সারাদেশ

ধর্ষণের প্রমাণ লুকাতে ভাই-বোন মিলে হত্যা করল শিশুকে

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসস্থ উন্মেষ সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী যোগিপোলের জব্বারের বাড়ির ভাড়াটিয়া ট্রাক ড্রাইভার হালিম হাওলাদারের কন্যা সাদিয়া আক্তার শিমু (৮) পুকুরে ডুবে মারা যায়নি। প্রথমে সেটাই প্রচার করা হয়। প্রকৃতপক্ষে ধর্ষণের পর শিমুর শারিরীক অবস্থা খারাপ হওয়ায় এবং ঘটনা জানাজানির ভয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর ঘটনা ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে সাজানো হয় পানিতে ডুবে মৃত্যুর নাটক। ঘটনার সাথে জড়িত সাদ্দামের শ্যালক হাবিবুর রহমানকে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থেকে এবং তার বোন সাদ্দামের স্ত্রী শারমিনকে (২৮) খুলনার মহেশ্বরপাশা থেকে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে এসব তথ্য দেয় বলে জানা গেছে।

রোববার তাদের ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড শেষে কারাগারে প্রেরণ করেন।

এ ব্যাপারে শিমুর নানা তোতা মিয়া বাদী হয়ে গত শনিবার দৌলতপুর থানায় হাবিবুর রহমান (২০) এবং মহেশ্বরপাশা সাহেবপাড়ার সাদ্দামের স্ত্রী শারমিনকে (২৮) আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সন্ধ্যায় সাদিয়া আত্তার শিমু এবং শিমুর মামা মাহফুজকে (৬) নিহতের মামার বন্ধু সাদ্দাম ও তার স্ত্রী শারমিন মহেশ্বরপাশা সাহেবপাড়াস্থ তাদের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যায়। রাত ১০টায় শিমুর মা আখি তাকে বাড়ি নিয়ে আসতে গেলে তারা শিমুকে না দিয়ে পরের দিন দুপুরের পর দিয়ে আসবো বলে খানিকটা জোর করে রেখে দেন।

পরের দিন ২ অক্টোবর সকালে সাদ্দাম এবং তার স্ত্রী শারমিন কাজে বাইরে চলে গেলে সাদ্দামের শালা হাবিবুর রহমান কৌশলে সাদ্দামের মেয়ে অথৈ ও মাহফুজকে বাড়ির বাইরে পাঠিয়ে শিমুকে ধর্ষণ করেন। পরে শিমুর শারিরীক অবস্থা খারাপ দেখে এবং একথা বাড়িতে বলে দেয়ার হুমকি দেয়ায় শিমুকে হাবিবুর এবং তার বোন শারমিন মিলে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।

তারপর তারা পানিতে ডুবে শিমুর মৃত্যু হয়েছে বলে তাড়াহুড়ো করে গোসল দিয়ে দাফনের ব্যবস্থা করে। সাঁতার জানা শিমুর পানিতে ডুবে মৃত্যুর বিষয়টি মানতে না পেরে এবং মৃত্যুর বেশ কিছু আলামত শুনে শিমুর নানা তোতা শেখ খানজাহান আলী থানা পুলিশ এবং দৌলতপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় শিমুর লাশ ময়না তদন্তের জন্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ময়না তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে থাকে।

যশোরের চৌগাছায় পুকুরের পানিতে ডুবে আনাস রহমান (৪) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের স্কুল পাড়ায়। আনাস একই গ্রামের আবুল কারম কলমের ছেলে।

নিহতের বাবা জানান, মঙ্গলবার বাড়ীর উঠানে একটি বল নিয়ে খেলা করছিল আমার ছেলে। দুপুর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সন্ধ্যার একটু আগে বাড়ির পাশের একটি পুকুরের পানিতে আনাসের মরাদেহ ভেসে উঠলে প্রতিবেশীদের চোখে পড়ে। তারাই খবর পেয়ে শিশুটির পরিবারের লোকদের খবর দেন। এ সময় গ্রামবাসীর সহযোগিতায় শিশুটির মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নামাজে জানাযা শেষে রাতে শিশুটিকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এ মর্মান্তিক এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারে ও এলাকায় শোকের মাতম বইছে।সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোতা মিয়া এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করেছেন।

 

 

দেশরির্পোট/রবিন


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন