শিক্ষা-ক্যাম্পাস

মুক্তচিন্তা ও সংস্কৃতির অভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটছে

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘মুক্তচিন্তা ও সংস্কৃতি চর্চার অভাবে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটছে। আজকাল বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অসহিষ্ণুতা, উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের মতো নেতিবাচক কর্মকাণ্ড জাতি গভীর উদ্বেগের সাথে প্রত্যক্ষ করছে। আমি মনে করি, এর উদ্ভব ও বিকাশ হয়েছে, মুক্তচিন্তা ও সংস্কৃতি চর্চার অভাবে।’

আজ শনিবার বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দশম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় মূলত মুক্তচিন্তা বিকাশের জায়গা। জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার মধ্যদিয়ে এখানে নতুন নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তির জন্ম হয়। এসব জ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্রমে সমগ্র বিশ্বের সম্পদে পরিণত হয়ে যায়। এর ফলে পৃথিবী সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ মহান ব্রতের বিষয়টি আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। ক্যারিকুলামভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি মুক্তচিন্তা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা, জাতিগঠনমুলক কর্মকাণ্ড, সমকালীন ভাবনা, সাংস্কৃতিক চর্চা, খেলাধুলা ইত্যাদি সৃজনশীল কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের কেবল দক্ষ ও পরিপূর্ণ করে না; কূপমণ্ডুকতার বেড়াজাল থেকে মুক্ত করে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনাকেও পরিপুষ্ট করে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জাতির অমিত শক্তি যুব সমাজ। যুব সমাজের শক্তি ও সম্ভবনাকে দেশ গঠনের কাজে লাগাতে আমাদের যুব সমাজকে অবশ্যই অপসংস্কৃতির প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীন চিন্তার অধিকারী হতে হবে। তাহলে আমরা লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারব। এ জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, অভিভাবক, ছাত্রসংগঠনসহ সকলকে সম্মিলিতভাবে অবদান রাখতে হবে।’

গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘তোমরা সবসময় নৈতিক মূল্যবোধ, বিবেক ও দেশপ্রেম জাগ্রত রাখবে। কখনো অন্যায় ও অসত্যের কাছে মাথা নত করবে না। মনে রাখতে হবে নিজেদের আত্মপরিচয়ের কথা, মাতৃতুল্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা, অনেক রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতার কথা, আমাদের প্রিয় দেশটির কথা ও ভুলবে না তোমাদের শেকড়ের কথা। কারণ শেকড় ভুলে কেউ বড় হতে পারে না।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবের। শহীদ ড. শামসুজ্জোহাসহ আরও অনেক শিক্ষকের রক্তের সাক্ষী এই বিশ্ববিদ্যালয়। উচ্চ ডিগ্রি অর্জন শেষে আপনারা এখন নতুন এক জায়গায় এসে পৌঁছেছেন। সামনে আপনাদের উজ্জল ভবিষ্যত। আপনাদের এই পর্যায়ে আসার জন্য এ দেশের জনগণের অনেক ভূমিকা রয়েছে। তাই আপনাদেরও তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে।’ এ সময় গ্র্যাজুয়েটদের জনগণের কল্যাণে, দেশের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা অধ্যাপক ইমেরিটাস আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সার্বিক পরিবেশ সম্পূর্ণ সুস্থ এবং আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় হচ্ছে না-এমন দাবি করি না। শিক্ষকদের পাঠদানে অবহেলা, যথাসময়ে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে না পারা কিংবা পক্ষপাতমূলক ও অবাঞ্ছিত আচরণের অভিযোগ শোনা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একটি প্রতিবেদন ক্যাম্পাসের শিক্ষক ও ছাত্রদের দলীয় রাজনীতির অকল্যাণকর প্রভাব, সেশনজট সংস্কৃতির কারণে শিক্ষা জগতে নৈরাজ্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাজে ও চিন্তায় স্বচ্ছতায় ও জবাবদিহিতার অভাব উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য অর্জনের বাধা বলে চিহ্নিত। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শুধু উচ্চশিক্ষার মানের অবনতি হয়নি, পরীক্ষা পদ্ধতিও বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। অবস্থা এমন যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এক অন্যের মূল্যায়নের ওপর আস্থা রাখতে চায় না।’

অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো জাকারিয়া, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এ বারী প্রমুখ।

সমাবর্তনে ৬ হাজার ১৪ জনকে ডিগ্রি প্রদান করা হয় এবং কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক ও সেলিনা হোসেনকে ডক্টরেট ডিগ্রি অব লিটারেচার (ডি লিট) প্রদান করা হয়। সমাবর্তন মঞ্চে প্রবেশের আগে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দুটি দশ তলা বিশিষ্ট আবাসিক হলের ভিত্তিপ্রস্তরের উদ্বোধন করেন।

 

 

দেশরির্পোট/আজমল


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন