শিক্ষা-ক্যাম্পাস

জাবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ

ছাত্রীকে উত্যক্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মীর মোশাররফ হোসেন হল ও আল বেরুনী হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা রামদা, রড, লোহার পাইপ, খুর ও লাঠি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে দুপক্ষের অন্তত ৩০ জন  ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌরঙ্গী মোড়ে মীর মশাররফ হোসেন হলের ছাত্রলীগ কর্মী আবু সাঈদ (ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান, ৪৫ ব্যাচ) ও রফিক জব্বার হলের আরো দুজন মিলে এক ছাত্রীকে উত্যক্ত করে। পরে ওই ছাত্রী তার বন্ধুদের বিষয়টি জানালে ওই হলের কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী ঘটনাস্থলে এসে উত্যক্তকারীদের কাছে কারণ জানতে চান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে উভয় পক্ষ হলে ফিরে যায়।
এরপর রাত ১২টার দিকে মীর মশাররফ হোসেন হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ৬০-৭০জন আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, ক্রিচ, খুর, রড, পাইপ, লাঠি ইত্যাদি নিয়ে আল-বেরুনী হলের ছাত্রলীগ কর্মী ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এই সময় আল-বেরুনী হলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এ ঘটনায় উভয় হলের অন্তত ৩০ জন সাধারণ শিক্ষার্থীসহ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আহত হয়।
আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এছাড়া গুরুতর আহত ১০-১২ জনকে সাভারের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
এদিকে এ সংঘর্ষের ঘটনার প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে বুধবার সকাল ৭টার দিকে আল বেরুনী হল সংলগ্ন জীববিজ্ঞান অনুষদ ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবরোধ করে রাখেন আল-বেরুনি হলের শিক্ষার্থীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আই’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আধঘণ্টা বিলম্বে শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের আশ্বাসে তারা তালা খুলে দিলে পরীক্ষা শুরু হয়।
সংঘর্ষের বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও আল-বেরুনী হলের আবাসিক ছাত্র আবু সাদাত সায়েম বলেন, ‘মীর মশাররফ হোসেন হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিয়ে এসে আমাদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। তারা হলের পাশে অবস্থান নিয়ে কাচের বতল ছুড়ে মারে। তাদের প্রত্যেকের হাতে খুর ছিল। তাদের ছোড়া বতল, খুরের আঘাতে আমাদের ১৫-২০ জন আহত হয়েছে। তাছাড়া প্রায় ৫০ জনের মত হালকা আঘাত পেয়েছে। ঘটনার সময় তারা দুই রাউন্ড গুলি ছুড়েছে।’
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, ‘এ ধরণের ঘটনা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। এসব ঘটনা ইমেজ নষ্ট করে। আমরা দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, ‘এ ধরণের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে এমন ঘটনা আশা করি না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।’
দেশরির্পোট/রবিন


ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। DeshReport.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো সংবাদ...

মন্তব্য করুন