জাতীয়প্রধান সংবাদ

সংসদে ‘সড়ক পরিবহন বিল-২০১৮’ উত্থাপন

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রেখে সংসদে ‘সড়ক পরিবহন বিল-২০১৮’ উত্থাপন করা হয়েছে।

একই সঙ্গে প্রাণহানির দায়ে অভিযুক্ত চালক ও কন্ডাক্টরের অপরাধ জামিনযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বিলটি উত্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এরপর এটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করতে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া সংসদে সভাপতিত্ব করছিলেন।

এর আগে গত ৬ আগস্ট এই বিলটির চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে আইনটির বিষয়ে বিস্তারিত ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

সংসদে উত্থাপিত বিলে শাস্তির বিষয়ে বলা হয়েছে, তবে শর্ত থাকে যে, ফৌজদারি কার্যবিধিতে যাহাই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি বেপরোয়া ও অবহেলাজনিত মোটরযান চালানোর কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত হইলে বা তাহার প্রাণহানি ঘটলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৫ বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

বিলে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে কাউকে আহত করলে ৩ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ট্রাফিক আইন অমান্য করলে পয়েন্ট কাটার ব্যবস্থাও থাকবে আইনে। নির্ধারিত পয়েন্টের নিচে গেলে লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। চালককে নতুন করে আবার লাইসেন্স নিতে হবে। বিলে ব্যক্তিগত গাড়ি চালনার জন্য চালকের বয়স আগের মতোই অন্তত ১৮ বছর রাখা হয়েছে। তবে পেশাদার চালকদের বয়স হতে হবে কমপক্ষে ২১ বছর।

আগের আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। নতুন আইনের সহকারী হতেও শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। সহকারীর পঞ্চম শ্রেণি পাসের সার্টিফিকেট থাকতে হবে।

আগের অধ্যাদেশে সহকারীদের লাইসেন্সের কথা থাকলেও তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত ছিল না। এছাড়া সহকারী হতে বাধ্যতামূলকভাবে লাইসেন্সের বিধানও থাকছে।

বিলে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে অনধিক ৬ মাসের জেল বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। সহকারীরও শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে বিলে। চালকের সহকারীর লাইসেন্স না থাকলে এক মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

বিলের বিধান অনুযায়ী গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না চালক। এই বিধান অমান্য করলে এক মাসের কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হবে। এছাড়া ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে— এমন অপরাধের ক্ষেত্রে চালককে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে পুলিশকে।

নতুন আইনের বিধি অমান্য করলে পয়েন্ট কাটার বিধান রাখা হয়েছে বিলে। বিলের বিধান অনুযায়ী লাইসেন্সে থাকবে মোট ১২ পয়েন্ট। বিভিন্ন বিধি অমান্যে কাটা যাবে এই পয়েন্ট।

পয়েন্ট শূন্য হলে বাতিল হবে চালকের লাইসেন্স। এরপর চালকে নতুন করে লাইসেন্স নিতে হবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ এক বছর ঝুলে থাকার পর আলোচিত এই নতুন সড়ক পরিবহন আইনটি গত ৬ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত হয়।

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে সরকার ওই আইনের খাসড়া মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করে। সংসদের চলতি অধিবেশনেই বিলটি পাসের কথা রয়েছে।

 

 

দেশরির্পোট/আরএস


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

Tags

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন