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে পার্শ্ববর্তী পর্যটক দ্বীপ বালিতে নিহত দুজন রয়েছে।

এদিকে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা আরো বড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ। দুর্যোগে আহত প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশ মারাত্মকভাবে আহত। সেতু ও রাস্তা বিধ্বস্ত হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মুখপাত্র ম্যাথু কোচরেন জানান, উদ্ধারকারী দলগুলো গ্রামের পর গ্রাম বিরান হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। ভূমিকম্পে ৮০ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

গতকাল উদ্ধারকর্মীদেরকে একটি মসজিদের ধ্বংসস্তূপ খুঁড়তে দেখা যায়। ধ্বংসস্তূপের নিচে বেশকিছু মানুষ আটকে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে একজন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে উদ্ধারকর্মী বাগুসা নগুরাহ জানান।

ভূমিকম্পের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া একজন জানান, প্রথম যখন আমরা কম্পন অনুভব করি, তখন আমরা স্থির দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু কম্পন বাড়তে শুরু করলে মসজিদ ভেঙে পড়ার আগেই আমরা দৌড়ে বাঁচার চেষ্টা করি। আমাদের অনেকেই বের হওয়ার জন্য জানালার কাচ ভেঙে ফেলে।

গতকাল ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল ডিজাস্টার মিটিগেশন এজেন্সির (বিএনপিবি) মুখপাত্র সুতোপো পারভো নাগরোহো জানান, উদ্ধার প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে, কিন্তু এখনো আমাদের অনেক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন, ৭০ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

এদিকে ভূমিকম্পের পর দ্বীপটিতে খাদ্য, পানীয় ও ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরো চিকিৎসক এবং মৌলিক ত্রাণসামগ্রীর জন্য আবেদন জানিয়েছে।

মাত্র এক সপ্তাহ আগেই ৬ দশমিক ৪ মাত্রার এক ভূমিকম্পে দ্বীপটিতে ১৭ জন নিহত হয়। এদিকে রোববার ভূমিকম্পের পর কয়েক হাজার পর্যটক আরো ভূমিকম্পের আশঙ্কায় লোম্বোক ত্যাগ করেছেন।

উল্লেখ্য, প্রশান্ত মহাসাগরের রিং অব ফায়ারের ওপর অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায় নিয়মিতই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরের সুনামিতে ইন্দোনেশিয়ায় ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়।

 

দেশরির্পোট/এএইচ


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন