লাইফষ্টাইলস্বাস্থ্য

“সুপ্তময় হোক শিশুর বেড়ে উঠা”

দেশ রির্পোট : প্রতিটি শিশুর অন্তরে সুপ্ত এক অলিখিত সাদা কাগজ বিরাজমান। আর, তাই তো শিশুরা অত্যন্ত অনুকরণপ্রিয়। শিশুরা বেড়ে উঠার সাথে সাথে আশে-পাশের যা কিছু দেখে তাই সে অনুকরণ করে থাকে। সেটা ভালো হোক অথবা খারাপ—- অনুকরণ করাই বাড়ন্ত শিশুর ধর্ম। আর, তাই শিশুর বয়স দুই বছর থেকেই শিশুকে সঠিকভাবে গঠন করার উপযুক্ত সময়। তা না হলে, শিশুরা অনাদরে অবহেলায় বেড়ে উঠবে এবং ভালো কিছু শিখতে পারবে না, বরং উগ্র মেজাজের অধিকারী হয়ে সর্বদা মন্দ কাজে নিজেকে নিয়োজিত করবে। একটি শিশুকে সুস্থ, সুন্দর ও সঠিকভাবে গড়ে তোলার জন্য একজন মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। কেননা, জন্মের পর থেকেই শিশু বেশি সময় ধরে মায়ের সংস্পর্শেই বেশি থাকে। আর, তাই স্পষ্টতর এটাই লক্ষ্যণীয় যে, মায়ের ব্যবহার শোভনীয় হলে, শিশুর ব্যবহারও সুন্দর এবং মনোমুগ্ধকর হয়। অন্যদিকে মায়ের ব্যবহার কটুক্তিস্বরূপ হলে, শিশুর আচরণও মন্দ হতে বাধ্য হয়। আর, তাই শিশুকে ভাষা-ব্যবহার এবং সুশীল আচরণ শেখাতে সবার আগে মাকেই বেশি যত্নবান হতে হবে।

শিশুকে সুন্দর, সাবলীল শব্দ বা ভাষার ব্যবহার ও প্রয়োগ শেখাতে হলে প্রথমেই শুদ্ধ ভাষায় কথা বলার জন্য উৎসাহী করা প্রয়োজন। এরপর সম্পর্কভেদে কাকে তি সম্বোধন করতে হবে সেটা শেখানোও কিন্তু খুবই জরুরি। এমনকি, শিশুর সামনে কাজের মেয়েকেও অশালীন ভাষায় বা কটুক্তি করা উচিত নয়। কেননা, শিশুরা তখন আপনার কাছ থেকে নিচু জাত বা কাজের মানুষদের সাথে আক্রমণাত্নক আচরণ শিখবে এবং পরবর্তীতে শিশু সেটা অনুকরণ করে প্রয়োগ করবে। এরপর হাটা-চলা, খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে সচেষ্ট করা দরকার। অন্যায় আচরন বা বকা অথবা খারাপ কথা প্রথমেই শিশুরা পরিবার থেকেই শিখে। অনেক সময় দেখা যায়, বাবা-মার বিবাদের সময় শিশুরা যদি সেখানে থাকে, তখন শিশুরা সেটা খুব সহজেই রপ্ত করে থাকে। তাই, শিশুদের সামনে নিজেদের মধ্যে কথা বলা, অন্যায়-আচরণ করার ব্যাপারে যথেষ্ট সাবধান থাকা অনেক জরুরি। বাচ্চাদের সামনে স্বামী – স্ত্রী কখনই ঝগড়া করবেন না কিংবা পাশের বাড়ির মানুষের সাথেও না। এতে শিশুর মধ্যে যথেষ্ট ভীতি কাজ করে এবং পরবর্তীতে শিশুরা এসব আচরণ অন্যের উপর প্রয়োগ করে যা শুনতে মন্দ দেখায়।

শিশুর বেড়ে উঠার জন্য চাই, ভালো পরিবেশ। সুন্দর, সুনির্মল, সুশৃঙ্খল এবং পরিবেশবান্ধব জায়গায় শিশুর বসবাসের স্থান হওয়া প্রয়োজন। আপনার আশে পাশের পরিবেশ যেনো ভালো হয় এবং সেই ভালো পরিবেশ থেকে সে যেনো ভালো কিছু রপ্ত করে মানসিকভাবে বিকাশ ঘটাতে পারে সে দিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নজর রাখতে হবে। শিশুর বেড়ে উঠার পরিবেশ থেকে যেনো সে আনন্দ পায় সে দিকেও নজর দেয়া প্রয়োজন। অনেকে হয়ত অভিজাত এলাকায় থাকার সামর্থ্য নেই, তাই অনেক সময় ভালো পরিবেশে বসবাস করা হয়ে উঠে না। এ ব্যাপারে একটাই পরামর্শ আপনি যেখানেই থাকুন না কেনো শিশুকে খারাপ পরিবেশ দিবেন না, শিশুর সাথে খারাপ আচরণ করবেন না, শিশুর অলিখিত সহজাত মনে যেনো কোনো খারাপ বা মন্দ আচরণ বা ব্যবহারের স্পর্শ দাগ না কাটে সে দিকে আপনার যেমন নজর রাখতে হবে, সেই সাথে আশে-পাশের সবাইকে সে ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।

সর্বদা মন রাখা প্রয়োজন, আজকে শিশু আগামীর সূর্যোদয়। আর তাই এই সূর্যোদয়ের গড়ন-চলন যেনো সুপ্ত পরিবেশের মধ্যে পরিস্ফুটিত হয় সে ব্যাপারে দায়িত্ব পালন করতে হবে আমাদের সকলকেই ব্যক্তিগতভাবে এবং সামাজিকভাবে।


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন