অর্থনীতি

মেট্রোরেলের কাজ চলছে জোর গতিতে, এই প্রকল্পে অর্থ দিচ্ছে জাইকা

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দাতাদের বৈদেশিক সহায়তা ছাড়ে ইতিবাচক ধারা দিয়ে শুরু হয়েছে ২০১৮-১৯ অর্থবছর।অর্থ বছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও অগাসট মাসে দাতা দেশ ও সংস্থা মিলে ৫৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার ছাড় করেছে।

এই অঙ্ক আগের আগের অর্থবছরের তুলনায় ৬ কোটি ডলার বেশি বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ছাড় হয়েছিল ৪৯ কোটি ২১ লাখ ডলার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইআরডি‘র জ্যেষ্ঠ সচিব কাজী মো. শফিকুল আযম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অর্থবছরের শুরুতে বর্ষাকাল হওয়াতে কাজের গতি কিছুটা শ্লথ হয়। স্বাভাবিকভাবেই অর্থছাড়ও কিছুটা কম হয়। তারপরও এবার গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি ছাড় হয়েছে।

“এটা ইতিবাচক। গত অর্থবছর আমারা টার্গেটের চেয়েও কিছুটা বেশি ছাড় করেছি। এবারও আমরা টার্গেট অনুযায়ী ৭০০ কোটি ডলার ছাড় করতে পারব বলে আশাবাদী।”

ইআরডির এক কর্মকর্তা বলেন, “মেট্রারেলসহ বেশ কিছু মেগা প্রকল্পের পালে হাওয়া লেগেছে। তাই দাতাদের অর্থছাড়ও বেড়েছে। সামনের মাসগুলোতে এ ছাড় আরও বাড়তে পারে।”

তিনি জানান, জুলাই ও অগাস্ট মাসে ছাড় হওয়ার অর্থের মধ্যে ৫৫ কোটি ডলার ঋণ, ৩০ লাখ ডলার পাওয়া গেছে অনুদান হিসাবে।

গত অর্থ বছরের এই সময়ে ঋণ ছাড় হয়েছিল ৪৯ কোটি ডলার। অনুদান ছাড় হয়েছিল ২০ লাখ ডলার।ঢাকার মেট্রোরেলের কাজ চলছে জোর গতিতে; এই প্রকল্পে অর্থ দিচ্ছে জাইকা।

অভিইআরডির তথ্যে দেখা যায়, এবার সব চেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে জাপান সরকারের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা জাইকা। সংস্থাটি থেকে পাওয়া গেছে ১৫ কোটি ৫২ লাখ ডলার।

এছাড়া বিশ্ব ব্যাংক ১১ কোটি ৩১ লাখ ডলার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১০ কোটি ডলার, ভারত দুই কোটি ২৭ লাখ ডলার অর্থ ছাড় করেছে।

অর্থছাড় বাড়লেও গত অর্থবছরের তুলনায় কমেছে দাতাদের প্রতিশ্রুতি। অর্থ বছরের প্রথম দুই মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায় হয়েছে ৩৬ কোটি ডলার ১৩ লাখ ডলার। এর মধ্যে ঋণের প্রতিশ্রুতি ৩৬ কোটি ডলার আর অনুদানের প্রতিশ্রুতি ১৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

গত অর্থ বছরের একই সময়ে দাতাদের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল ৭২ কোটি ৫২ লাখ ডলার। ওই সময়ে ঋণ  হিসাবে পাওয়া যায় ৬৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার। অনুদানের প্রতিশ্রুতি ছিল ৬ কোটি ২৫ লাখ ডলার।

এ বিষয়ে ইআরডি সচিব বলেন, “আমরা শেষ পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি আদায়েও পিছিয়ে থাকব না। বছর শেষে প্রতিশ্রুতি আদায়েও টার্গেট পূরণ হবে বলে আশা করছি।”

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের সুদ আসল বাবদ ২০ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে। এরমধ্যে আসল হিসেবে ১৫ কোটি ডলার আর সুদ হিসেবে ৫ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে। গত অর্থ বছরে প্রথম দুই মাসে সুদ ও আসল পরিশোধ করা হয় ১৯ কোটি ৩১ লাখ ডলার।

 

 

দেশরির্পোট/রবিন


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন