রাজনীতি

বিএনপি না এলে নির্বাচন কি থেমে থাকবে: ওবায়দুল কাদের

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীতে তৃতীয় দিনের মতো নৌকার পক্ষে গণসংযোগ করেছে আওয়ামী লীগ। বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পৃথক পৃথক স্থানে এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা উন্নয়নের প্রচারপত্র ও লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি আগামীতে আবারো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি না আসলেও ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের মতো এবারও উত্সবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জনগণ এখন নির্বাচনী মুখী।
সরকার আবারও ভোটার বিহীন নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর এমন বক্তব্যে প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদেরে বলেন, ‘এই দেশে আর মাগুরা মার্কা নির্বাচন আর হবে না, এই দেশে আর ১৫ই ফেব্রুয়ারি মার্কা ভোটার বিহীন নির্বাচন হবে না। এইবারের নির্বাচন হবে ২০০৮ সালের মত উত্সব মুখর পরিবেশে। বিএনপি না এলে নির্বাচন কি থেমে থাকবে? বিএনপি না এলেও এবার এদেশে উত্সব মূখর পরিবেশে ভোট হবে।’ হেরে যাওয়ার ভয় থাকলে বিএনপি নির্বাচনে আসবে না বলে দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচনের জন্য সবাই প্রস্তুত। বিএনপিও প্রস্তুত। কিন্তু এবার ঝুঁকি নিতে চায় না তারা। এবার সারা দেশে নৌকার জোয়ার, সেই জোয়ার থামানোর জন্য নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবে। সেখানেও যদি ব্যর্থ হয়, নির্বাচনে আসবে না। হেরে যাওয়ার ভয় থাকলে বিএনপি নির্বাচনে আসবে না। হেরে যাওয়ার ভয় থেকে প্রতিদিন বিএনপি নেতারা আবল-তাবল বকছে।’
নির্বাচনের জন্য বামদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ঐক্য চাননি বলে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য আমরাও চাই। কেমন  জাতীয় ঐক্য, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য। জাতীয় ঐক্য আমরাও চাই, স্বাধীনতার শত্রুদের বিরুদ্ধে, জাতীয় ঐক্য আমরাও চাই নষ্ট রাজনীতির বিরুদ্ধে।’ তিনি বলেন, ‘বামপন্থিরা মঙ্গলবার আমার একটি বক্তব্যের ভুল বুঝেছে। আমি তাদের শ্রদ্ধা করি। আমি  তাদেরকে আমাদের সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্যের জন্য আহ্বান জানাইনি, আমি বলেছি এই মুহূর্তে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুকে নেতা মানেন, তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত, এই কথা আমি বলেছি।’
ড. কামাল হোসেন-বি চৌধুরীর ঐক্যের দিকে ইঙ্গিত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মাঝে মাঝে যে সব ঐক্যের কথা বলছে, তা শুরুতেই ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ঐক্যের মধ্যে ভাঙ্গনের সুর শুরু হয়ে গেছে।’
এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বানচাল করার জন্য একটি মহল উঠে পড়ে লেগেছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ঘেরে ঘরে পাড়া মহল্লায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে যাতে করে কোন ধরনের নাশকতা করতে না পারে। নির্বাচন বানচালের জন্য যে কোন নাশকতা করার চেষ্টা করলে দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিতে হবে।’ স্থানীয় সাংসদ ফজলে নূর তাপসের সভাপতিত্বে গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী রীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, তথ্য  ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন।
দেশরির্পোট/রবিন


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন