রাজনীতি

বিএনপির উত্থাপিত সাত দফা প্রত্যাখ্যান করেছে আ’লীগ

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় উত্থাপিত সাত দফা প্রত্যাখ্যান করেছে আওয়ামী লীগ। দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানের কোনো পরিবর্তন ও সংযোজনের সুযোগ নেই।

বিএনপির জনসভার সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, এই সমাবেশের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, নেতিবাচক রাজনীতির ফলে বিএনপির জনসমর্থন কমেছে। আজ তাদের সক্ষমতা দেখলাম। এ সমাবেশের উপস্থিতি গত কয়েক দিনে আওয়ামী লীগের পথসভায় উপস্থিতির পরিমাণের ধারেকাছেও যায়নি।

রোববার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। এদিন বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় বিএনপির সাত দফা উত্থাপনের পরপরই এ নিয়ে কথা বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি জানান, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সোমবার থেকে গণসংযোগে নামবে আওয়ামী লীগ। ৭ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে টানা গণসংযোগ করবে দলটি।

বিএনপির জনসভা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এলোমেলো দল বিএনপি হাঁকডাক দিয়ে মহাসমাবেশ করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আষাঢ়ের তর্জন-গর্জনই সার। কপবাজার যাওয়ার সময় রাস্তায় রাস্তায় আওয়ামী লীগের হয়ে যে আটটি পথসভা ও সমাবেশ করেছি, এর একটির ধারেকাছের উপস্থিতিও বিএনপির মহাসমাবেশে হয়নি। তাদের এই সমাবেশের উপস্থিতি হতাশাজনক। দেখে মনে হয়েছে, জনগণ বিএনপির সঙ্গে নেই। এ দলটি ক্রমে সংকুচিত হচ্ছে।

সমাবেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারি বেঁধেছিল দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই যে হাতাহাতি, মারামারি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া- এটাই তাদের জাতীয় ঐক্যের সূচনা। এখানেই স্পষ্ট, কেমন তাদের ঐক্য।

আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হলে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করবে। তবে আন্দোলনের নামে ২০১৪ সালের মতো নাশকতা, বোমা হামলা এবং সেই ভয়াবহ দৃশ্যপটের অবতারণা হলে, প্রশাসন যা যা করা দরকার সব করবে। আওয়ামী লীগও ঘরে বসে ডুগডুগি বাজাবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ ও প্রতিহত করা হবে।

বিএনপির জনসভার মঞ্চে কারাবন্দি দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য খালি চেয়ার রাখার বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, খালেদা জিয়াকে সম্মান করে খালি চেয়ার বসিয়ে মঞ্চে সেলফি তুলছেন নেতারা। কী দেখলেন? মঞ্চে সেলফি, এই হলো বিএনপি।

সোমবার থেকে গণসংযোগ: ওবায়দুল কাদের জানান, সোমবার থেকে আওয়ামী লীগের গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু হবে। তৃণমূল পর্যায়ে মফস্বল, গ্রাম ও ওয়ার্ড পর্যায়ে এই কর্মসূচি পালন করার জন্য দলের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকায় কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরা চারটি দলে ভাগ হয়ে গণসংযোগে নেতৃত্ব দেবেন। চারটি দলের নেতৃত্ব দেবেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান।

তিনি বলেন, প্রথম দিন সোমবার দলের চারজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে চারটি টিমে বিভক্ত হয়ে ঢাকার চারটি থানায় গণসংযোগ করবেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। এর মধ্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের নেতৃত্বে বিকেল ৪টায় ওয়ারী থানার তিনটি ওয়ার্ড, ডা. দীপু মনির নেতৃত্বে সকাল ১১টায় উত্তরা থানার তিনটি ওয়ার্ড, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে বিকেল ৪টায় মোহাম্মদপুর থানা এবং আবদুর রহমানের নেতৃত্বে বিকেল ৪টায় পল্টন থানার তিনটি ওয়ার্ডে গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হবে।

ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে সম্পাদমণ্ডলীর সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে ডা. দীপু মনি, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ড. হাছান মাহমুদ, ফরিদুন নাহার লাইলী, অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, প্রকৌশলী আবদুস সবুর, দেলোয়ার হোসেন, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

দেশরির্পোট/অাজমল

 


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন