সারাদেশ

ফেনী পরশুরামে ড্রাগন চাষে সফলতা

পরশুরাম (ফেনী)প্রতিনিধি : ‘শখ ছিল ব্যতিক্রম কিছু করার যা দেখে মানুষ অনুপ্রাণিত হবে।’ এভাবেই নিজের স্বপ্নের কথাগুলো বলছিলেন পরশুরামের বাউরখুমা গ্রামের ব্যবসায়ী মীর আহম্মদ চৌধুরী। বাস্তবিকই বাহারি সুস্বাদু ড্রাগন ফল চাষের মাধ্যমে মানুষের নজর কেড়েছেন তিনি। চাষ উপযোগী মাটি ও লাভজনক হওয়ায় পরশুরাম পৌরসভার খোন্দকিয়া, গুথুমা গ্রামসহ বেশ কিছু পরিবার ড্রাগন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। অপরূপ সুন্দর লতানো গাছে এখন কাঁচা-পাকা ড্রাগন ফলের সমারোহ।

রসে ভরা টসটসে ড্রাগন ফল দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি খেতেও অনেক মজাদার। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ফেনী হর্টিকালচার সেন্টারের সহায়তায় ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাউরখুমা গ্রামে ২৪ শতক জায়গায় ৬০ টাকা দরে ৩২০টি ড্রাগন গাছের চারা রোপণ করেন মীর আহম্মদ চৌধুরী। ড্রাগন ফলের চাষ কিছুটা বৈচিত্র্যময়। নির্দিষ্ট দূরত্বে একটি করে পাকা সিমেন্টের খুঁটি গেড়ে তার উপর মোটরসাইকেলের পরিত্যক্ত টায়ার ব্যবহার করা হয়। খুঁটির চারপাশে ৪টি করে ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করা হয়। ড্রাগন গাছের লতা বড় হলে খুঁটি বেয়ে টায়ারের ভেতর থেকে বাইরে ঝুলে পড়ে। সঠিক পরিচর্যা হলে চারা লাগানোর ২ বছর পরই গাছে ফল আসতে শুরু করে। একটি ড্রাগন গাছ অন্তত ২০ বছর ফল দিয়ে থাকে। মীর আহম্মদ চৌধুরীর ড্রাগন ফলের বাগানে শতাধিক গাছে ফল এসেছে। এর আগে প্রায় ২ শতাধিক ফল নিজে খেয়েছেন ও আত্মীয়-স্বজনদের দিয়েছেন। বন্যায় আক্রান্ত হলে ড্রাগন গাছ নষ্ট হয়ে যায়।

মীর আহম্মদ জানান, ড্রাগন গাছে তিনি জৈবসার ব্যবহার করছেন। ফুল আসার ৪৫-৫০ দিন পর ড্রাগন ফল তোলা যায়। এ বাগানের পেছনে গত ২ বছরে প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে তার। ড্রাগন চাষে উদ্বুদ্ধ করতে তিনি চারা ৩০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা গেলে ড্রাগন ফল উৎপাদনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয়রাও এ ফল উৎপাদন করে সমৃদ্ধশালী হতে পারে।

 

 

দেশরির্পোট/রবিন


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন